চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের আর্থিক অনিয়ম, ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের রুল

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-০৭ ১৯:৫৯:০৪ || আপডেট: ২০১৮-০৮-০৮ ১১:০৩:৫৪

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজকল্যান অধিদফতরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রামের উপ পরিচালক, জেলা সমাজকল্যান কর্মকর্তাসহ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছে হাইকোট। \

বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মোঃ সোহরাওয়ার্দী’র সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল জারি করে। দ্য ভোলেয়ান্টারী সোস্যাল ওয়েলফেয়ার এজেন্সীর(রেজিষ্ট্রেশন এন্ড কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স ১৯৬১) বিধান অনুযায়ী চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব একটি নিবন্ধিত সংস্থা হওয়া সত্বেও নিয়মিত ভাবে একাউন্টের হিসাব, বাৎসরিক অডিট রিপোর্ট ও আর্থিক সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দানের বিধান থাকলে সেসব কাগজপত্র জমা করেনি।

এমনকি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক কোটি ২৩ লাখ ৯১ হাজার ৮৩১ টাকা অনিয়মের কথা উঠে আসে। এর প্রেক্ষিতে দ্বি বার্ষিক সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটি আরো ৩৬ লাখ ৭০ হাজার ৭৫২ টাকার অনিয়ম পায়। এর আগে দ্য ভোলেয়ান্টারী সোস্যাল ওয়েলফেয়ার এজেন্সীর(রেজিষ্ট্রেশন এন্ড কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স ১৯৬১) লংঘনের অভিযোগ এনে ক্লাবের ৩৯জন স্থায়ী সদস্য ২০১৭ সালের ১৩জুন ৩৯জন স্থায়ী সদস্য চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবকে একটি চিঠি দেন। এতে ক্লাবের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত ৫৫লাখ টাকার এফডিআর বেআইনি ভাবে ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ আনা হয়।

এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৫ এপ্রিল ২০১৮ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য এম.নাসিরুল হক, মো: হাসান ফেরদৌস এবং হোছাইন তৌফিক ইফতেখার জেলা সমাজসেবা অধিদফতরকে চিঠি দেয়।

সমাজসেবা অধিদফতর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে নিস্ক্রীয় থাকায় জেলা ও শহর শাখা সমাজসেবা অধিদফতরের নিস্ক্রক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্য মো: হাসান ফেরদৌস বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মোঃ সোহরাওয়ার্দী’র সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে রিট পিটিশন দাখিল করেন।

এ প্রেক্ষিতে সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সমাজসেবা অধিদফতরের নিষ্ক্রীয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষনা করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করেন। রিট আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজসেবা অধিদফতরের ডিজি, সমাজসেবা অধিদফতরের চট্টগ্রামের উপ পরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যলয়-১’র কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের পক্ষে সভাপতিকে। আদালতে আদালতে রীট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের সিনিয়র আইনজীবিচ এডভোকেট নুরুল করিম ও ব্যারিস্টার তীর্থ সলিল পাল।

একই সাথে আদালত চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অর্থিক অনিয়মের বিষয়ে দাখিলকৃত অভিযোগপত্র নিষ্পত্তি করতে আর্ন্তবর্তীকালীন নির্দেশনাও প্রদান করেন।