চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

রামগড়ে ধর্ষিতা ও গর্ভের সন্তানের ক্ষতিপূরণ মাসিক ১৫শ টাকা!

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-০৭ ১১:৩৬:৩৭ || আপডেট: ২০১৮-০৮-০৭ ১১:৩৬:৩৭

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্ষন শব্দটি এখন নিত্যনৈমত্বিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। শুধুমাত্র খাগড়াছড়ি জেলাতে চলতি বছরে ৭ শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক একটি বেসরকারী সংস্থার প্রতিবেদন বলছে গত দুই বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে দুই শতাধীক শিশু ও নারী যৌন লালসার শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি খাগড়াছড়ির দীঘিনালার নয় মাইলে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ পরবর্তী মির্মম ভাবে হত্যার বিচারের দাবীতে চলমান আন্দোলনের মাঝে আবারো উঠে আসে সেই দীঘিনালা উপজেলার মেরুং এ স্বজাতীয় কতৃক চাকমা তরুনী ধর্ষনের আরেকটি ঘটনা। এসব ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে জেলার রামগড় পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডস্থ আতারাম টিলার এক কিশোরী ত্রিপুরা মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ পরবর্তী গর্ভধারণের খবর। এসব যৌন নির্যাতনের বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবী এখন পাহাড়ে বসবাসকারী সব সম্প্রদায়ের সব মানুষের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আনুমানিক গত ছয় মাস পূর্বে রামগড় পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডস্থ আতারাম টিলার ধুমকারই ত্রিপুরা ও কুসুমবালা ত্রিপুরার মেয়ে ঝর্না রানি ত্রিপুরা (১৭) বাড়ির পাশের ধানক্ষেত্রে কাজ করতে গেলে দুপুর বেলা তাকে একা পেয়ে জোর পূর্বক ঝোপের আড়াঁলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষন করে একই এলাকার মৃত গগন ত্রিপুরার ছেলে এক সন্তানের জনক রহিন্দ্র ত্রিপুরা (২২)। বর্তমানে ধর্ষিতা মেয়েটি ৬ মাসের অন্তঃস্বত্তা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পূর্বে স্থানীয় কার্বারী সতীশ চন্দ্র ত্রিপুরা ছেলে ও মেয়ে উভয়ের অভিভাবককে ডেকে গ্রাম্য শালিশ করে ধর্ষক বিবাহিত হওয়ায় প্রথাগত আইনে তাকে ধর্ষিতা ও তার গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ট হওয়া পর্যন্ত ধর্ষিতাকে প্রতি মাসিক ১৫শত টাকা হারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন ঐ কার্বারী। বিষয়টি বাহিরে জানাজানি হলে মেয়ে পক্ষকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে এবং সন্ত্রাসী দিয়ে হেনেস্তা করার হুশিয়ার করে দেন কার্বারী সতীশ ত্রিপুরা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ষনের শিকার ঝর্নার বাবা ধুমকারই ত্রিপুরা মুঠোফোনে এই প্রতিবেদকের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কার্বারী বিচার করে মাসিক ১৫শত টাকা নির্ধারন করেছেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুশিয়ারি দিয়েছেন এজন্য আমরা প্রশাসনের দারস্ত হইনি। তাঁর মেয়ের গর্ভের সন্তান ভুমিষ্ট হলে কি করবো বা তার পরিচয় কি হবে তা নিয়ে তারা (কার্বারী) কোন সিদ্ধান্ত দেননি।

অভিযোগটি অস্বীকার করে বিচারক কার্বারী সতীশ চন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, আমরা মানবিক দিক এবং মেয়ের সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে ঘটনাটি কাউকে জানাতে নিষেধ করেছি। ছেলেটি বিবাহিত হওয়ায় আমাদের উপজাতীয় আইন মোতাবেক বাচ্চা ভূমিষ্ট হওয়া পর্যন্ত ধর্ষিতাকে প্রতিমাসে ১৫শত টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছি তাছাড়া ঐ সময় উভয় পক্ষ আমাদের বিচারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: শামীম হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন তবে কোন পক্ষ অভিযোগ করেননি। তিনি বলেন তাদের ধর্মীয় আইনমতে বিচার করেছেন বলে শুনেছেন তবে গনতান্ত্রিক দেশে প্রথাগত আইন বা বিচারের কোন ভিত্তি নেই। অপরাধ দমনে অবশ্যই প্রশাসনের সহায়তা নেয়া উচিত।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোঃ আব্দুল হান্নান জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি শুনেছেন তবে কেউ কোন অভিযোগ করেনি অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।