চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

শ্রমিকলীগ নেতা খোকা হত্যা মামলার সুষ্ঠ তদন্তের দাবীতে সাংবাদিক সম্মেলন

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-০৬ ১৮:১৮:৫৮ || আপডেট: ২০১৮-০৮-০৬ ১৮:২১:০৬

চলতি বছর ৪ এপ্রিল বিকালে চন্দনাইশ উপজেলা শ্রমিকলীগ নেতা আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম খোকাকে দুস্কৃতিকারীরা ধোপাছড়ি তাঁর মৎস্য প্রজেক্টে গুলি করে, ছুরিকাঘাত, হেমার, লাঠি, লোহর রড় দিয়ে মারধর করে হত্যা করে। সে হত্যা মামলার সুষ্ঠ তদন্ত, পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তার এবং চেয়ারম্যান মোরশেদুল আলমের জামিন বাতিলের দাবী জানিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খোকার ছোট ভাই রাশেদুল ইসলাম।

খোকাকে চেয়ারম্যান মোরশেদ, জামাল ও তার ভাইয়েরা গুলি করে হত্যা করে। সে ইউনিয়ন এলডিপি’র সভাপতি থেকে রাতারাতি আ’লীগ হয়ে বিগত ইউ.পি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে নির্বাচিত হন। নির্বাচনে আমার ভাই খোকা প্রতিদ্বন্ধিতা করায় তার সাথে বিরোধ শুরু হয়। সে বিরোধের জের ধরে ইউ.পি নির্বাচনের দিন খোকা ও আমার চাচাত ভাই ফোরকানকে আটক করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠাই। একইদিন আমাদের ঘর-বাড়ী ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে চেয়ারম্যান মোরশেদের লোকজন।

২০১৬ সালে আমার চাচাত ভাই ফোরকানকে লোহার রড, কিরিচ, হেমার দিয়ে আঘাত করে মূমুর্ষ অবস্থায় রেখে মোরশেদ ও তার লোকজন মারা গেছে মনে করে পালিয়ে যায়। একই সালে ২৪ জুলাই মোরশেদ ও তার লোকজন আমাদের ঘরে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে, আমাদের পিতা মৃত হাজী আমিনুল ইসলামের লাইসেন্সধারী অস্ত্র লুঠ করে নিয়ে যায়। যা এখনও পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি।

এ সকল ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী চেয়ারম্যান মোরশেদের নেতৃত্বে আমার ভাই খোকাকে হত্যা করার পর সে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিনে নিয়ে পলাতক হয়ে যায়। পরে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী হয়, ৩জন আসামী স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দীতে মোরশেদ চেয়ারম্যানের নাম বলার পরও জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। জামিনে মুক্তি পেয়ে এখন মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। তাছাড়া বিজ্ঞ আদালত বাদীর আবেদন ছাড়াই মামলাটি পুন: তদন্তের জন্য পিবিএ তে প্রেরণ করায় আসামী পক্ষ সুযোগ পাবে বলে দাবী করেন মামলার বাদী। মামলা ১নং আসামী জামাল উদ্দীন ও পলাতক ১০ আসামীদের গ্রেপ্তার সহ ও মামলা সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানাচ্ছি।

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মামলার বাদী জমিরুল ইসলাম, খোকার স্ত্রী জেরিন আক্তার, মা আলহাজ্ব ছকিনা বেগম, বোন যথাক্রমে রহিমা বেগম, ইয়াছমিন আক্তার, মামা যথাক্রমে-ভেন্ডার সাহাব উদ্দিন, আইয়ুব আলী, নাছির উদ্দিন লিটন, আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ ফোরকান, খোকার সাথে গুলিবিদ্ধ মাহাবুলু কবির নন্নামিয়া, সাইফুল ইসলাম, ইয়াছিন আরাফাত চৌধুরী, মো. শওকত হোসেন প্রমুখ।