চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

মিরসরাইয়ে রেলওয়ের জায়গা দখল করে শত শত অবৈধ স্থাপনা

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-০৬ ১৩:১৮:৩৮ || আপডেট: ২০১৮-০৮-০৬ ১৮:৩২:০৫

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট থেকে বড়দারোগারহাট পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে চলছে রেলওয়ের জায়গা দখলের মহোৎসব। রেল লাইনের জায়গায় গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ স্থাপনা। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রেলওয়ের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশে রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছে দোকানপাট, চায়ের স্টল, বসতি ও ভাড়াঘর। ইতিমধ্যে রেললাইনের মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নিজামপুর ও মিরসরাই রেলষ্টেশন। ওই দুইটি ষ্টেশনের ভবন ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য তৈরী করা কোয়ার্টার ও আশপাশের জায়গা বেদখল হয়ে গেলেও রেল কর্তৃপক্ষের সে গুলো উদ্ধারে কোন তৎপরতা নেই। তবে মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও রেলওয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পুনরায় চলে দখল।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাইয়ে রেলওয়ে বিভাগে প্রায় ৮২.৩১ একর সম্পত্তি রয়েছে। বিশাল এলাকা জুড়ে রেলওয়ে বিভাগের সম্পত্তি গুলোর কোন সুষ্ঠু তদারকি না থাকায় বেদখল হয়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, মিরসরাইয়ে ৪টি রেল ষ্টেশন ছিল। এর মধ্যে মিরসরাই সদর ও নিজামপুর ষ্টেশনের সিগন্যাল ইন্টারলিংয়ের, সিগন্যাল এক্সপ্রেস, সিগন্যাল পোষ্ট, পয়েন্ট মোটর, প্যাডেষ্টেল, সিগন্যাল ক্যাবল, পয়েন্ট ক্যাবলসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংাশ চুরি হয়ে যাওয়ায় ওই দুইটি ষ্টেশন গত কয়েক বছর আগে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ষ্টেশন দুইটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ষ্টেশন ভবন, যাত্রী ছাউনীসহ আশ পাশের জায়গার জমি দখল শুরু হয়ে যায়। প্রতিদিনই রেলওয়ের জায়গা দখল চলছে বারইয়ারহাট, চিনকী আস্তনা, বড়তাকিয়া ও নিজামপুর এলাকায়। মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চললেও উচ্ছেদের পর আবারো চলে দখল উৎসব।

নিজামপুর রেলওয়ে ষ্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে ষ্টেশন ভবনের সামনে দোকান তৈরী করে ভাড়া দেয়া হয়েছে। আশপাশে অবৈধভাবে জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে আরো প্রায় ২৫-৩০টি দোকান। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে দীর্ঘ দিন ষ্টেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য তৈরী করা ভবনটিতে পাহাড়ের লাকড়ী ও বাঁশ রাখা হতো। মিরসরাই সদর ষ্টেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য তৈরী করা কোর্য়াটার গুলো দখল করে প্রায় ১৫টি পরিবার বসবাস করছে। স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, রাতের বেলায় কোর্য়াটার গুলোর আশ পাশে চোলাই মদ ব্যবসায়ীদের আড্ডায় পরিণত হয়। প্রায় রাতে আসে ভাসমান যৌনকর্মী । বারইয়ারহাটের রেললাইনের দুই পাশ ঘেঁষে বিপদজনক ভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় ৩০টি দোকান। রেলওয়ের নীতিমালা আনুযায়ী রেল লাইনের কমপক্ষে দুই হাজার বর্গফুটের ভেতরে কোন দোকান বা বেসরকারী স্থাপনা তৈরী করা যাবেনা। কিন্তু বারইয়ারহাট রেল লাইনের পাশ ঘেঁষে অবৈধ ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য স্থাপনা। অভিযোগ রয়েছে কেউ কেউ কৃষি ইজারা নিয়ে গড়ে তুলেছে পাকা দালান।

সীতাকুন্ড রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন জানান, রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার নিদের্শে মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি বারইয়ারহাট পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে রেলওয়ে চট্টগ্রামের বিভাগের সহকারী প্রকৌশলি সাইফুল্লা জানান, ইতি পূর্বে মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। শীঘ্রই পুনরায় অভিযান চালানো হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রতি মাসে ২-৩ টি করে অভিযান চালানো হচ্ছে।