চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

রাঙামাটি শহরে পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে আটক ৪৭,মামলা ৩১

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-০৪ ১৬:৪০:০২ || আপডেট: ২০১৮-০৮-০৪ ১৬:৪০:০২

আলমগীর মানিক
রাঙামাটি থেকে

মাদকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের যুদ্ধ ঘোষণার ধারাবাহিকতায় পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও মাদকের অবাধ ব্যবহার ঠেকাতে বেশ আটঘাঠ বেধেই নেমেছে এখানকার পুলিশ প্রশাসন। একমাসেই পর্যটন শহর রাঙামাটিতে মাদক সেবন ও কেনাবেচার সাথে জড়িত ৩১ আসামীকে গ্রেফতারসহ মামলা দায়ের করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ।

বৈচিত্র্যময় ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিনির্ভর পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে মাদকের অহরহভাবে মাদকের ব্যবহার বন্ধে প্রতিদিনই ৫ কিলোমিটারের ছোট্ট এই শহরের বিভিন্ন স্থানে চলছে পুলিশের বিশেষ অভিযান। নানান ছদ্মবেশ ধারণ করেও চালানো হচ্ছে মাদকবিরোধী চলমান অভিযান। কখনও মাদকের ক্রেতা আবার কখনও বা মাদকসেবী, কখনোবা পর্যটকের আবরনে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। এসবের ফলশ্রুতিতেই গত একমাসে নারীসহ বেশকিছু মাদক ব্যবসায়ী ও সেবী পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক হয়েছে। কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের মাধ্যমে পরিচালিত এসব অভিযানের সুফলও পেতে শুরু করেছে শহরবাসী। জনপ্রতিনিধিদের মতে, বর্তমানে রাঙামাটি শহরে কমে এসেছে মাদকের পাইকারি কেনাবেচা। পুলিশের এমন সাঁড়াশি অভিযানে মাদকসেবীদের চলছে দুর্দিন।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবিরের সার্বিক নির্দেশনায় মাদকের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযানের ফলে শহরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বেশ ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ সত্যজিৎ বড়ুয়া জানালেন, গত মাসে রাঙামাটির কোতয়ালী থানায় সর্বমোট ৩১টি মামলা হয়েছে। এছাড়াও জি-আর, সিআর মামলাসহ সর্বমোট ৪৭জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওসি জানান, ঐসব মামলাগুলোর মধ্যে ২৩টি মামলাই হলো মাদকের বিরুদ্ধে। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকের সাথে জড়িত ৩১জন মাদকসেবীকে এসব মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও মাদকসেবীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে তিন শতাধিক ইয়াবা ও দু’শো লিটার চোলাই মদ। থানা পুলিশ জানিয়েছে, উপরোল্লেখিত মাদকের মামলা ছাড়াও জুলাই মাসে অস্ত্র আইনে একটি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি, চাঁদাবাজির একটি, সড়ক দূর্ঘটনায় একটি, মারামারির একটি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়াও ১০টি ওয়ারেন্ট তামিলে ১২জন পলাতক আসামীকেও গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। এছাড়াও মাদকের কেনাবেচার সাথে জড়িত দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে একজনকে ১৫ দিনের এবং অপরজনকে ৩০দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে মাসব্যাপী পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে জেলা শহরটিতে মাদকসেবীদের উৎপাত অনেকটাই কমেছে এমনটা জানিয়ে রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দিন বলেছেন, রাঙামাটি একটি ছোট্ট শহর। এখানে প্রতিনিয়ত দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আগমন ঘটে। এই শহরে মাদকসেবীদের উৎপাত ব্যাপকহারে বেড়ে গিয়েছিলো। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশী তৎপরতায় প্রকাশ্য মাদকসেবীর সংখ্যা অনেকাংশেই কমে এসেছে। মাদকের সাথে জড়িতরা কখনোই সুষ্ঠ মানসিকতা সম্পন্ন নয় উল্লেখ করে প্যানেল মেয়র বলেন, সামাজিক অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম উপদায়ক মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রাখলে রাঙামাটি শহরবাসীর পাশাপাশি অত্রাঞ্চলে আগত পর্যটকরাও নির্বিঘ্নে নিরাপদে ও স্বাচ্ছ্যন্দে চলাফেরা করতে পারবে।

এদিকে, মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে রাঙামাটিবাসীকে সজাগ হয়ে উঠার আহবান জানিয়ে পুলিশ সুপার আলম কবির বলেছেন, সারাদেশের মতো পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে তৎপর রয়েছে। মাদকসংশ্লিষ্টতা যার বিরুদ্ধেই পাওয়া যাবে সে যত বড় মাপের মানুষ হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না।’ এসব অপকর্মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহবানও জানিয়েছেন জনাব আলমগীর কবির।

এদিকে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে ভেঙে দেয়া হয়েছে বেশকিছু মাদকের আস্তানা। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে আকস্মিকভাবেই বসানো হচ্ছে পুলিশের চেকপোস্ট। চালানো হচ্ছে তল্লাশি। পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাকুক এমনই দাবি জেলাবাসীর।