চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

মিরসরাইয়ে ৫০ হাজার রবি গ্রাহকের ভোগান্তি

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-০২ ১২:৩৯:৫২ || আপডেট: ২০১৮-০৮-০২ ২২:৩৮:৪১

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কয়লার রহমতপুর গ্রামে স্থাপিত মোবাইল অপারেটর কোম্পানী রবির নেটওয়ার্ক টাওয়ার গুটিয়ে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এতে গত এক সপ্তাহ ধরে চরম ভোগান্তি পৌহাতে হচ্ছে ওই টাওয়ারের আওতায় লক্ষাধিক সিম ব্যবহার করা প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক।

বুধবার (১ আগষ্ট) সরেজমিনে কয়লা এলাকার সোনাই বাজারে গিয়ে স্থানীয় লোকজন তাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ রবির ওই টাওয়ারের দায়িত্বে থাকা কর্তকর্তাদের বিষয়টি সমাধান করার দাবী জানালেও তারা এই ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এখানকার বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৪ বছর পূর্বে কয়লা এলাকার রহমতপুর গ্রামে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি রবির নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপন করে রবি কর্তৃপক্ষ। ওই টাওয়ারের আওতায় চারপাশে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে আরো ৩টি টাওয়ার রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল টাওয়ারের দায়িত্বে থাকা লোকাজনের কাছে হুমায়ুন নামে এক ব্যক্তি চাঁদা দাবী করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কয়লা থেকে টাওয়ার পর্যন্ত জেনারেটরের তেল নেয়ার জন্য একটি গাড়ি ১২ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। খুব বেশি হলে ভাড়া হয় ২ হাজার টাকা। ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির গাড়ি ছাড়া অন্য গাড়িতে তেলা নেয়া যাবে না বলে হুশিয়ারি দেন। অথবা অন্য গাড়ি করে তেল নিয়ে তাদের গাড়ি প্রতি ১০ হাজার টাকা দিয়ে দিতে হবে। এলাকার লোকজন তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়না। আবার টাওয়ারের দায়িত্বে থাকা প্রহরীদের বিরুদ্ধে তেল চুরির অভিযোগ রয়েছে। মুলত ওই টাওয়ারের দীর্ঘ সময় ধরে লোকসানের মুখে থাকার কারণে গুটিয়ে নেয়া হচ্ছে।

রবির গ্রাহক রহমতপুর এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম, শাহাব উদ্দিন সহ একাধিক এলাকাবাসী বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে এসে এভাবে অন্ধকারে থাকতে হবে বুঝতে পারছিনা। একে তো আমাদের এলাকায় বিদুৎ নেই, তার উপর গত এক সপ্তাহ ধরে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে চরম অসুবিধায় রয়েছি। মোবাইল নির্ভর ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ ব্যাপারে সঠিক কোন তথ্য দিতে রাজি হচ্ছে না টাওয়ারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মোঃ রিয়াদ হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি আগে দায়িত্ব ছিলাম এখন নেই।

মোঃ সুমন নামে আরেক কর্মকর্তা বলেন, এই টাওয়ারের লোকসান হওয়ার কারণে হয়তো টাওয়ার গুটিয়ে নেয়া হচ্ছে।