চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

রক্তিম চাঁদকে ঘিরে সারা বিশ্বে উন্মাদনা

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৮ ১৩:০২:০৩ || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৮ ১৬:৪২:০৩

শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনা ছিল গোটা বিশ্বে। ২৭ জুলাই মধ্যরাতের এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা ঘিরে উচ্ছ্বাস কম ছিল না এশিয়াতেও।

মধ্যরাতের আকাশে রক্তবর্ণ লাল চাঁদের শোভা দেখতে গোটা দুনিয়ার কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মত। সোশ্যাল মিডিয়াতেও আসে সেই বিরল মহাজাগতিক ঘটনার ছবি।

গতকাল ২৭ জুলাই বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী দিবাগত রাতে আকাশ থেকে বছরের দ্বিতীয় পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণটি দেখা গেছে। তবে বাংলাদেশের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় অনেকেই এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে পাননি।

ঢাকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী এই চন্দ্রগ্রহণের উপচ্ছায়া পর্যায় শুরু হয় ২৭ জুলাই রাত ১১টা ১৪ মিনিটে, আংশিক চন্দ্রগ্রহণ শুরু রাত ১২টা ২৪ মিনিটে, পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয় রাত ১টা৩০ মিনিটে, পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ শেয় রাত ৩টা ১৩ মিনিটে এবং আংশিক চন্দ্রগ্রহণ সমাপ্ত হয় রাত ৪টা ১৯ মিনিটে।

বাংলাদেশ এর পাশাপাশি এই চন্দ্রগ্রহণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড থেকেও দৃশ্যমান হয়।

এবারের চন্দ্রগ্রহণটি একুশ শতকের (২০০১-২১০০) সবচে দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ ছিল। যার স্থায়িত্ব ছিল সর্বমোট ১ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি যে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ সংঘঠিত হয়েছে তার স্থায়িত্বকাল ছিল ১ ঘন্টা ১৬ মিনিট।

চন্দ্রগ্রহণের সময় যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে পৃথিবী একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে। ফলে পৃথিবী থেকে মনে হয় চাঁদ ধীরে ধীরে ঢেকে যাচ্ছে। এবারের চন্দ্রগ্রহণের সময় কক্ষপথে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব সব থেকে বেশি হয় (অপসূর অবস্থান)। ফলে পৃথিবীর ছায়াটিও দীর্ঘপথ জুড়ে ছিল।

সেই দীর্ঘতম ছায়াপথটিকে অতিক্রম করতে চাঁদের বেশি সময় লাগে। তাই ২৭ জুলাইয়ের চন্দ্রগ্রহণ বেশ সময় ধরে চলে। গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে অনেকটা তামাটে বা লালচে চাকতির মতো মনে হয়। এর কারণ হল সূর্যের কিছু আলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের মধ্যে দিয়ে বিচ্ছুরিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। লাল রঙ তুলনামূলকভাবে কম বিচ্ছুরিত হয় বলে সেটা চাঁদের উপর পড়ে, এই কারণে গ্রহণের চাঁদকে লাল দেখায়।