চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

কন্টেইনার খুলে পণ্য ডেলিভারি দেয়াতে ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম বন্দর

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৮ ১১:৫৬:১৬ || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৯ ১৩:০০:৫৭

শেড এবং ইয়ার্ডে কন্টেইনার খুলে পণ্য ডেলিভারি দেয়ার প্রক্রিয়ার কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। পণ্য ডেলিভারি নিতে বন্দরে ঢুকছে ছয় হাজারের বেশি ট্রাক এবং কাভার্ড ভ্যান। এসব যানবাহনের সাথে বন্দরে প্রবেশ করে ১৫ হাজারের বেশি ড্রাইভার ও হেলপার। এ কারণে বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা যেমন হুমকির মধ্যে পড়ছে, তেমনি অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের জন্য সৃষ্টি হচ্ছে অসহনীয় যানজটের। এ অবস্থায় ডেলিভারি প্রক্রিয়া বন্দর থেকে সরিয়ে নেয়ার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশ্বের উন্নত কোন বন্দরে এমন নজির না থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শেড এবং ইয়ার্ডে কন্টেইনার খুলে পণ্য ডেলিভারি দেয়া হয়। আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে ৩৭ ধরণের আইটেম খালাস হয় প্রাইভেট আইসিটিগুলোতে। এর বাইরে বেশ কিছু পণ্য রয়েছে যেগুলো বন্দরের অভ্যন্তর থেকেই ডেলিভারি নিচ্ছে আমদানিকারকরা। বিশেষ করে বন্দরের ১৯টি ইয়ার্ডে ফুল কন্টেইনার রুট, এফেলসি কন্টেইনার এবং ১০টি ইয়ার্ডে লুস কন্টেইনার, এলসি কন্টেইনার লুসের পণ্য ডেলিভারি দেয়া হয়। এসব পণ্য পরিবহনের জন্য বন্দরে ঢুকছে ১৫ হাজারের বেশি পরিবহন শ্রমিক।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সদস্য মোহাম্মদ জাফর আলম বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি যে, ডেলিভারিটা বাহিরে হোক। আমাদের মূল কাজ হচ্ছে লোডিং, আনলোডিং এবং ডেলিভারি আমরা কন্টেইনার হিসেবে দিয়ে দিতে পারি।

শুধু যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে তা নয়, সে সাথে বন্দরের আশপাশের এলাকায় হচ্ছে তীব্র যানজট। বন্দরের তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন ২ হাজারের বেশি রপ্তানিযোগ্য কন্টেইনার যেমন লরির মাধ্যমে বন্দরে প্রবেশ করে তেমনি আমদানি পণ্য নিয়ে বের হয়ে আসে আরো কয়েক হাজার ট্রাক এবং কাভার্ড ভ্যান। আর এসব ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের অবস্থান থাকে বন্দর হয়ে ইপিজেড এবং নিমতলী এলাকায়।

চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ পক অপারেটর এসোসিয়েশন সভাপতি ফজলে একরাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর থেকে যদি বন্ডেড একটা এরিয়াতে স্থানান্তর করা যায়, যেখানে বন্দরের নিজস্ব সিকিউরিটি থাকবে সেটা ভাল হয়।’

এ অবস্থায় বন্দরের অভ্যন্তরে কন্টেইনার থেকে পণ্য ডেলিভারি প্রক্রিয়া সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ড এসোসিয়েশন পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘আমরা অলরেডি বন্দরের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর যে মুখ্যসচিব তাকেও প্রস্তাবনা দিয়েছি।’

গত অর্থবছরের চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২৮ লাখ ৮ হাজার টিএস কন্টেইনার হেন্ডেলিং করেছে। এছাড়া কার্গো হেন্ডেলিং করেছে ৯ কোটি ২৯ লাখ মেট্রিক টন।- সময়