চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

‘আনুষ্ঠানিক সংলাপের প্রয়োজন নেই, ফোনে কথা হতে পারে’

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৭ ২০:৩১:২৫ || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৮ ১১:৪৫:২৩

বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপের প্রয়োজন নেই, তবে টেলিফোনে কথা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁও পরিসংখ্যান রোডে মেট্রোরেলের কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি একথা বলেন।

বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে বক্তব্য এসেছে সে প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি সংলাপের কথা বলিনি। আমি বলেছি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাহেব কখনও আমায় টেলিফোন করেন না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বাকি আর মাত্র পৌনে তিন মাস। এর মধ্যেই আনুষ্ঠানিক সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই। সব কিছুই কি আনুষ্ঠানিক হতে হবে? চোখে দেখা দেখি না হোক। টেলিফোনে তো অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা হতে পারে। এতে করে নিজেদের দূরত্ব কমে যায়। টেলিফোনে কথা বললে সমস্যা কোথায়?

জোট সম্প্রসারিত হবে কিনা জানতে চাইলে কাদের বলেন, এটা মেরুকরণের বিষয়। নির্বাচন আসলে পোলারাইজেশন হবে। দেশে অ্যালাইন্স পলিটিক্স তো আছে। বাড়তেও পারে অনেকে জোটে আসতে চাইছে। অনেকে আবার আলাদা জোট গঠন করছে। শেষ পর্যন্ত এটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় দেখা যাবে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির দুর্নীতির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সরকার দোষীদের শাস্তির বিষয়ে সক্রিয় কিনা সেটা দেখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কেলেঙ্কেকারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে যা ঘটেছে, তা ঘটতে পারে না। সরকার এ বিষয়ে নীরব নেই।

কাদের বলেন, ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬’র রাজধানীর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এবং মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের সংশোধিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনা না ঘটলে এ প্রকল্পের কাজ আরো আগে শেষ হতো।

সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেলে ৬০ হাজার লোক যাতায়াত করতে পারবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর রাজধানীবাসী যানজটের কবল থেকে রেহাই পাবে বলে আশা করছি।

উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের মোট দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং নয়টি স্টেশন থাকবে।

প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে জাইকার আর্থিক সহযোগিতায় উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল বাস্তবায়িত হচ্ছে। মেট্রোরেলের স্টেশন সংখ্যা হবে ১৬। এগুলো হলো- উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগরগাঁও, বিজয় সরণী, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, শাহবাগ, টিএসসি, প্রেস ক্লাব এবং মতিঝিল (বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে)।