চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

সার্ভার বিস্ফোরণে ডিবি কার্যালয়ে আগুন, তদন্ত কমিটি গঠিত

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৩ ১৬:২৫:২৬ || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৪ ১০:২৭:০৫

বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে সার্ভার বক্স বিস্ফোরণে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সদরদপ্তরের গোয়েন্দা ইউনিটে আগুনের ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ডিবি কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় ওয়াইফাই রাউটারের সকেটে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে বিস্ফোরণের কারণে আগুনের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন সিএমপি কর্তৃপক্ষ। এদিকে আগুন লাগার ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগমকে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুপুরে আগুন নির্বাপণের পর তাৎক্ষনিক উপস্থিত মিডিয়া কর্মীদের এক প্রেস ব্রিফিং এ কথা জানিয়ে সিএমপির ডিসি হেডকোয়ার্টার আমেনা বেগম বলেন, সার্ভারের ক্যাবলের লোডের পরিমাণ ধারন ক্ষমতার বেশি হওয়ায় এ বিস্ফোরণ হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।  সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে নগর গোয়েন্দা শাখার তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলার পাঁচ নম্বর রুমে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। ওয়াইফাই কানেকশানের সার্ভার বোডের রাউডার এবং টুলবক্স বিস্ফোরণে পুড়ে যায়। এতে কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কিছু নথিপত্র পুড়ে গেলেও অস্ত্রাগার এবং অন্যান্য জিনিসপত্র অক্ষত রয়েছে।

উল্লেখ্য, সোমবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে নগরীর লালদিঘীর পাড় এলাকার সিএমপি কার্যালয়ের তিনতলা ডিবি ভবনে আগুন লাগে। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। একাজে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের ১৩টি গাড়ি।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার উত্তর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, সকালে তারা নিজ নিজ অফিসে বসে ছিলেন। হঠাৎ ডিবি অফিসের তিনতলা ভবনের দুই তলায় বোম ডিসপোজাল ইউনিটের কক্ষের পাশের কক্ষের সামনে রাখা সার্ভার বক্স বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং সেখান থেকেই আগুন ধরে যায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পুলিশ সদস্যরা বেরিয়ে দেখতে পান দুই তলা থেকে ধোঁয়া উঠছে। দ্রুত তারা নিচে নেমে আসেন। এসময় ওই ভবনে থাকা হাজতখানা থেকেও বের করে আনা হয় আসামিদের। পরে আগুন নেভানোর পর প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে বোম ডিসপোজোল ইউনিটের কক্ষের কিছু পোশাক ও প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ ছিল যেগুলো পুড়ে গেছে।

তবে আগুন থেকে অস্ত্রাগার এবং হাজতখানা সুরক্ষিত আছে বলে জানিয়েছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। আগুনে খুব বেশি কোনো ক্ষতি হবে না বলেও আশা করেন তিনি।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে নাশকতা মনে করছেন কি না জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম বলেন, নাশকতা নয়, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের ঘটনা ঘটেছে।