চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

মাশরাফির বোলিং তাণ্ডবে জয়ে ফিরলো বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২৩ ০৯:৪১:২২ || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৩ ১২:১৮:৩৭

ব্যাট হাতে তামিম, সাকিব ও মুশফিকের তাণ্ডবের পর বল হাতে ধংসযজ্ঞ চালালেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। আর এতে করেই গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে জয় পেল বাংলাদেশ। এ জয়ের ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

রোববার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে যায় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২৭৯ রান।

অথচ ব্যাটিংয়ের শুরুটা মোটেও ভাল হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় এক রানেই ব্যক্তিগত কোনো রান না করে ফিরে যান এনামুল হক বিজয়। এরপর উইকেটে এসে তামিম ও সাকিব ২০৭ রানের জুটি গড়েন। সাকিব বিশুর বলে হেটমায়ারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ভাঙে দ্বিশত রানের এ জুটি। আর এতে করে নার্ভাস নাইনটিজে কাটা পড়েন সাকিব। যদিও এর আগে ১২১ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৯৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি।

সাকিব না পারলেও অপরপ্রান্তে থাকা তামিম ইকবাল ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ১৬০ বলে ১৩০ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে থাকেন অপরাজিত। সাকিবের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি সাব্বির রহমান। আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে কাটা পড়েন সাব্বির।

এরপর ক্রিজে এসে মুশফিক ছোটখাটো একটি ক্যামিও খেলেন। তামিমকে নিয়ে গড়েন ৫৪ রানের জুটি। ১১ বলে ৩ ছক্কা ও ২ রানের ৩০ রান করেন মুশফিক। ইনিংসের শেষ বলের আগের বলে আউট হন মুশফিক। শেষ বলে মাহমুদুল্লাহ চার মারলে দলীয় স্কোর দাঁড়ায় ২৭৯ রানে।

ক্যারিবীয়দের পক্ষে দেবেন্দ্র বিশু ২টি, আন্দ্রে রাসেল ও জেসন হোল্ডার ১টি করে উইকেট লাভ করেন।

২৮০ রানের বিশাল লক্ষ্যে খেলতে নেমে সুবিধা করতে পারছিল না উইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। তারপরও ব্যাটিং সহায়ক পিচে গেইল, এভিন লুইস, আন্দ্রে রাসেলের মতো ব্যাটসম্যানরা দলে থাকায় জয়টা সহজ ছিল না বাংলাদেশের। দুই ওপেনার এভিন লুইস ও ক্রিস গেইল সহজাত ব্যাটিংয়ের পরবর্তীতে উইকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রথমেই লুইসকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু দেন অধিনায়ক মাশরাফি।

এরপর রুবেল বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই সাফল্য এনে দেন দলকে। বাড়তি গতির সঙ্গে হাল্কা সুইং তাতেই পথভ্রষ্ট শাই হোপ। তৃতীয় উইকেটে গেইল ও হেটমায়ার ৪০ রানের জুটি গড়লে মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ান তারা। অবশেষে নিজেদের ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউটের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল। যদিও বিদায়ের আগে ৬০ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। যেখানে ছিল মাত্র ১টি চার ও ২টি ছয়ের মার।

এরপর বাংলাদেশি বোলারদের কারণে কার্যত কোনও জুটি গড়তে পারেনি ক্যারিবীয়রা। ৩৬তম ওভারে মুস্তাফিজ এসে পরপর দুই বলে হেটমায়ার ও পাওয়েলকে ফেরত পাঠালে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে বাংলাদেশ। শেষ দিকে মাশরাফি অধিনায়কোচিত বোলিং করে ক্যারিবীয়দের লেজটাই গুড়িয়ে দেন। আর এতে করে প্রথম ম্যাচেই জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেটে ২৩১ রানে থামে ক্যারিবীয়দের ইনিংস। এতে করে ৪৪ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।

এই জয়ে গায়ানায় বাংলাদেশের জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ন রইল। কেননা বাংলাদেশ গায়ানায় ২০০৭ বিশ্বকাপে সুপার এইটের খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬৭ রানে পরাজিত করেছিল। ১১ বছর পর আবার ক্যারিবীয়দের হারিয়ে সেই দুর্দান্ত বাংলাদেশকে দেখতে পেল গায়ানা।

বাংলাদেশের পক্ষে অধিনায়ক মাশরাফি ৪টি, মুস্তাফিজ ২টি, মিরাজ ও রুবেল ১টি করে উইকেট তুলে নেন। অনবদ্য সেঞ্চুরির সুবাদে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান তামিম ইকবাল।