চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামে ভারতীয় শিক্ষার্থী খুন: স্বদেশীকে দায়ী করে অভিযোগপত্র

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২২ ২৩:২৮:২১ || আপডেট: ২০১৮-০৭-২৩ ১১:১৯:০২

চট্টগ্রামে অধ্যায়নরত ভারতীয় ছাত্র আতিফ শেখ হত্যার ঘটনার দীর্ঘ এক বছর পর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগশন (পিবিআই)। রোববার দুপুরের দিকে জমা দেয়া এই অভিযোগপত্রে নিহতের স্বদেশী ছাত্র উইনসন সিংকে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, তবে হত্যার সময় কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় কারোর অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি আদায় করা সম্ভব হয়নি। শুধুমাত্র সিআইডির ‘ক্রাইম সিন’ পর্যালোচনা এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, রোববার দুপুরের দিকে অভিযোগপত্রটি হস্তান্তর করেছে। চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম আল ইমরান খানের আদালতে অভিযোগপত্রটি উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে ২০১৭ সালের ১৪ জুলাই গভীর রাতে চট্টগ্রামের ফয়েজ লেক এলাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউএসটিসির এমবিবিএসে অধ্যয়নরত আতিফ শেখ ও উইলসন সিং নামে দুই ভারতীয় শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। নগরীর আকবর শাহ থানার আবদুল হামিদ সড়কের ছয় তলা একটি ভবনের পঞ্চম তলায় তারা ভাড়া বাসায় থাকতেন।

ওই সময় আতিফকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়, আর উইনসন ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা করার কথা সহপাঠীর বরাত দিয়ে জানায় পুলিশ।

নিহত মোহাম্মদ আতিফ শেখের (২৬) মৃত্যুর তিন দিন পর তার বাবা আবদুল খালেক বাদী হয়ে সিএমপি আকবর শাহ থানায় মামলা করেন। কিন্তু ওই সময় মামলায় সুনির্দিষ্ট কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করলেও আটজনকে সন্দেহের তালিকায় রাখেন তিনি।

ঘটনার পর পুলিশ আতিফের সহপাঠী ভারতীয় আরেক ছাত্র নিরাজ গুরুকে গ্রেফতার করে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নিরাজ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং রক্তাক্ত অবস্থায় আতিফকে এবং আহতাবস্থায় উইনসন সিংকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর থানা পুলিশের কাছ থেকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে পিবিআই উইনসং সিংকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখায়। তাকে দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদের পরও কোনো তথ্য আদায় করতে না পেরে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তদন্ত কর্মকর্তা।

আদালতের নির্দেশে গঠিত মেডিকেল বোর্ড ‘উইনসন সিং সেচ্ছায় মূল ঘটনা এড়িয়ে যাচ্ছে’ বলে মত দিয়েছিল। ওই সময় চিকিৎসকের মতামত নিয়ে উইনসন সিংকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়েও কোনো তথ্য না পেয়ে ডিএনএ পরীক্ষার অবেদন করে তদন্ত কর্মকর্তা।

আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি উইনসন সিং ও নিরাজ গুরুর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকার সিআইডির ডিএনএ ল্যাবে পাঠায় পিবিআই।

পিবিআই’র সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন আলামতের মধ্যে পাঁচটি আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডি ল্যাবে পাঠানা হয়। ওই নমুনা পরীক্ষার পর ডিএনএ ল্যাব থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চারটি ডিএনএ নমুনা এক হলেও ছুরির বাট থেকে পাওয়া ভিন্ন যে ডিএনএ পাওয়া যায় তার সাথে উইনসন সিংয়ের ডিএনএর মিল রয়েছে।