চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

মাদকবিরোধী অভিযান চলবে: চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্র সচিব

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২১ ২০:৩৬:০৯ || আপডেট: ২০১৮-০৭-২১ ২০:৩৬:০৯

মাদকের গডফাদারদেরও আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনের সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী। আগামী সপ্তাহেই এ আইন মন্ত্রীসভার বৈঠেকে উঠছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা জানান।

চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসক, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কারা কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের কর্মকরতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন সচিব।

সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযান চলবে। যতদিন একটা সাসটেইনেবল লেভেলে না পৌঁছাবে, ততদিন এটা চলবে। এক্ষেত্রে যৌথ অভিযানের নির্দেশনাও আছে। এই অভিযান অল আউট বলতে যা বোঝায় তাই। সেভাবেই চলবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন। এটা অল আউটই হবে। একটা পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত। ’

মাদক পাচার নিয়ে অভিযোগে উঠা টেকনাফের সরকারী দলের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? এমন এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘গডফাদারদের ধরছেন না কেন- এরকম অনেক প্রশ্ন আছে। আমরা সেদিকে যেতে চাই। কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু সরাসরি যুক্ত না হলে তো হবে না। ১৯৯০ সালের মাদক আইনে অনেক দুর্বলতা আছে। গডফাদারদের ধরার আইন ছিল না। ইয়াবাও ছিল না। সব যুক্ত করে নতুন আইন এনেছি। গডফাদারদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটা উপস্থাপন করা হবে। ’ তবে বদির বিষয়ে সরাসরি কিছুই বলেননি তিনি।

ভারত সহযোগিতা করলেও মিয়ানমার করছে না জানিয়ে সচবি বলেন, ‘দেশে ক্রমান্বয়ে মাদকের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা মাদক উৎপাদনকারী দেশ নই, মাদক ভোগকারী। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এসব মাদক আমাদের দেশে প্রবেশ করছে। আমরা চেষ্টা করছি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এসব মাদক প্রবেশ বন্ধ করতে কিন্তু তাদের অসহযোগিতার কারণে পুরোপুরি পেরে উঠছি না। ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছিলো। আমরা বর্ডারের পার্শ্ববর্তী মাদক কারাখানার তালিকা দিয়েছিলাম। তারা বর্ডারের পাশে মাদক উৎপাদন কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। ভারত থেকে মাদক আসা অনেক কমে গেছে। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের ১৯৯৪ সালে চুক্তি হয়েছিল। তাদেরকেও তালিকা দিয়েছি কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। চুক্তির পর থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে মাত্র ৩টি মিটিং করতে পেরেছি। তারা মিটিংয়েও বসতে চান না। এ নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ দেখতে পাই না। মিয়ানমারে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আছেন তারাই এ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।’

নিজেদের সচেতন হয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানান সরকারের শীর্ষ এ কর্মকর্তা।

ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘দেশের কারাগারগুলোর ধারণ ক্ষমতা ৩৬ হাজার ৬০০। এখন কারাগারগুলোতে ৯০ হাজার বন্দি আছে। এর ৪৩ শতাংশ মাদকের সাথে যুক্ত। যার সংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার। অর্থাৎ সক্ষমতার পুরোটাই মাদকের আসামি দিয়ে ভরা। দেশে বর্তমানে ৮০ লাখ মাদকাসক্ত আছে। তাদের নেশার জগৎ থেকে বের করে আনতে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যার মাদক নিরাময় কেন্দ্র করা হবে।’ চট্টগ্রাম কারাগারে ১৮০০ ধারণ ক্ষমতার বিপরীতে আট হাজার বন্দি আছে জানিয়ে এখানে আরেকটি কারাগার করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

পাসপোর্ট তৈরিতে বিলম্ব ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের হয়রানি নিরসনে ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দ্রৃত ভেরিফিকেশন সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সচিব। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর করতে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান সুরক্ষা বিভাগের এ সচিব।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা ও নগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সর পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ, কারা উপ-মহাপরিদর্শক পার্থ গোপাল বণিক, জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মজিবুর রহমান পাটোয়ারী, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট বিভাগের উপ পরিচালক জাকির হোসেন নোমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা।