চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘ পরিবারে নতুন তিন অতিথি

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-২০ ২২:৩১:০২ || আপডেট: ২০১৮-০৭-২১ ১৬:৩৪:২৫

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানি করা বাঘ-বাঘিনীর খাঁচায় নতুন তিন অতিথি এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে তিনটি বাচ্চা প্রসব করে বাঘিনী। তিন অতিথিসহ এখন এই চিড়িয়াখানায় বাঘের সংখ্যা পাঁচটি।

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুটি বেঙ্গল টাইগার আনা হয়। যাদের বৈজ্ঞানিক নাম ‘প্যানথার টাইগ্রিস টাইগ্রিস’। তখন বাঘটির বয়স ছিল ১১ মাস এবং বাঘিনীর বয়স ৯ মাস। দুটি কাঠের বাক্সসহ বাঘ দুটির ওজন ছিল ৪২০ কেজি।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব মুহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, ‘আফ্রিকা থেকে আনা বাঘিনী তিনটি বাচ্চা প্রসব করেছে। সবগুলোই এখন সুস্থা আছে। তবে এখনো বাঘ-বাঘিনীর পরিচয় চিহ্নিত করা যায়নি। এখন তাদের কাছে যাওয়া যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘শুদ্ধাচার চর্চায় পরিবর্তন আনা এই চিড়িয়াখানায় আগামীতে আরো পরিবর্তন আসবে। নতুন পশু-পাখি যোগ করে দেশের অন্যতম একটি সমৃদ্ধ চিড়িয়াখানায় পরিণত করা হবে।’

এদিকে, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার নতুন তিন অতিথিকে (শাবক) দেখতে গেলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক।

শুক্রবার দুপুরে মেয়ে নওরিন সাদেক ও নাতনি নাভিন ইত্তেমাকে নিয়ে তিনি চিড়িয়াখানায় আসেন। চিড়িয়াখানায় তিনি প্রায় ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা বাঘ-বাঘিনী, জেব্রাসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি সমৃদ্ধ পুরো চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. মমিনুর রশিদ, সহকারি কমিশনার (ভূমি) শারমিন আখতার, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম, চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. শাহাদাত হোসেন শুভ প্রমুখ।

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মানুষের বিনোদন, শিশুদের শিক্ষা এবং গবেষণার জন্য নগরের খুলশিস্থ ফয়েজ লেকের পাশে ৬ একর জমির উপর চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে সেখানে ৬৭ প্রজাতির সাড়ে তিন শতাধিক পশু-পাখি আছে। চিড়িয়াখানার টিকিট বিক্রির টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে সীমানা প্রাচীর, পশুদের জন্য দেওয়া হয় খাঁচা, আবর্জনার ভাগাড়কে করা হয়েছে নান্দনিক বৈঠকখানা, তিতিরপাখিকে দেওয়া হয়েছে পৃথক ঘর, লাগানো হয়েছে এক হাজার ফলজ বৃক্ষ। বানানো হয়েছে সিঁড়ি, নির্মিত হয়েছে প্রধান ফটক। চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ৩২ হাজার ১৬৪ বর্গফুট রাস্তা। নিরাপত্তায় বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। বাচ্চাদের জন্য করা হয়েছে ‘কিডস জোন’। পশুর সুরক্ষায় নির্মিত হয়েছে নিরাপত্তা দেয়াল। দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে পরিচ্ছন্ন শৌচাগার। প্রাণীখাদ্য সংরক্ষণে নির্মাণ করা হয়েছে স্টোর রুম, কোয়ারেন্টাইন রুম এবং অপারেশন থিয়েটারসহ আধুনিক প্রাণী হাসপাতাল।