চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

রাইফার মৃত্যু : ম্যাক্সের এমডিসহ চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এজাহার

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-১৮ ১৭:৪৫:১৯ || আপডেট: ২০১৮-০৭-১৯ ০৯:৪৬:০০

ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় সাংবাদিক কন্যা রাইফার মৃত্যুর ১৯ দিন পর ম্যাক্স হাসপাতালের এমডি ডা. লিয়াকত আলী ও কর্ত্যবরত তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের জন্য এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

বু্ধবার (১৮ জু্লাই) বিকেলে চকবাজার থানায় এ এজাহার দায়ের করেন শিশু কন্যা রাইফার বাবা সাংবাদিক রুবেল খান।এসময় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও সিএমপির উপ কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাইন হোসাইনও উপস্থিত ছিলেন চকবাজার থানায়।

আসামিরা হলেন- ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশীষ সেনগুপ্ত, ডা. শুভ্রদেব ও ডা. লিয়াকত আলী। এদের মধ্যে প্রথম তিন শিশু রাইফার চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিল সরাসরি আর লিয়াকত আলী ম্যাক্স হাসপাতালের এমডি। তাদের প্রত্যেকের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ম্যাক্স হাসপাতাল। আসামিদের বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় ২ বছর চার মাস বয়সী শিশু রাইফার মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নব নির্বাচিত সদস্য সাংবাদিক আজহার মাহমুদ বলেন, ‘মামলার বাদী রুবলে খান বিকেল চারটার দিকে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে চকবাজার থানার ওসির কাছে এজাহার দায়ের করেন। তিনি গ্রহণ করে স্বাক্ষরও করেছেন। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে মামলার নাম্বার দেওয়া হবে। এসময় উপ কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাইন হোসাইনও এসেছেন।’

এদিকে চকবাজার থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, রাইফার বাবা একটি এজাহার দিয়েছেন। সেটি আমরা গ্রহণ করেছি। পরে যাচাই বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২৯ জুন রাতে নগরের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন সাংবাদিক রুবেল খানের মেয়ে রাইফা খান। মৃত্যুর পর থেকেই রাইফার পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই অকাল মৃত্যু ঘটে রাইফার।

ওই দিন রাতেই এ জন্য দায়ী ডাক্তার এবং নার্সদের আটক করে চকবাজার থানা পুলিশ। কিন্তু ভোর রাতে তাদের ছাড়িয়ে আনতে থানায় গিয়ে অশোভন আচরণ এবং চট্টগ্রামে চিকিৎসাসেবা বন্ধের হুমকি দেন বিএমএ নেতা ফয়সল ইকবাল চৌধুরী ও তার সহযোগিরা।

এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্দোলনের মুখে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ০৬ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলায় রাইফার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি ম্যাক্স হাসপাতালের লাইসেন্সে ত্রুটিসহ ১১টি অসঙ্গতি রয়েছে বলে জানায়।