চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

প্রেম করে উড়াল দিচ্ছে, বলা হচ্ছে গুম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-১৭ ১৫:৪২:১৪ || আপডেট: ২০১৮-০৭-১৭ ১৫:৪২:১৪

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যা হচ্ছে না। আমরা কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যা করি না। আর গুমের যে ঘটনাগুলো বলা হচ্ছে, সেগুলো আসলে গুম না। আমরা তাদের ধরে সামনে আনছি, দেখা যাচ্ছে প্রেম করে অথবা ব্যবসায় ব্যর্থ হয়ে উড়াল দিচ্ছে, আর বলা হচ্ছে গুম। এমন গুম হওয়াদের বের করবেন কী করে? অধিকাংশ গুমই এ রকম।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে সুস্থ আছেন। কারাগারের চিকিৎসকরা নিয়মিতভাবে তার চিকিৎসা করছেন। আমি নিজেও আইজিপ্রিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার ব্যাপারে প্রতিদিনই খোঁজ খবর নেই।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা যেভাবে তার অসুস্থতার কথা বলছেন, তেমন কিছুই ঘটেনি। নতুন কোনো রোগেও তিনি আক্রান্ত হননি। তার যে অসুস্থতা, তা পুরনো। সেদিক থেকেও ডাক্তাররা তৎপর আছেন।

খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়েছে। তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও নেওয়া হয়েছে। সিএমএইচ হাসপাতালেও তাকে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রীও অসুস্থবোধ করলে সিএমএইচে যান, সেখানেও (সিএমএইচ) যদি তিনি না যান, তবে অন্য কোথাও চিকিৎসার জন্য নেয়াটা কঠিন। সরকারিভাবে তার জন্য যা যা করার আমরা তা গ্রহণ করেছি। তার যেসব ডাক্তারা সেবা দিয়ে থাকেন তারা সার্বক্ষণিক দেখছেন। প্রয়োজন হলে তারা আবার দেখবেন।

কথিত বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফের কাউন্সিলর একরামের মৃত্যুর পর ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ওই ঘটনার তদন্ত করছি। তদন্তে যার জড়িত থাকার প্রমাণ মিলবে, তার বিরুদ্ধেই আমরা ব্যবস্থা নেব।

এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি র‌্যাবের ঊর্ধ্বতম কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। আশা করি খুব শিগগিরই ফলাফল আসবে।

কক্সবাজারের একরাম হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্যরা কক্সবাজারে গিয়ে একরামের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে, অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা বা মাদকের সাথে জড়িত থাকায় দুই শতাধিক মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? -সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ও মাদক ব্যবসার সাথে পুলিশের যেসব সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। প্রমাণের ভিত্তিতে সাসপেন্ড হচ্ছেন। ইতোমধ্যে ২/৩ জনকে কারান্তরীণ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যও অপরাধ করলে পার পাচ্ছেন না। দেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। সেখানে পুলিশ সদস্যরাও বাদ যাবেন না। তবে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে সাজা না পান সে জন্য সময় লাগছে। বিভাগীয় তদন্তও চলছে। তদন্তে মাদকে জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণ মিললে ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, পাঁচটি গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক তৈরি করা মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা কমন পড়ছে তাদের ধরা হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এ যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে। সে জন্য সকলের সহযোগিতা দরকার।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সাথে আমাদের যোগাযোগ পুরান। তবে নজরদারি রাখা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে কারো কাছে পাসপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গারা যাতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীর শিকার না হয় সে জন্য চেষ্টা চলছে। ভারতসহ সবাই এ ব্যাপারে সোচ্চার।

বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে বঙ্গবন্ধুর খুনীরা পালিয়ে আছে খবর আসে। তাদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ চলছে। আইনমন্ত্রীর অধীনে একটি কমিটি কাজ করছে। সেখানে আমি ও পরাষ্ট্রমন্ত্রী সদস্য। কে কোথায় সেসব দেশের আইন ও দেশীয় আইন মিলে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও হামলায় জড়িতদের ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে? -জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ডাক না পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ যায় না। ভুলে যান কেন? কারা কিভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বাসভবনে হামলা করেছে। ভাংচুর হয়েছে। ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় জড়িতদের ধরা হচ্ছে।

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, যে অন্যায় করবে তার বিচার হতেই হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। অভিযোগ ওঠার পর তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তদন্ত যাতে নির্ভুল হয় সেজন্য সময়ক্ষেপন হচ্ছে। এ কথা বলতে পারি, তদন্তের রুট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে যদি বিচারিক ব্যবস্থারও প্রয়োজন হয় খুব শিগগিরি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখানে জোর গলায় বলতে পারি, কোউকে ছাড় দিচ্ছি না।