চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

বাঁশখালী পৌরসভা মেয়রসহ তিনজনের বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-১১ ১২:২৪:৩৯ || আপডেট: ২০১৮-০৭-১২ ১৭:৪২:৫৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পৌরসভার মেয়র শেখ সেলিমুল হকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছে এক কলেজছাত্রী। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক রোকসানা পারভিন’র আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

আদালতের জজ মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’কে তদন্ত করে দ্রুত সময়ে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অভিজিৎ ঘোষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার অপর দুই আসামী হলেন, বাঁশখালী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের উত্তর জলদী লস্করপাড়া গ্রামের কবির আহমদের ছেলে শামসুল ইসলাম হেলাল (৪৬) ও মোক্তার আহমদের ছেলে মো. শাহজাহান (২৪)।

আদালতে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে চলতি বছরের মে মাসের ২৮ তারিখ দিনগত রাত আনুমানিক আটটার দিকে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের উত্তর জলদী লস্করপাড়ায় ঘরে কলেজপড়ুয়া কন্যাকে বাসায় রেখে তিনকন্যাকে নিয়ে পারিবারিক কাজে বাহিরে ব্যস্ত ছিলেন মা। ওই সময় ঘরে ঢুকে এ কলেজছাত্রীকে ঝাঁপটে ধরে শরীরের বস্ত্রহরণ করে নেয় তারা।

সে সময় তার আত্মচিৎকার শুনে ছুটে যান পার্শ্ববর্তী মনোয়ারা বেগম। তিনি ঘরে ডুকে এই দৃশ্য দেখেই ভয়ে আঁতকে উঠেন এবং দ্রুত সরে যান। মোবাইলে খবর দেন আসামীদের রোষানলে থাকা কলেজছাত্রীর মাকে। বাড়ির অদূরে থাকা মা খবর পেয়েই ছুটে আসেন ঘরে। সে সময় ঘরে ঢুকতেই কন্যাকে অর্ধনগ্নবস্থায় তিনজন টানাহেঁচড়া করতে দেখতে পান তিনি। তবে মাসহ আরও লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান আসামীরা। যাওয়ার সময় নির্যাতনের শিকার কলেজছাত্রীর মাকে ঘরের দরজা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে চলে যায় তারা।

নির্যাতনের শিকার ওই কলেজছাত্রীর মা জানান, ধর্ষকরা যাওয়ার সময় শাসিয়ে যায়, বিষয়টি কাওকে জানালে প্রাণে হত্যা করে টুকরো করা হবে তাদের। এছাড়া মা-মেয়েকে একসাথে ধর্ষণ করার হুমকি দেয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেছেন নির্যাতিত কলেজছাত্রী ও তার মা। তবে পুলিশ প্রথমে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় পুলিশ মামলা নিচ্ছি-নেব বলে প্রায় দেড়মাস ঘুরিয়ে জানিয়ে দেয়, থানায় মামলা নেয়া হবে না। প্রয়োজন হলে আদালতে যেতে পার।

ওই ছাত্রীর মা আরও জানান, গত দু’বছর আগে কলেজে আসা-যাওয়ার পথে তার কন্যাকে মো. শাহজাহান নামের এক বখাটে উত্যক্ত করতো। এই ঘটনায় এ সময় বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। সে সময় বখাটে শাহজাহান জীবনে আর কখনও এ ধরনের অন্যায় করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতে আবাও তার কন্যাকে উত্যক্ত করা শুরু করে। সর্বশেষ মেয়রসহ তিনজন মিলে ঘরে ডুকে ধর্ষণ করে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। আমাদের কাছে এধরনের কোনো অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। মেয়রের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, এধরনের চাঞ্চল্যকর মামলা না নিয়ে কি পারে! প্রশ্ন ওসির।