চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮

ফটিকছড়িতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-১০ ১২:৩৩:১৫ || আপডেট: ২০১৮-০৭-১০ ১৮:৪৯:১৫

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির দুই শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে মো. আবুল হাসেম (৪০) নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। জেলার ফটিকছড়ি থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রীর চাচা। ধর্ষণের শিকার শিশু দুটি সম্পর্কে চাচাতো বোন। ওই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ার সময় এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার সাথে সাথেই আত্মগোপনে চলে গেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আবুল হাসেম।

থানায় মামলা হওয়ার কথা স্বীকার করে ফটিকছড়ির ভুজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বায়েস আলম বলেন, খবর পেয়েই পুলিশ ওই শিক্ষক আবুল হাসেমকে গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে। পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা করছে।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ফটিকছড়ি নারায়ণ হাটের চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রাজারটিলা নুর আহম্মদ শামছুন্নাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সদ্য প্রেষণে বদলি হন শিক্ষক আবু হাশেম। তার স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। বিদ্যালয়ের পাশের এলাকায় তিনি ভাড়া বাসায় থাকেন।

দুই ছাত্রী (চাচাত বোন) শিক্ষক আবু হাশেমের বাসায় গিয়ে তার স্ত্রীর কাছে প্রাইভেট পড়তো। স্ত্রীর ব্যস্ততায় মাঝে মধ্যে আবু হাশেমও তাদের পড়াতো।

গত ১ জুলাই সন্ধ্যায় ৩য় শ্রেণির ছাত্রীটি (৯) পড়তে গেলে আবু হাশেম নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। ওইসিময় আবুল হাসেমের স্ত্রী রান্না ঘরে ব্যস্ত ছিলেন। পরে বাড়ি ফিরে শিশু ঘটনাটি তার মাকে জানায়।

পরে এটি পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে ৪র্থ শ্রেণির অপর ছাত্রীকেও একইভাবে ধর্ষণের কথা বেরিয়ে আসে। শিশু দুটির বাবা সৌদি প্রবাসী।

পরে শিশু দুটির চাচা গত বুধবার বাদী হয়ে শিক্ষক আবু হাশেমের নামে ভুজপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

রাজাটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম বলেন, আবু হাশেম গত ১২ এপ্রিল প্রেষণে বদলি হয়ে এসে তার স্কুলে যোগদান করেন। গত ৪ ও ৫ জুলাই তিনি ছুটিতে ছিলেন। ৭ জুলাই কর্মস্থলে যোগদানের কথা থাকলেও তিনি স্কুলে এ পর্যন্ত আসেননি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভুজপুর থানার এসআই সৈয়দ বলেন, মামলা হওয়ার পর ভিকটিম দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে শিক্ষক আবু বকরের স্ত্রী স্কুলশিক্ষিকা ছেনোয়ারার মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।