চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮

ওরা চুরি করে পার্ক ও বিয়ের অনুষ্ঠানে

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৯ ১৭:৩২:৪৪ || আপডেট: ২০১৮-০৭-১০ ১২:৩১:৩২

ওরা চুরি করে শিশু পার্ক ও বিবাহ অনুষ্ঠানে। তারা অতিথি বেশে বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠানে যায়। সেখানে বর কিংবা কনের আত্মীয় বেশে সুযোগ বুঝে তারা চুরি করে। অতিথিদের ব্যাগ থেকে মোবাইল, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার হাতিয়ে মুহূর্তেই চম্পট দেয় তারা।

রোববার রাতে পাঁচ নারী ও এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন হামিদা বেগম (৪০) ও তার দুই মেয়ে ফাতেমা বেগম (২৬) এবং চুফরা সহুরা ওরফে কালা বুড়ি (১১); তারা কক্সবাজারের মহেশখালীর চরপাড়া জাহেদের বাড়ির হামিদ হোসেনের স্ত্রী ও মেয়ে। বাকি তিনজন হলেন- মহেশখালীর চরপাড়ার ফজল আহম্মদের ছেলে নুর হোসেন (১৮), টেকনাফের সাপুর ডিয়া জেলে পাড়ার মৃত নুর মোহাম্মদের মেয়ে রিপা আক্তার (১৫), দোহাজারীর জামিরজুড়ির মো. জাহাঙ্গীরের মেয়ে জান্নাত আরা ফেরদৌস (১৪)। এদের মধ্যে রিপা আক্তার হচ্ছে হামিদা বেগমের মামাতো বোন। হামিদার ভাইয়ের ছেলে হচ্ছে নুর হোসেন। জান্নাত আরার সাথে অন্যদের আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই বলে পুলিশ জানায়।

ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গত ৬ জুলাই রাতে লাভ লেইনের স্মরণিকা ক্লাবে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে স্ত্রীসহ গিয়েছিলেন উদয়ন দাশ গুপ্ত নামের এক ব্যক্তি। সেদিন কৌশলে তার স্ত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে এমআই নোটথ্রি মডেলের একটি মোবাইল সেট চুরি হয়। বিষয়টি ক্লাব কর্তৃপক্ষকে জানালে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের সণাক্ত করা হয়। এরপর গতকাল রোববার রাতে স্মরণিকা ক্লাবে আরেকটি বিয়ে অনুষ্ঠানে যায় আগের চুরির ঘটনায় জড়িতরা। এরপর ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। এরপর বাকলিয়ার ক্ষেতচর আলম কুটি এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে উদয়নের স্ত্রীর মোবাইলটির পাশাপাশি আরও ২২টি চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।’

পুলিশ কর্মকর্তা মহসীন বলেন, শিশু পার্ক ও বিয়ে অনুষ্ঠানগুলোতে সেজে গুজে গিয়ে মোবাইল চুরি করে আসছিল চক্রটি। বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ রয়েছে চক্রটিতে। দেখতে তাদেরকে এক পরিবারের সদস্য মনে হবে যে কারও। কেউ যাতে তাদের সন্দেহ না করে, সেজন্য সেজেগুজেও যেত তারা। এভাবে বেশ ধারণ করে চুরিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে তারা।

চুরির পর গ্রেফতারকৃতরা নগরের রিয়াজ উদ্দিন বাজারের যে ব্যক্তির কাছে মোবাইল সেটগুলো বিক্রি করে আসছিল, তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন।