চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

ম্যাক্স হাসপাতালকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৮ ২৩:৫৮:২৯ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০৯ ১১:১২:১৪

ভুল চিকিৎসায় রাফিদা খান রাইফা নামে একটি শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার পর চট্টগ্রাম নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা, ফার্মেসির লাইসেন্স না থাকা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ল্যাব টেস্ট করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে এ জরিমানা করা হয়।

রবিবার (০৮ জুলাই) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে র‌্যাবের এক ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অভিযান পরিচালনা করে।

র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

অভিযান চলাকালে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও ওষুধ প্রশাসনের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে অভিযানে হাসপাতালটির ১১টি ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিনিধি দল। দেখা গেছে, হাসপাতালটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। হাসপাতালটির ৮ম তলায় ঔষধের একটি ফার্মেসি রয়েছে, এটিরও লাইসেন্সের মেয়াদ দুই বছর আগে শেষ হয়ে গেছে। অবৈধভাবে চলছে এই ফার্মেসি। তিনি আরও জানান, হাসপাতালটির নিজেদের ল্যাবে কোনও টেস্ট হয় না। বিভিন্ন টেস্টের জন্য তারা নমুনা সংগ্রহ করে বাইরের হাসপাতাল থেকে টেস্ট করিয়ে নিয়ে আসে। আর সেসব টেস্টের রিপোর্ট দেওয়া হয় হাসপাতালটির নিজস্ব প্যাডে। এছাড়াও হাসপাতালটির ডাক্তার ও নার্সদের কোনও নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না। হাসপাতালের কর্মচারীদের কোনও তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি হাসপাতালে কারা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে বসেন তার কোনও তালিকাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি।

অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমকে সহযোগিতা করছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের ড. দেওয়ান মো.মেহেদী হাসান এবং ঔষধ প্রশাসনের চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক গুলশান জাহান।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন বিকালে গলা ব্যাথার কারণে রাফিদা খান রাইফাকে ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ২৯ জুন রাতে রাইফার মৃত্যু হয়। রাইফা দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর সিনিয়র প্রতিবেদক রুবেল খানের মেয়ে। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে রাইফার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে ম্যাক্স হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক, নার্সদের শাস্তি দাবি করেন সাংবাদিক নেতারা। সাংবাদিক নেতাদের দাবির মুখে পুলিশ কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে বিএমএ নেতাদের চাপের মুখে ওই দিন রাতেই তাদের ছেড়ে দেয় থানা পুলিশ।

এরপর দুই পক্ষের সমঝোতায় ঘটনার তদন্তে ওইদিন রাতেই সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই তদন্ত কমিটি শনিবার (৭ জুলাই) রাতে তাদের প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলার বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন।