চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

ব্রাজিলের পরাজয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড়

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৭ ১০:৫৫:৫৫ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০৭ ১৬:৪৮:৩৪

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেল বেলজিয়াম। ব্রাজিলের এমন হতাশাব্যঞ্জক পরিণতির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

ক্রীড়া সাংবাদিক আসিফ ইকবাল তার ফেসবুক পেজে লেখেন, বিদায় ব্রাজিল। বিদায় নেইমার।

ক্রীড়া সাংবাদিক উৎসব সরকার লেখেন, এতো ভালো খেলার পরও এমন হার মেনে নেওয়াটা কষ্টদায়ক। ফুটবলের ভাগ্য বিধাতা আপনি বড়ই নিষ্ঠুর। আমিতো বলব আজ পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন আপনি! তা না হলে, এতো এতো আক্রমন শানালেও কেন মাত্র একটা গোল হবে ব্রাজিলের?

খুব করে চেয়েছিলাম মেসির হাতে বিশ্বকাপের শিরোপা দেখতে। আপনি সহায় হননি। হতাশ করেছেন ফুটবলের রাজপুত্রকে, নিরাশ করেছেন আমাকে! একই রাতে দেখেছি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিদায়ও।

বেলজিয়াম কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। কিন্তু মাঠে তো দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। আধিপত্য বিস্তার করে খেলল ব্রাজিল, অথচ ম্যাচ শেষে জয়ী দলের নাম বেলজিয়াম। এ কেমন বিচার আপনার?

ফুটবল বিধাতা আপনি আজ সত্যিই পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। খেলায় জিততে গেলে ভাগ্যের সহায়তা প্রয়োজন। আপনি কোনো কারণে ব্রাজিলের উপর অভিমান করেছিলেন। সে জন্যই আত্মঘাতি গোল, সে জন্যই একের পর এক আক্রমন করলেও বল খুঁজে পায়নি জাল।

সত্যি বলছি, ব্রাজিলের জয় চেয়েছিলাম একদম মন থেকে। হলো না। তবে নেইমার আমাকে মুগ্ধ করেছে। আজ তার মধ্য কোনো অভিনয় দেখিনি। আমার দেখা এটা অন্য নেইমার। যে দলের জয়ের জন্য ছিল মরিয়া। একটা গোল করতে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। স্যালুট ইউ নেইমার। আমরা তো আপনার এই রূপটাই দেখতে চাই।

মেসি, রোনালদোর পর নেইমারদেরও বিদায়। বাংলাদেশে বিশ্বকাপ আজ তার শতভাগ রং হারালো…

কাজী সাব্বির নামে একজন লেখেন, আমরা তো তাও কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছি। এই কথা বলা আর ওমর সানির সাথে সালমান শাহ’র তুলনা করা একই কথা!

রেজওয়ান হোসাইন খোকন নামে একজন আর্জেন্টাইন সাপোর্টারদের টার্গেট করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, ব্রাজিল-০১ বেলজিয়াম-০২ তার মানে কি দাঁড়াইলো? বেলজিয়াম ১ গোলে এগিয়ে। আরে ভাই আমরা তো আর তোগো মতো ১ হালি
খাই নাই….যত্তসব।

বিশ্বকাপের শুরু থেকে এমনটাই ভাবছিল অনেক ফুটবল বোদ্ধা। বেলজিয়াম এবার একটা কিছু করবে। ২০১৬ সালে দলটি ছিল ফিফা র্যাং কিয়ে এক নম্বর দল। এখন অবশ্য তিন নম্বর পজিশনে। তিন নম্বর দল দুই নম্বর দলকে হারাতেই পারে।

তবে এ হার ব্রাজিলিয়ান সাপোর্টারদের জন্য গলার কাঁটা। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা যেভাবে মেক্সিকোর সাখে গোল না দিয়ে বরং এক গোল হজম করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে এবং মিশন শেষ করেছে অখ্যাত দক্ষিণ কোরিয়ার দুই কামরে সে তুলনায় ব্রাজিলের এবং তার সাপোর্টারদের লজ্জিত হবার অবকাশ কমই আছে।

২০০৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি তো এ বিশ্বকাপে খেলারই সুযোগ পায়নি।

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল (অন্তত বাংলাদেশিদের মতে) আর্জেন্টিনাতো শেষ ষোল থেকেই বিদায় নিয়েছে। শেষ ষোলতে আসতে আর্জেন্টাইনরা ছোটভাই ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারে।

এছাড়া ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন হারলো আরেক অখ্যাত দল রাশিয়ার কাছে। সেদিনই বিদায় রচিত হয়েছিল ইনিয়েস্তাদের।

সবশেষ বলতে হয় রোনালদোর দল পর্তুগালের কথা। বিশ্বকাপ মিশন যেভাবে এবার তারা তিন গোল দিয়ে শুরু করেছিল তাতে এবার রোনালদো ভিন্ন কিছু দেখাবে এটাই ছিল সবার প্রত্যাশা। কিন্তু হলো ভিন্ন। উরুগুয়ের কাছে গোলশূন্য ম্যাচেই বিদায় নিতে হলো তাদের। এই রোনালদোর জাতীয় দলে গোল মেসি নেইমারের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি। ৮৫ গোল। যেখানে মেসির গোল ৬৫টি আর নেইমারের গোল ৫৭টি।

বড় দলগুলোর বিদায়ে এবারের বিশ্বকাপ নবাগত দলের কাছেই হাঁটছে কি না সেটা বোঝার জন্য সেমি ফাইনাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।