চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

রাইফার মৃত্যু ভিন্নখাতে নিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৫ ১৭:১৯:৫৭ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০৬ ১২:১৭:৫৪

সাংবাদিক কন্যা রাইফার মৃত্যুর তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজে। চিকিৎসক সমাজ এবং সাংবাদিক সমাজকে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে নেতারা অভিযোগ করেন।

সিইউজে সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বুধবার রাতে বিএমএ-র একটি সভায় বিএনপি ও ড্যাব নেতা ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী সাংবাদিকদের মারধর করা ও স্ট্রাইক করাসহ নানা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তারা সব ধরনের চিকিৎসা বন্ধের কথা বলে বিএমএ ও সাংবাদিকদের সাধারণ মানুষের মুখোমুখি করার চেষ্টা করছে।’

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, বিএমএ একটি ঐতিহ্যবাহী পেশাজীবী সংগঠন। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার-সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল ম্যাক্সে সাংবাদিকের মেয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে একটি চক্র গোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় বলে সিইউজে মনে করে।’

বর্তমান সরকার রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন এবং ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসাবে গড়ে তুলতে চায়। এ জন্য স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। সরকারের এই উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ব্যর্থতা প্রচার করতে একটি চক্র বিএমএ’র মতো একটি ঐতিহ্যবাহী পেশাজীবী সংগঠনকে ব্যবহার করছে, যা দুঃখজক এবং অনভিপ্রেত।

বিবৃতিতে নেতারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব পেশাজীবী, দেশপ্রেমিক নাগরিক, রাজনৈতিক দলসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির যেকোনও ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘সাংবাদিকরা কখনো বিএমএ-র বিরুদ্ধে বক্তব্য, বিবৃতি কিংবা আন্দোলন করেনি। রাইফার চিকিৎসায় অবহেলা, অবৈধ ম্যাক্স হাসপাতাল বন্ধের দাবি ও অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে নিয়মতান্ত্রিক এবং ধারাবাহিক আন্দোলন করছি। এই আন্দোলনে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করা হয়নি। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী পেশাজীবী সংগঠন বিএমএ-কে ব্যবহার করে একটি চক্র রোগীদের জিম্মি করে নানাভাবে চট্টগ্রামের চিকিৎসা ব্যবস্থায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’

বিবৃতিতে নেতারা আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে যারা বিএমএ-কে ব্যবহার করছেন, যারা বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছেন, চিকিৎসক এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছেন, তাদের সেসব কর্মকাণ্ড এবং গোপন বৈঠকের ভিডিওচিত্র সাংবাদিক ইউনিয়ন সংগ্রহ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে সিইউজের কাছ থেকে এসব ভিডিও কিংবা তথ্যচিত্র সংগ্রহ করতে পারে।’

বিবৃতিতে নেতারা দাবি আদায়ের কৌশল হিসাবে রোগীদের জিম্মি করার প্রবণতা বন্ধ, চট্টগ্রামে চিকিৎসা ব্যবস্থায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি এবং উস্কানিমূলক কর্মসূচি দিয়ে সাংবাদিক, জনগণ এবং চিকিৎসকদের মুখোমুখি করা থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সব মহলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

পাশাপাশি এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, ছাত্র-যুব-শ্রমিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সিইউজে নেতারা।