চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

হারিয়ে যাচ্ছে লোকজ ঐতিহ্য মাছ ধরার ‘চাই’

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৫ ১১:১৯:০৮ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০৫ ১১:২১:৩৪

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

দেশের গ্রামীন জনপদের অন্যতম লোকজ উপকরণ মাছ ধরার‘‘চাই’’। কোথাও কোথাও এই চাইকে বলা হয় আনতা। মিরসরাই উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন ছরা ঝর্ণা কিংবা মাঠের পাশের ডোবার কোল ঘেষে এই আনতা বা চাই এক সময় বহুল প্রচলিত ছিল। দিনে দিনে যেন কালের পরিক্রমায় হারিয়ে যাচ্ছে এই চাই।

ভরা বর্ষাতে কাঙ্খিত বৃষ্টি পাত হলে নদী-নালা ও জমিতে প্রয়াজনীয় পানির দেখা মিললেও দেখা মিলেনা এখন চাই ব্যবহার। কৃষকেরা মৌসুমের আমন আবাদ শুরু করে দিয়েছেন চলছে চারা রোপনের কাজ। আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবন চলছে আকাশের মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। ভরা বর্ষাতে নদী নালা খাল-বিল যখন থই থই তখন উপজেলার মিঠানালা, দুর্গাপুর, ইছাখালী, কাটাছরা, ওচমানপুর, হিঙ্গুলী, ওয়াহেদপুর, হাইতকান্দি, ধূমসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা মেলেনি চাই দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য। এতে কওে প্রতি বছর চাই বিক্রি ক্রমান্বয়ে কমেই চলছে।

উপজেলার মিঠাছরা, আবুতোরাব, শান্তিরহাট, আবুরহাটহাটে এক সময় চাইবিক্রি হতো অনেক বেশি। আর এখন হাট ঘুরে দেখা গেছে, মৌসুমে মাছ ধরার চাই কেউ একজন নিয়ে এলেও বসে আছেন বাঁশের তৈরির কারিগররা ক্রেতার অভাবে। নিপুণ হাতের তৈরি এসব চাই বিক্রি হচ্ছে খুবই কম।

উপজেলা সদর থেকে আমবাড়িয়া গ্রামে যাবার পথে দেখা হয় চাই বিক্রেতা সুজন চন্দ্রের সাথে। কাঁধে ভার বোঝাই চাই । কোথায় যাচ্ছেন জানতে চাইলে বললো বিক্রি করতে এসেছি চাই। জানালেন এখন আগের মতো বিক্রি হয়না। অনেক চাই বানিয়ে ছিলাম হাটে বিক্রি হচ্ছেনা দেখে গ্রামে হেঁটে হেঁটে বিক্রি করা যায় কিনা দেখছি।

সুজন জানান, চাই তৈরির বাঁশ ক্রয় করে এ কাজে বাড়ির গৃহিণী থেকে শুরু করে ছেলে- মেয়েরাও সহযোগিতা করে। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে এসব তৈরি করে থাকেন তারা। এসব তৈরিতে প্রকারভেদে খরচ পড়ে ৫০ থেকে ৩শ’ টাকা। আর তা বিক্রি হয় ১শ’ থেকে ৫শ’ টাকায়। কিন্তু দিন দিন কমে যাচ্ছে চাই বিক্রি ।

এসব তৈরিতে আগের চেয়ে তৈরির খরচও বেড়েছে। ফলে আগের মতো আর লাভ হয়না। এমনিতে নদী- নালা ও জমিতে পর্যাপ্ত পানি হলেও নেই কোন মাছের দেখা। এছাড়া দেশি মাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে চাই আর আগের মতো বিক্রি হচ্ছেনা।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের রবিউল হক বলেন, বর্ষা মৌসুমে আমি চাই দিয়ে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ কেজি মাছ ধরতাম, তা বিক্রি হত ৪ শত টাকা। যা দিয়ে আমার সংসার চলতো কিন্তু বর্তমানে খাল-বিল ভরাট থাকলেও দেখা মিলছেনা মাছের তাই অন্য কাজ কওে চলতে হচ্ছে।

প্রতিদিন বিকেলে বাড়ির আশপাশে, ক্ষেতের আইলে, খালের কিনারে ও ডোবা জলাশয়ের কিনাওে মাছেরা বেশি আনা গোনা কওে এমন বিভিন্ন স্থানে চাই পাতা হয়। পরদিন সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে আনতা গুলো থেকে ছোট মাছ ধওে আন নিজ নিজ এলাকার মানুষ।

যেখানে মৎস্য সম্পদ বেকারত্ব দূরীকরণ আমিষের অভাব পূরণ সহ মাছ চাষে দেশের উন্নয়নের অগ্রধিকার রাখবে সেখানে দিনে দিনে কমছে মাছ চাষ। চাষা বাদে প্রয়োগ করা হচ্ছে অতিরিক্ত কীটনাশক যার ফলে বিলুপ্তি হচ্ছে সু-স্বাধু দেশি প্রজাতির মাছ। হারিয়ে যাচ্ছে নিপুণ হাতের তৈরি চাই।