চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

ম্যাক্স যেন মৃত্যুফাঁদ!

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৪ ২০:১৭:০৮ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০৫ ১১:২৪:৪১

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রুটিপূর্ণ লাইসেন্স, নিয়ম না মেনে অাবাসিক এলাকায় হাসপাতাল পরিচালনা, মেয়াদবিহীন ওষুধ সরবরাহ, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল ‘ম্যাক্স’র বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি সাংবাদিক কন্যা রাইফার মৃত্যুর পর হাসপাতালটি বন্ধের জোর দাবি উঠেছে।

ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, ম্যাক্স হাসপাতালের লাইসেন্স ত্রুটিপূর্ণ। তিনি সাংবাদিক কন্যা রাইফার মৃত্যুর কারণ তদন্তে এসে রবিবার রাতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এর আগে সমকালের সাংবাদিক রুবেল খানের অাড়াই বছর বয়সী শিশুকন্যা রাইফাকে বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতালটিতে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার গভীর রাতে রাইফা সেখানে মারা যায়।

রাইফার পরিবারের অভিযোগ, ভুল ওষুধ প্রয়োগ পরবর্তী দায়িত্বে অবহেলার কারণে রাইফা মারা গেছে।

রাইফার বাবা রুবেল খান বলেন, যেদিন ভর্তি করেছি রাইফাকে, সেদিন চিকিৎসক একটি অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে অামার মেয়েকে। এরপর সে ছটফট করেছিল। অামি ডাক্তারকে সেটা জানিয়েছি। শুক্রবার রাতে একই ওষুধ রাইফাকে দেয়া হয়। এর এক ঘন্টা পর তার খিচুনি আসে। অথচ চিকিৎসক এর মধ্যে কোনো চেষ্টা করেনি।

‘যদি চিকিৎসক চেষ্টা করতো, তাহলে মনকে বুঝাতে পারতাম। চেষ্টার পরেও মেয়েকে বাঁচাতে পারেনি। কিন্তু ডাক্তাররা সেটা করেনি। অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় অামার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এর জন্য জড়িতদের বিচার দাবি করছি আমি।”

অন্যদিকে জাহাঙ্গীর নামে পুলিশের এক সদস্য ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ভুল ট্রিটমেন্টে শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া।

জাহাঙ্গীর এখন বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, ডা. অামিনুল ইসলাম অাজাদ অামার স্পাইনাল সার্জারি করান তিন বার। কিন্তু এখনো সুস্থ হতে পারিনি।

এর আগেও ম্যাক্স হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও গাফিলতির কারণে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল চট্টগ্রাম শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশে অনেক ভুক্তভোগী সেখানে অভিযোগ করেছেন।

কিন্তু ডাক্তারদের সংগঠন বিএমএ’র চাপে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। রাইফার মৃত্যুর অভিযোগ কেন্দ্রকে এবারও মাঠে নেমেছে বিএমএ।

ইতোমধ্যে সংগঠনের সেক্রেটারি ডা. ফয়সাল ইকবালের নেতৃত্বে মাঠে নেমেছে নেতাকর্মীরা। সোমবার সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে চিকিৎসা না দিয়ে মানববন্ধন করেছে। এতো সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তবে ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য সাধারণ চিকিৎসকদের ভুল তথ্য মাঠে নামাচ্ছেন বলে ডা. ফয়সালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

বিতর্কিত এই চিকিৎসক নেতার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। তার বিরুদ্ধ সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ সম্পদের অর্জন, চমেক হাসপাতালে সব ধরণের কাজের টেন্ডার বাগিয়ে নেয়া, জামাতের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অাতাঁত করে চলা, ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনদের হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অানীত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এমডি ডা. লিয়াকত অালী খান বলেছেন, রাইফাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি। হাসপাতালের লাইসেন্স অাছে, তবে নবায়ন করতে হবে।