চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে তলিয়ে গেছে রাউজান ও লোহাগাড়া

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৪ ১৫:৪৮:১৩ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০৪ ১৭:৫৪:৪৬

প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রামের রাউজান ও লোহাগাড়া উপজেলার বিস্তির্ণ এলাকা। রাউজানে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের বেশ কিছু অংশ তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রাঙ্গামাটি।

চট্টগ্রামে সোমবার (২ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি এখনও চলছে। বৃষ্টি শুরুর পর থেকে রাউজান ও লোহাগাড়া উপজেলায় পাহাড় থেকে নেমে আসছে ঢলের পানি। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে লোহাগাড়ার ডলু খালের পানি। এছাড়া পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে রাউজানের হালদা ও রাঙ্গুনিয়ার ইছামতিতে।

রাউজান হাইওয়ে পুলিশের ওসি আব্দুল করিম জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাউজানের বিভিন্ন স্থানে পানিতে রাস্তা তলিয়ে গেছে। এজন্য গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল থেকে রাঙ্গামাটির সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

রাউজান পৌরসভার মেয়র দেবাশীষ পালিত  জানান, পাহাড়ি ঢলে রাউজানের কাসখালী, ডাবুয়া ও সর্ত্তা খালের পাড় ভেঙে বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। পানিতে ডুবে গেছে উপজেলার হলদিয়া, ডাবুয়া, চিকদাইর, নোয়াজিষপুর, গহিরা, বিনাজুরি, রাউজান পৌর এলাকার সুলতানপুর, কুন্ডেশ্বরী, জলীল নগর, শাহনগর, ছিটিয়াপাড়া, দায়রা ঘাটা, জানালীহাট, মুন্সিরঘাটা, বেরুলিয়া,, ছত্তরপাড়া, দারোগা বাড়ে, গুরামিয় মুন্সির বাড়ি, হাজীপাড়া, রাউজান সদরসহ বিস্তির্ণ এলাকা।

এদিকে বৃষ্টি শুরুর পর রাউজানের সংসদ সদস্য এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি নিজে সরেজমিনে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

প্রবল বর্ষণে লোহাগাড়ার ডলু খালের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খালের বিভিন্ন স্থানে পাড় ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তির্ণ গ্রাম ও বেশ কিছু মাছের প্রজেক্ট। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এস এম ইউনুছ জানান, উপজেলার পুটিবিলা এলাকায় একটি ব্রিজ ও আমিরাবাদ ঘোনাপাড়া এলাকায় একটি সাঁকো ভেঙে গেছে। এছাড়া উপজেলার আধুনগর, আমিরাবাদ অংশে ডলু খালের ভাঙনে এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নের তেওয়ারীখিল হিন্দু পাড়া এলাকা, ঘোনার পাড়া ও মহুরী পাড়া এলাকায় টংকাবতী নদীর বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে প্লাবিত হয়েছে। সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় জনসাধারণের যাতায়াতে বেশ অসুবিধা হচ্ছে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু আসলাম বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সংবাদ পেয়েছি। ইতোমধ্যে লোহাগাড়ার কলাউজান, পদুয়া, চরম্বা, বড়হাতিয়া ও চুনতি এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

এদিকে বরাবরের মতোই হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। সকাল থেকে স্কুল-কলেজ ও অফিসগামী যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। টানা বৃষ্টিতে হাটহাজারী উপজেলার, মেখল, গড়দুয়ারা, মাদার্শা, গুমান মর্দন, নাংগলমোড়া, ছিপাতলীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া পৌর সদরের মোহাম্মদপুর এলাকার কিছু অংশ পানিতে ডুবে গেছে।