চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

মাদকের কারণে তুহিনের নিষ্ঠুরতা?

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৪ ১৫:৩৮:০১ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০৪ ১৫:৩৮:০১

পাবনার বেড়া উপজেলায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবীর পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বুধবার ভোরে উপজেলার নতুনভারেঙ্গা ইউনিয়নের সোনাপদ্মা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মা বুলি খাতুন, ছোট ভাই তুষার ও আপন খালা মরিয়মকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যার পর অভিযুক্ত তুহিন পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা জানতে পেরে থানায় খবর দিলে সকালে পুলিশ বাড়ির উঠোন থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। লোমহর্ষক এ ঘটনায় এলাকাবাসী হতভম্ব ও শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে। ঘুমন্ত মা, ভাই ও খালাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার এ বিবরণ দেন প্রত্যক্ষদর্শী রুনা খাতুন।

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাছান বলেন, তুহিনের বাবা ও খালু (মরিয়ম খাতুনের স্বামী) ঢাকায় থাকেন। তাদের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাজকর্ম করা নিয়ে তুহিনের সঙ্গে তার মা বুলবুলি খাতুনের কথা-কাটাকাটি হয়। আজ ভোরে তুহিনের স্ত্রী রুনা আক্তার প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন, তার স্বামী চাপাতি দিয়ে মা বুলবুলি খাতুন, ছোট ভাই তুষার ও খালা মরিয়ম খাতুনকে হত্যা করেছেন। প্রতিবেশীরা বাড়ির উঠানে গিয়ে তিনজনের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

তুহিনের স্ত্রী রুনা খাতুন পুলিশকে জানিয়েছেন, ফজরের আজানের কিছু আগে শাশুড়ির গোঙানীর শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আমার। চোখ খুলে দেখি স্বামী তুহিন পাশে নেই। দরজা খুলে বাইরে যেতেই দেখি বাড়ির উঠোনে রক্তাক্ত অবস্থায় শাশুড়ি, ছোট দেবর ও খালা শাশুড়ির মরদেহ পড়ে আছে। পাশে ধারালো অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আমার স্বামী আমাকে দেখেই বলে ওঠে, ‘সব কটারে শেষ করে দিলাম।’ আমি ভয়ে পাশের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেই।

তুহিনের স্ত্রী রুনা খাতুন আরো জানিয়েছেন, দুই মাস আগে তার স্বামী টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়। তারপর থেকে তুহিনের মেজাজ খিটখিটে ও ভারসাম্যহীন আচরণ ছিল। তুচ্ছ ঘটনায় মানুষের সাথে ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে পড়তো।

এদিকে এলাকাবাসী জানান, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নের সোনাপদ্মা গ্রামের মিঠু কানার বড় ছেলে তুহিন (১৫) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। সে স্থানীয় ভারেঙ্গা একাডেমির দশম শ্রেণির ছাত্র। মাস ছয়েক আগে একই স্কুলের সহপাঠী রুণার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের ওপর অত্যাচার করতো। তুহিনকে মাদকাসক্ত বললেও পুলিশ এই বিষয়ে নিশ্চিত নয়।

বেড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশিষ বিন হাসান জানান, তুহিন কেন, কি কারণে সে তার পরিবারের তিনজকে হত্যা করেছে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।