চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

‘সমন্বয়হীনতাই চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা’

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৩ ১৮:৩০:০৯ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০৩ ১৯:৪৬:২২

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জলবদ্ধতা নিরসনে হাজার কোটি টাকা খরচ করলেও সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে এখন পর্যন্ত এর কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা।

আগে টানা কয়েক ঘন্টার বৃষ্টির সাথে জোয়ারের পানি প্রবেশের কারণে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও এখন আধ ঘন্টাণও কম সময়ের বৃষ্টিতে ডুবে যাচ্ছে বন্দরনগরী । জলবদ্ধতা নিরসন সিটি কর্পোরেশনের এখতিয়ার বর্হিভূত বলে দায় এড়াচ্ছেন মেয়র। আর সিডিএ চেয়ারম্যানের দাবি, সবগুলো প্রকল্প শেষ হলেই জলবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে নগরবাসী।

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে থেকেই সামান্য বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাচ্ছে নগরীর বেশিরভাগ এলাকা। এখন জোয়ারের পানি নগরীতে প্রবেশের আগেই পুরো নগরী হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যায়। অথচ এ জলবদ্ধতা নিরসনে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে।

সর্বশেষ অনুমোদন দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু তার পরও ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর। এতোদিন জলবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশন কাজ করলেও এখন সে দায়িত্ব পালন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

আবদুচ ছালাম (চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) বলেন, টাকা যত প্রয়োজন হবে হোক, চট্টগ্রামকে জলবদ্ধতা মুক্ত করতেই হবে।

ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশন সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়েছে, জলবদ্ধতা নিরসন তাদের কাজ নয়।

আ জ ম নাছির উদ্দিন (মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন) গণমাধ্যমকে বলেন, সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এই সমস্যার সমাধান হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, জলবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে গেলে সিডিএ এবং সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই।

স্থপতি আশিক ইমরান (নগর পরিকল্পনাবিদ) বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষর দাবি যৌক্তিক কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে দেরি হয়েছে এটিও ঠিক।

প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম( সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) দুইদিন পর ওয়াসা খোড়াখুড়ি শুরু করলে আমরা বেনিফিট পাবো না।

বৃষ্টির পানি সরে যাওয়ার পাশাপাশি সাগরের জোয়ারের পানি চলাচলে এক সময় নগরীতে ৩৪টি খাল ছিলো। কিন্তু দখল, দূষণ ও ভরাটের কবলে পড়ে অধিকাংশ খাল’ই অস্তিত্ব হারিয়েছে। বর্তমানে চাক্তাই, রাজাখালী এবং মহেশখালসহ মাত্র কয়েকটি খাল তাদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।