চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

কুমিল্লার মামলায় খালেদার জামিন স্থগিত

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০২ ১১:৩৯:২২ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০২ ১৫:১০:৩৫

কুমিল্লায় বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে চৌদ্দগ্রাম থানায় করা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত রেখেছেন আপিল বিভাগ।
এছাড়া আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে জামিন প্রশ্নে রুল নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

আজ(সোমবার) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ কয়েকজন।

এছাড়াও আদেশের সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। গত ২৪ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজ সোমবার দিন ঠিক করেন আদালত।

এর আগে ২০ মে হাইকোর্টে ওই দুই মামলায় জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ২৮ মে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ কুমিল্লার নাশকতার দুই মামলায় খালেদাকে জামিন দেন। এ জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর ২৯ মে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত রেখে ৩১ মে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির আদেশ দেন। সে অনুসারে ৩১ মে শুনানির পর আপিল বিভাগ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত রেখে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল করতে আদেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ লিভ টু আপিলের নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

২০১৫ সালে কুমিল্লায় বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার ঘটনায় একটি নাশকতার মামলা হয়। এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপির ৬ শীর্ষস্থানীয় নেতাকেও হুকুমের আসামি করা হয়। এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় ৮ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে আরও দুটি মামলা করে পুলিশ।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, ১৫ আগস্ট ‘ভুয়া জন্মদিন’ পালন মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিনি।