চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮

হালিশহরে পানিবাহিত রোগে মৃত্যু, ওয়াসা-স্বাস্থ্য বিভাগ মুখোমুখি

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২৮ ১০:২২:৪৩ || আপডেট: ২০১৮-০৬-২৮ ১২:২৪:৩৪

চট্টগ্রামের হালিশহরে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত একমাসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মুখোমুখি অবস্থানে চট্টগ্রাম ওয়াসা ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

ওয়াসার পানিতে জীবাণু রয়েছে মর্মে জেলা সিভিল সার্জন ডা.আজিজের এমন বক্তব্য মানতে নারাজ ওয়াসার এমডি একেএম ফজলুল্লাহ।

সিভিল সার্জন আজিজুল রহমান সংবাদ সম্মেলন করে ওয়াসার পানিতে জীবাণু আছে দাবি করলেও ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ বলছেন, সিভিল সার্জনের বক্তব্যের কোন ভিত্তি নেই। বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনের উদ্বৃতি ছাড়া এ ধরণের বক্তব্য খুবই দু:খজনক।

সিভিল সার্জন ডা.আজিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, ওয়াসার পানির পাইপ লাইনের মেরামত কাজের জন্য ব্যাপকভাবে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। ফলে বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানি একাকার হয়ে ওয়াসার পানির সাথে নানা জীবাণু মিশে যাচ্ছে।

বুধবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন জানান, এতদিন চুপ ছিলাম। সাধারণ জনগণের কথা ভেবে আর চুপ থাকতে পারছি না। ওয়াসার পানিতে সমস্যা আছে। পানির সমস্যা সমাধান না করলে জন্ডিস (হেপাটাইটিস ই ভাইরাস) ও পানিবাহিত রোগের সমাধান করা সম্ভব নয়।

তিনি ওয়াসার দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, সাংবাদিকদের কাছে পানিতে জীবাণু নেই দাবি না করে হালিশহর এলাকায় যান। এলাকার মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেন। এলাকার মানুষজন ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ আছে সেটি দেখিয়েছেন। কোথায় লিক আছে দেখেন।

তবে শুধু ওয়াসার দোষ দেখছেন না এ সিভিল সার্জন। পানিবাহিত রোগ বাড়ার পেছনে হালিশহর এলাকার মানুষজনের অসচেতনতাকেও দায়ী করেন আজিজুল রহমান সিদ্দিকী।

তিনি প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার তাগিদ দিয়ে বলেন, এলাকায় এমনও পানির ট্যাংক আছে যেগুলো অনেক বছর ধরে পরিষ্কার নেই। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সেগুলো পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা দরকার।

এছাড়া একটু করে বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা হয়ে যায়। এসময় টয়লেটের পানি আর খাবার পানি একাকার হয়ে যায়।

এসব বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে স্বাস্থ্য বিভাগ হাজারও কাজ করলে কোনো ভালো ফলাফল আসবেনা বলে জানান সিভিল সার্জন।

চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ১৭৮ জন জন্ডিসে আক্রান্ত রোগী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত দুই মাসে সরকারি হাসপাতালে ১৭৮ জন জন্ডিস রোগী আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য পানিবাহিত রোগীর সংখ্যাতো আছেই। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ রোগী ভালো হয়ে গেছেন।

এদিকে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, সিভিল সার্জন সংবাদ সম্মেলন করে হালিশহর এলাকায় ওয়াসার পানিতে জীবণু রয়েছে এমন দাবি করেছেন। তিনি কীভাবে জানলেন ওয়াসার পানিতে জীবাণু রয়েছে? আমরা নিজেরাই ওয়াসার পানির স্যাম্পল বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়েছে। তারা সেখানে কোন সমস্যা পাননি। এরপরেও সিভিল সার্জনের এরকম মন্তব্য আমরা বিস্মিত।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, ঢাকা থেকে তদন্ত করতে আসা রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) দুই সদস্য ডা. হুসাম ও ডা. মারুফ।

এসময় ডা. মারুফ বলেন, গর্ভবতী মহিলা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শতকরা ৩০-৪০ ভাগ রোগী মারা যান। অন্যান্য ক্ষেত্রে রোগী মারা যাওয়ার সম্ভাবনা এক ভাগ।

তিনি বলেন, আমি গত দুমাস আগেও তদন্ত করতে এসেছিলাম। সরকারি হাসপাতালে ১৭৮জন রোগী শনাক্ত হলেও কয়েক হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই এ বিষয়ে সাধারণ মানুষজনকে যেমন সচেতন করা দরকার, পাশাপাশি প্রশাসন ও পানি ব্যবস্থাপনা কমিটিকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার।