চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামে ছয় বছর ধরে একই কায়দায় আড়াই হাজার বাসা-বাড়িতে চুরি

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২৪ ২০:১৬:২৮ || আপডেট: ২০১৮-০৬-২৫ ১২:৪১:৪৮

ছয় বছর ধরে একনাগাড়ে একই কায়দায় আড়াই হাজার বাসা-বাড়িতে চুরির অভিযোগে গ্রিল কাটায় বিশেষজ্ঞ ৬ চোরকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর (সিএমপি) পুলিশ। অভিজ্ঞ এই চোর দলের গ্রেফতার সদস্যরা হলেন- মো. বশির ওরফে বশর ওরফে বাচ্চু (৪৫), জসিম উদ্দিন ওরফে জসিম (৪২), মো. রুবেল (২৭), মো. জসিম (৩৫), মো. ওসমান গণি (২৯) ও নারায়ণ বনিক (৬০)।

শনিবার দিনগত রাতে নগরের বিভন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আর গ্রেফতারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ছয় বছর ধরে আড়াই হাজার বাসা-বাড়িতে চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়ে সিএমপির সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নেজাম উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারের পর তাদের স্বীকারোক্তি মতে চুরির কাজে ব্যবহৃত দুইটি রেঞ্জ, একটি কাটার, তিনটি স্ক্রু ড্রাইভার, ও দুইটি কোরা বারি উদ্ধার করা হয়।

ওসি বলেন, গত ১৩ জুন রাতে নগরের সদরঘাট থানা এলাকার কবি নজরুল ইসলাম রোডের একটি বাসায় গ্রিল কেটে ও দরজা ভেঙে ৩০ ভরি সোনা, নগদ টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায় চোর চক্র। ঈদের ছুটিতে একইভাবে (১৫ থেকে ১৮ জুন) অভয়মিত্র ঘাট এলাকার আরেকটি বাসায় জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে তারা। ওই বাসা থেকেও ৩৫ ভরি সোনা ও নগদ টাকা নিয়ে যায় চোর চক্র। এই দুই ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমেই সন্ধান মিলে এই চোর চক্রের। পরে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ওসি নেজাম উদ্দিন আরো বলেন, সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে হাঁটতে বের হয় তারা। আর হাঁটার সময় লক্ষ্যকরে কোন ঘরের লাইট বন্ধ, কোন ঘরে কেউ নেই এসব। এরপরই টার্গেট ঠিক করে পুরো টিম মিলে ওই বাসায় হানাদেয়। তবে চুরির সময় পুলিশের উপস্থিতি দেখেই দলের সদস্যদের মোবাইলে মিসকল দিয়ে সতর্ক করে দলের সদস্য ওসমান গণি। এই জন্য চুরির সময় রাস্তায় দায়িত্বে থাকে সে। আর অন্য সদস্যরা চুরি করে বেড়িয়ে আসে। পরে চুরির মান অনুযায়ী লুন্ঠিত সম্পদ ভাগাভাগি করে নেয় তারা।

ওসি আরও বলেন, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নারায়ন বনিক স্বীকার করেছেন কোনো বাসায় চুরির পর নারায়ন বনিকের কাছে প্রতি ভরি সোনা ২৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করতো চোররা। চোরদের কাছ থেকে কেনা সোনা গলিয়ে হাজারী গলিতে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দিত সে।

আর যখন চোরদের কোনো চুরির সুযোগ থাকতো না, তখন নারায়ন তাদেরকে খরচের টাকা দিয়ে চালিয়ে নিত।