চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮

‘নতুন নিয়মে’ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় লোক নিয়োগ স্থগিত

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২৩ ১৭:৩২:৫১ || আপডেট: ২০১৮-০৬-২৩ ২৩:০৯:৩৪

নির্ধারিত ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে চলমান প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় লোক নিয়োগ স্থগিত করেছে দেশটির সরকার।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারান বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে প্রবাসী কর্মী নেয়ার বর্তমান যে প্রক্রিয়া রয়েছে সেটি স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া চলছে – এমন অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ থাকবে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সিন্ডিকেট এ প্রক্রিয়াকে মানব পাচারে ব্যবহার করছে এবং অভিবাসীদের সাথে প্রতারণা করছে।

শুক্রবার মালয়েশিয়ার ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য স্টার’র অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের ঘোষণা দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে ২০১৬ সালে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকটি মালয়েশিয়া সরকার পুনর্বিবেচনা করবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন কুলাসেগারান।

তবে এতে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানো বন্ধ হচ্ছে না। কেননা তদন্ত শেষে সিদ্ধান্তে আসার আগ পর্যন্ত লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

স্টারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ২০১৬ সালে শ্রমিক পাঠানোর ব্যাপারে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। ওই স্মারকের অধীনে সরকার ছাড়াও শ্রমিক নিয়োগের জন্য বাংলাদেশের ১০টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয়া হয়। এর আগে শুধু সরকারই মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠাতে পারত।

স্টার অনলাইন অভিযোগ করে, বাংলাদেশের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর কারণেই স্মারকটি সই হয়েছিল। নাম প্রকাশ না করে তাকে ‘দাতুক সেরি’ হিসেবে উল্লেখ করে স্টার বলে, ওই ব্যক্তির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে খাতির রয়েছে। তার ছত্রছায়ায়ই এই ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি রাতারাতি গজিয়ে ওঠে। হাজার কোটি টাকার এই মানবপাচার ব্যবসাকে ‘বৈধতা’ দেয়ার পেছনে তার ভূমিকাই প্রধান।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় একজন শ্রমিক পাঠাতে খরচ হয় দুই হাজার রিঙ্গিত। আর সেখানে বাংলাদেশি একটি চক্র নিচ্ছে ২০ হাজার রিঙ্গিত। এভাবে দু’বছরে একটি চক্র ২শ’ কোটি রিঙ্গিত হাতিয়ে নেয়।

প্রতিবেদনে দাতুক সেরির বর্ণনা হিসেবে জানানো হয়, তার বয়স ৫০ বছরের মতো এবং তিনি ১৫ বছর আগে এক মালয়েশীয় নারীকে বিয়ে করেন।

এ বিষয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব নমিতা হালধার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না বলে জানান।