চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

মিরসরাইয়ের কচুয়ায় কচু আবাদ করে স্বাবলম্ভী অনেক কৃষক

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২৩ ১৪:৪৮:২৩ || আপডেট: ২০১৮-০৬-২৪ ১০:০১:২৯

পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় এবার ফলন নিয়ে চাষিরা খুশি

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

কচু দেশের সবজির মধ্যে পরিচিত একটি নাম। কচু আবাদ করে শাক, লতি, ফুল (পোঁপা) ও লতি বিক্রি করেন কৃষকরা। অর্থাৎ একের ভেতর পাঁচ। সবজি ভান্ডার হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার অনেক গ্রামে কচু আবাদ করেই স্বাবলম্বি হয়েছেন শত শত পরিবার। উন্নত জাতের এইসব কচুর চাহিদা বৃদ্ধিতে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে কচুর চাষাবাদ। আগামী দিনে আরো সুফল আনছে কৃষি বিভাগের লতিরাজ কচু।

উপজেলায় পানি কচু উঠতে শুরু করেছে বাজারে। ইতিমধ্যে চাষিরা কচু তুলতে শুরু করেছেন। উপজেলার কয়েকটি গ্রামে কচু আবাদ করেই স্বাবলম্বী কয়েকটি গ্রামের শত শত পরিবার। কচু মূলত পানিতে জন্মে। প্রচুর বৃষ্টির কারণে এবার কচুর আবাদ ভালো হয়েছে। জানা গেছে, উন্নত জাতের এইসব কচুর চাহিদা বৃদ্ধিতে শুধু মিরসরাই নয় আশেপাশের কয়েকটি উপজেলায়ও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে কচুর চাষাবাদ।

মিরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের একটি ও হাইতকান্দি ইউনিয়নের একটি গ্রামের নামই কচুয়া। এই কচুয়া গ্রামের কয়েক শত পরিবার এই শ্রাবন ভাদ্র মাসের বর্ষন দিনে ব্যস্ত থাকে শুধু বড় বড় বিশালাকার কচু ক্ষেত নিয়ে। একেক কচু চাষির খেত থেকে হাজার হাজার কচু তুলে নিচ্ছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে। কোথাও কোমর পানি কোথাও হাটুর উপরের পানিতে দাঁড়িয়ে জমি থেকে বড় বড় কচু গুলো কেটে, উপরের কিছু পাতা ছেটে, নিচের দিকের কেশ সাদৃস্য কচুর গোছা গোছা শেকড় গুলো ছেটে ফেললে বিশাল দেহি কচুটি মুহুর্তেই স্লীম আকারে সঙ্গিদের সাথে স্তুপাকারে থেকে চলে যাচ্ছে ৫০-১০০টির আঁটিতে। সেখান থেকে সিএনজি বা ভ্যানে করে মহাসড়কের হাটে। সেখান থেকে পাইকারদের ট্রাকে চড়ে ঢাকা চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণীর হোটেল রেস্তোরায়। কচুয়া গ্রামের পাশাপাশি উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার প্রায় অনেক গ্রামে এখন কচু চাষ করছেন কৃষকরা।

মিরসরাইয়ের আবাদকৃত কচু যথেষ্ট সুনামের অধিকারী। তাই এখানকার কচু বাজারে সমাদৃত বেশ।

সরেজমিনে মিরসরাই- মলিয়াইশ রুটের সড়করে পাশেই দৃষ্টিগোচর হয় নাজিরপাড়া নিকটবর্তি পোদ্দার তালুক গ্রামের দোলন মিয়ার ৪৫ শতক জমিতে ১৩ হাজার কচুর একাংশের উত্তোলন করছিল শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম ও চান মিয়া সহ অনেকে। বৃদ্ধ চান মিয়া বলেন প্রতিটি কচু পাইকারি ৪০ টাকা করে বিক্রয় হচ্ছে। মোট কচু বিক্রয় হবে এবার প্রায় ৬ লাখ টাকার। তবে অর্ধেক চলে যাবে চাষাবাদ, শ্রমিক ও যাতায়াত ব্যয়ে।

কচু পরিস্কার কালে ব্যস্ত হোসাইন মিয়া বলেন ‘এখন শুধু এই গ্রামে না আসে পাশের সব গ্রামেই অনেক কচুর চাষ হচ্ছে। প্রতিদিন দিনভর কচু পরিস্কার করে বেঁধে নিয়ে সবাই পরদিন সকালে হাটে নিয়ে যায় পাইকারদের কাছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ৬০ হেক্টর জমিতে কচু চাষ হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে মঘাদিয়া ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাজী নুরুল আলম বলেন, ইতিমধ্যে জল কচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। কচু আবাদে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। চলতি বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় কচুর ফলন ভালো হয়েছে।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মদ জানান, উপজেলার অনেক এলাকায় বর্ষাকালীন সময়ে কচু চাষের যথেষ্ট উপযোগি। ইতিমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে দেশী কচুর পাশাপাশি আমরা লতিরাজ নামের একটি কচু কৃষকদের ফলনের পরামর্শ দিয়েছি। যার সুফল এখন সংযোজন হচ্ছে।