চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

বিএনপির নির্বাচন করার যোগ্যতা আছে কিনা সেই প্রশ্ন তুলতে পারে আ.লীগ

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১৮ ১০:৫২:৫৯ || আপডেট: ২০১৮-০৬-১৯ ১০:০৮:১৮

বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার যোগ্যতা রাখে কিনা তা নিয়ে দেশবাসীর কাছে ফলাও করে প্রচারে নামার কৌশল নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচন পর্যন্ত এই প্রচারণা অব্যাহত রাখবে। আন্তর্জাতিক আদালতে বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে আখ্যায়িত হয়েছে, দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অর্থ আত্মসাতের মামলায় আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত, কারান্তরীণ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দুর্নীতি-লুটপাটের মামলায় দণ্ডিত এবং ফেরার আসামি। নির্বাচনের আগে এসব ইস্যু কাজে লাগিয়ে দলটির নির্বাচন করার আইনগত কোনও বৈধতা থাকে কিনা সেই নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে। এসবের ব্যাপারে আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখা শুরু করেছে তারা। এগুলো দেখছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিশিষ্ট আইনজীবীরা। এ ব্যাপারে আইনি কোনও বাধ্যবাধকতা থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে ক্ষমতাসীনদের। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এসব নেতা জানিয়েছেন, বিএনপিকে নিয়ে উল্লেখিত ইস্যুগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।বিশেষ করে বিএনপি যে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন ভোটের আগে এটি নিয়ে ব্যাপক প্রচারে নামবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জানান, এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশেও (আরপিও) বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও বিধি-বিধান পাওয়া যায় কী না তার চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। সেখানে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনও সুযোগ থেকে থাকলে নিশ্চয়ই সে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, বিএনপি যে আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে রায় দিয়েছে কানাডার ফেডারেল কোর্ট এটা দেশের মানুষের জানা রয়েছে। দুর্নীতি,লুটপাট ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান দণ্ডিত। জনগণের মধ্য থেকে তাদের বর্জনের দাবি উঠতেই পারে।
তিনি বলেন, এগুলো ভাবলে নিশ্চয়ই বিএনপির বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে কিনা সেটি অবশ্যই প্রশ্ন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের কয়েকজন বিশিষ্ট আইনজীবী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাজাপ্রাপ্ত এবং দেশের ও আন্তর্জাতিক আদালতে তাদের দল সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিযুক্ত। এই অবস্থায় এই সংগঠনের রাজনীতি করার অধিকার আইনত কতখানি আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি কোনও বিধি-নিষেধ থাকলে আমরা নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবো।

ওই আইনজীবীরা বলেন, কানাডার কোর্টে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে বিএনপি চিহ্নিত হয়েছে। এর ফলে বিএনপির বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলাও করার চিন্তা করছে তারা।
দলের সভাপতিমণ্ডলীর অপর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থেকে এত অপরাধের সঙ্গে জড়িয়েছে যে তাদের রাজনীতি করার অধিকার এখন রয়েছে কী না তা নিয়ে নিশ্চয়ই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র নিশ্চিত জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে আইনি উদ্যোগ নিতে আইনজীবীদের এখনও কোনও সিগন্যাল দেওয়া হয়নি। তবে আইনজীবীরা আইনি মারপ্যাঁচ রয়েছে কিনা তা স্বপ্রণোদিত হয়েই খোঁজার চেষ্টা করছেন। তারা কোনও হেতু খুঁজে পেলে দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়কে তা অবহিত করে বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেবেন।- বাংলা ট্রিবিউন