চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রেকর্ড গড়লো নারী ক্রিকেট দল

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১০ ২৩:০১:৪৬ || আপডেট: ২০১৮-০৬-১০ ২৩:০১:৪৬

ভারত হারিয়ে অনন্য রেকর্ড গড়লেন সালমা-রুমানারা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে এই প্রথম কোনো শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ। ভারতের নারী ক্রিকেট দলকে ৩ উইকেটে হারিয়ে তারা এ ইতিহাস গড়েন।

রবিবার মালয়েশিয়ার কুলালামপুরে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে টস জিতে ভারতকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মেয়েরা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে কোনো শিরোপা জেতেনি বাংলাদেশ। সেটি ছেলেদের ক্রিকেট হোক কিংবা মেয়েদের। এর আগে ছেলেরা এশিয়া কাপের ফাইনালে খেললেও কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। অবশেষে সেই অধরা শিরোপা ধরা দিল মেয়েদের হাতে।

টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত খেলেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারলেও টানা চার জয় নিয়ে ফাইনালে উঠেছেন সালমারা। এই সিরিয়ে দুইবার ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন সালমা-রুমানারা।

নারী এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। পরে ১১২ রানেই থামিয়ে দেয় সালমারা। এতে করে সালমাদের সামনে ভারতকে সহজে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ট্রফি জেতার সম্ভাবনা হাতছানি দেয়।

এশিয়া কাপের এ আসরে দুর্দান্ত খেলছে বাংলাদেশের লাল-সবুজ প্রমীলারা। এখন পর্যন্ত খেলা নিজেদের প্রথম ম্যাচ ব্যতীত বাকি সব ম্যাচেই দাপট দেখিয়েছেন তারা। টানা জয়ের মধ্যে দিয়ে প্রথমবারের মতো এমন আসরের ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে হারের পর বিস্ময়করভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। পাকিস্তান, ভারত, থাইল্যান্ড ও স্বাগতিক মালয়েশিয়াকে দাপটের সঙ্গে হারিয়েছেন বাঘিনীরা। খেলায় প্রথম ইনিংসে শিরোপা ঘরে তোলার মিশনে নেমে বাংলাদেশের নারীদের বোলিংয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত।

বোলিংটা দারুণ হয়েছে বাংলাদেশের। প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ জিতে ইতিহাস গড়তে সালমাদের করতে হবে ১১৩। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১২ রানে থেমেছে ভারত।

গ্রুপ পর্বেই ভারতের ১৪২ রানের লক্ষ্য টপকে গেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ফাইনালে সেই ভারতের বিপক্ষেই ১১৩ রানের লক্ষ্যটা রুমানাদের জন্য খুব কঠিন হওয়া কথা নয়। তবে ব্যাটিংয়ে ভালো শুরুর ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। ফাইনালটা জিততে পারলে অনন্য এক ইতিহাসই গড়বে মেয়েরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে কখনো কোনো শিরোপা জেতেনি বাংলাদেশ, সেটি ছেলেদের ক্রিকেট হোক কিংবা মেয়েদের। দীর্ঘ এই শিরোপা-শূন্যতা দূর করার সুযোগ রয়েছে রুমানা-ফারজানাদের।

টসে জিতে বোলিংয়ে নেমে চতুর্থ ওভারেই ভারতীয় ওপেনার স্মৃতি মন্দনাকে(৭) রান আউট করেন সালমা। ভারতের রানের চাকাও শুরুতে ভালোই আটকে রাখে বাংলাদেশ। প্রথম ৫ ওভারের মধ্যে ২৩টি বল ‘ডট’ দিয়েছে বোলারেরা। রান তোলার চাপে পড়ে সপ্তম ওভারে দীপ্তি শর্মাকেও (৪) হারায় ভারত। তাঁকে সরাসরি বোল্ড করেন জাহানারা। ভারতের স্কোর তখন ৬.৪ ওভারে ২ উইকেটে ২৬। এখান থেকে ৬ রানের ব্যবধানে ভারতের আরও ২টি উইকেট তুলে নিয়েছে মেয়েরা। সাত, আট ও নয়-এই তিন ওভারে ৩ উইকেট হারায় ভারত।

দীপ্তি ফিরে যাওয়ার পরের ওভারেই ওপেনার মিতালি রাজকে (১১) তুলে নেন খাদিজা। নবম ওভারে আনজুয়া পাতিল (৩) আউট হয়েছেন নিজের কৃতকর্মের মাশুল গুণে। ৮.২ ওভারে রান নিতে গিয়ে নিজের প্রান্তে ফেরার সময় উইকেটরক্ষকের থ্রো দেখে তিনি উইকেট ঢেকে দৌড়ান। সালমারা ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউটের আবেদন করলে টেলিভিশন রিপ্লে দেখে আউট ঘোষণা করেন থার্ড আম্পায়ার। ১৩তম ওভারে ভেদা কৃঞ্চমূর্তিকেও তুলে নেন অধিনায়ক সালমা। তাঁকে বোল্ড আউট করেন এই স্পিনার।

১৫তম ওভারে একাই ২ উইকেট তুলে নেন রুমানা আহমেদ। দ্বিতীয় বলে তাঁকে ডাউন দ্য উইকেট এসে উড়িয়ে মারতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন তানিয়া ভাটিয়া (৩)। তিন বল পর শিখা পাণ্ডেকে (১) শামীমা সুলতানার ক্যাচে পরিণত করেন রুমানা। খাদিজার করা শেষ ওভারের প্রথম বলে রান আউটের শিকার হন ভারতের পেসার ঝুলন গোস্বামি। সতীর্থরা এক প্রান্তে তেমন ভালো করতে না পারলেও দলের ইনিংসটা বলতে গেলে একাই টেনেছেন ভারতের অধিনায়ক হারমনপ্রীত কাউর। ৪১ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল খাদিজা ও রুমানা। দুজনেই ২টি করে উইকেট নেন। তবে ভারতের রানের চাকা আটকে রাখায় দারুণ অবদান রেখেছেন নাহিদা আক্তার ও সালমা খাতুন। ১ উইকেট নেওয়া সালমা ১৩টি ‘ডট’ দিয়েছেন। নাহিদা উইকেট না পেলেও ১৬টি ‘ডট’ দিয়েছেন।