চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

‘ইলিয়াস ব্রাদার্স’র সামশুলকে খুঁজছে দুদক

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-০৭ ১৯:৫৬:১৫ || আপডেট: ২০১৮-০৬-০৭ ১৯:৫৬:১৫

অগ্রনী ব্যাংক থেকে নেয়া ১৫৫ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ঋণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দেশের ভোজ্যতেল শোধনকারী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইলিয়াস ব্রাদার্সের ব্যবস্থপনা পরিচালক সামশুল আলমকে (৫০) খুঁজছে দুদক।

দুদক বলছে, চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন সামশুল আলম ও তার পরিবার।

থানা সূত্র জানায়, গত ১৬ মে দুপুরে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সামছুল আলম। মামলায় আরও দশজনকে আসামি করা হয়েছে যাদের মধ্যে পাঁচজন অগ্রনী ব্যাংকের কর্মকর্তা।

দুদকের উপপরিচালক মো. সামছুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্যাক টু ব্যাক এলসি (ঋণপত্র) খুলে এবং জাল কাগজপত্রে মর্টগেজ দিয়ে ১৫৫ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছেন।২০১০ সাল থেকে পরবর্তী সময়ে এলসি খোলার নামে এবং ঋণ হিসেবে এসব অর্থ নেয়া হলেও তা পরিশোধ করা হয়নি।’

১৫৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলাটিতে আসামি সামশুল আলম ইলিয়াস ব্রাদার্সের ব্যবস্থপনা পরিচালক হিসেবে অগ্রনী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ওই ঋণের আবেদন করেছিলেন।

এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন, ইলিয়াস ব্রাদার্সের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আবছার (৪৯), পরিচালক মো. নুরুল আলম (৪২), জয়নব বেগম (৬৮), কামরুন্নাহার বেগম (৪২), তাহমিনা বেগম (৩৪), অগ্রনী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নুরুর আমিন (৫৬), সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক জোনায়েদ বোগদাদী (৬১), আগ্রবাদ শাখার সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার উদয় কুমার বিশ্বাষ (৬৩), বর্তমান সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার শাহজাদুল আলম (৪৯) ও প্রিন্সিপাল অফিসার ইয়াসিন ফারুকী (৫৬)।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আমদানিকৃত মালামাল থেকে টিআর সমন্বয় না করে ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ থেকে বিরত ছিলেন ইলিয়াস ব্রাদার্সের পরিচালকরা। এতে সহায়তা করেছেন অগ্রনী ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, তিনটি টিআর ঋণের প্রথম দফায় ৪৫ কোটি ৫৯ লাখ, দ্বিতীয় দফায় ৪৬ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার ও তৃতীয় দফায় ৬৩ কোটি ৩৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নানাভাবে চেষ্টা করেও ইলিয়াস ব্রাদার্সের কর্ণধার সামশুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

তবে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের চাপে বেশি দামে সয়াবিন তেল আমদানি করে কম দামে দেশের বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়াকে ঋণখেলাপি হওয়ার বড় কারণ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে উল্লেখ করেছেন ইলিয়াছ ব্রাদার্সের এমডি মোহাম্মদ সামশুল আলম।

গত বছরের ৯ জুলাই জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের শীর্ষ ১০০ জন ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেন। ওই তালিকায় ১ নম্বরে থাকা ইলিয়াস ব্রাদার্স ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি ১৫টি ব্যাংক থেকে মোট ৯১৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা ঋণ নেয়। এর মধ্যে ৮০১ কোটি ৩৪ লাখ টাকাই খেলাপি।