চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক: অবৈধ পার্কি ও ফুটপাত দখলে ঈদ যাত্রায় ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-০২ ১৪:৫৯:০৫ || আপডেট: ২০১৮-০৬-০২ ১৭:৪৬:৫৬

মহসড়কের দুরত্বে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা অতি নগন্য

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

দেশের লাইফ লাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের মিরসরাইয়ের বিভিন্ন অংশে অবৈধ পার্কিং, ভ্রাম্যমান দোকন ও ট্রাফিক পুলিশের স্বল্পতার কারণে ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি দেখা দিতে পারে। তবে অন্যান্য বারের চেয়ে এবারের মহাসড়ক পুরোপুরি ভীন্ন। মহাসড়কের মিরসরাই অংশের কার্পেটিং সড়কে তেমন কোন খানাখন্দ না থাকলেও আরসিসি ঢালাইয়ের বেশীর ভাগ অংশে ফাটল দেখে দিয়েছে। মহাসড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের ভেঙ্গে যাওয়া অংশ বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করে দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন মহাসড়কের ধুমঘাট থেকে বড় দারোগারহাট পর্যন্ত অংশে দেখা যায়, বারইয়ারহাট পৌরসভা অংশে মহসড়কের উপরে বাঁশ, কাঠের গুড়ি ফেলে ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে। এছাড়া চার লেইন প্রকল্পের সময় করা বে ভিউগুলোও চয়েস বাস, ফেনীর গ্রীন টাউন সার্ভিস, নছিমন-করিমন, ফিকআপের দখলে চলে গেছে। বারইয়ারহাটে ফুটওভারব্রীজ নির্মাণ করা হলেও ব্রীজের সামনে মহাসড়কে দশ ফুট অংশে ডিভাইডার না থাকাতে ফুটওভারব্রীজটি কেউ ব্যবহার করছেনা। সবাই গাড়ী সীগনাল দিয়ে থামিয়ে রাস্তার পার হচ্ছে। ওই অংশে ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও তাদের কে নীরব ভূমিকায় দেখা গেছে। পথচারীরা ফুট ওভারব্রীজ ব্যবহার না করার ফলে দিনের বেলায় মহাসড়কে গাড়ী চলে থেমে থেমে। মহাসড়কের উপর ফলের দোকান সহ ভ্রাম্যমান দোকানের কারণে ব্যহত হচ্ছে যান চলাচল। যার কারণে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি জাতীয় মহাসড়কেও একই অবস্থা। মহসড়কের মিরসরাই সদরে মহাসড়কের উপর অবৈধ পার্কিংয়ের দখলে বে ভিউ। যাত্রীবাহী বাসের যাত্রী উঠানামার জন্য বড় বাজারগুলোতে মহাসড়কের পাশে তৈরী করা হয়েছিল বে ভিউ। যা এখন অবৈধ পার্কিংয়ের দখলে। মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী অংশে কার্পেটিংয়ের কোন সমস্যা না হলেও ঢাকামুখী অংশে ঢেবে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ঢেবে যাওয়া অংশে সংস্কার কাজ করা হলেও বৃষ্টিতে তা পুনরায় উঠে যাচ্ছে। এছাড়া মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারি অটোরিক্সার দৌরাত্ব বেড়ে যাওয়ায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে জোরারগঞ্জ থানায় ১জন সার্জেন্টের অধীনে ১জন টিআই, ২ জন এটি এস আই, ৯ জন কনস্টেবল রয়েছে। ১৩ সদস্যের এই টিম মহাসড়কের বারইয়ারহাট পৌরসভা অংশ ছাড়াও বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি অংশে দায়িত্ব পালন করেন। মিরসরাই থানায় ১জন সার্জেন্ট, ১জন ইনন্সপ্টের, ২জন কনস্টেবল রয়েছে। যা সংখ্যায় অতি নগন্য। মহাসড়কে দায়িত্ব পালন ছাড়াও সড়ক পথে কোন ভিআইপি গেলে সড়ক যানজট মুক্ত রাখার জন্য তাদের থাকতে হয় ব্যস্ত। যানজট নিরসনে দায়িত্ব পালনে এই অল্প সংখ্যক পুলিশ সদস্যদের প্রতিনিয়ত হিমসিম খেতে হচ্ছে। মিরসরাই উপজেলায় ২টি থানা, ১টি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, ১ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে।

মিরসরাই থানার সার্জেন্ট মোঃ কবির হোসাইন বলেন, অন্যন্য বারের চেয়ে এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক খানাখন্দহীন। মহসড়কে মিরসরাই অংশে অবৈধ পার্কিং ও ভ্রাম্যমান দোকন উচ্ছেদের জন্য মৌখিক ভাবে বলা হয়েছে। ঈদের আগে মহসড়ক হকার ও পার্কিং মুক্ত রাখা হবে।

জোরারগঞ্জ থানার এটিএসআই নঈমুল হক বলেন, বারইয়ারহাট পৌর বাজারে মহাসড়কের উপর উন্মুক্ত অংশ টি ডিভাইডার দিয়ে ডেকে দিলে পথচারীরা ফুটওভারব্রীজ ব্যবহার করবে। অন্যথায় মহাসড়কে পথচারীর জন্য যানজট সৃষ্ট হবে। এছাড়া মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং, বাঁশ ও গাছের ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হওয়ায় তাদের একাধিকবার বলার পরও তারা মহসড়ক ফাঁকা করেনি। আমরা পৌর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করবো। যাতে মহাসড়ক থেকে ভ্রাম্যমান দোকান সরিয়ে ফেলা হয়।

জোরারগঞ্জ চৌধুরীহাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহেল সরকার জানান, মহাসড়কের মিরসরাই অংশে এবার আগের চেয়ে ভালো। কোথাও কোন যানজট নেই। স্থানীয় বাজারগুলোতে ফুটপাত হকারদের দখলে চলে যাওয়ায় মাঝে মধ্যে সমস্যা হয়। এছাড়া মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারি অটোরিক্সার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চারলেন এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং সওজ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, মহাসড়ক ঈদ যাত্রার জন্য পুরোপুরি তৈরী। মহসড়কের কোথাও খানাখন্দ নেই। আরসিসি ঢালাইয়ের যেসব অংশ ভেঙ্গে গেছে তা ঈদের আগে সংস্কার করা হবে। মহাসড়ক দখল করে যেখানে ভ্রাম্যমান দোকান, অবৈধ পার্কিং করা হয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। বারইয়ারহাট পৌরসভায় মহাসড়কের উপর উন্মক্ত অংশে একবার ঢালাই দিয়ে বন্ধ করা হলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তা ভেঙ্গে ফেলে। ঈদের পরে প্রশাসনের সহায়তায় পথটি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।