চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮

ক্রেতা টানতে মার্কেটগুলোতে লাকি কূপনের ছড়াছড়ি

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-০১ ১৪:৩৯:২২ || আপডেট: ২০১৮-০৬-০২ ১৩:০২:৫২

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

জমে উঠেছে মিরসরাইয়ের ঈদের বাজার। প্রতিদিন ক্রেতা বাড়ছে উপজেলার বিভিন্ন মার্কেটে। রাতদিন চলছে বেচাকেনা। ছোট শিশু থেকে শুরু করে নারী পুরুষের পদচারণায় মুখরিত এখন উপজেলার বিভিন্ন বাজারের মার্কেটগুলো। ক্রেতা আকর্ষণে মার্কেটগুলোও বেশ সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। বর্ণিল আলোকসজ্জা, মনোলোভা ডেকোরেশনের মাধ্যমে সজ্জিত করা এসব মার্কেট যেন এখন ঝকঝক তকতক করছে। এবার উত্তর চট্টগ্রামের বানিজ্যিক প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বারইয়ারহাট বাজারে বিভিন্ন মার্কেটে লাকি কূপনের প্রতিযোগীতায় নেমেছে ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এবার ঈদের বাজারে তারা নিত্যনতুন নামের বেশকিছু নারী, শিশু ও পুরুষের কাপড় তুলেছেন দোকানে। নিত্যনতুন ডিজাইনের দেশি ও বিদেশি থ্রীপিচ, গ্রাউন, শাড়ি অন্যান্য বস্ত্রসহ সবকিছু মিলছে এখানকার মার্কেটে। শহরের মানের এবং পছন্দনীয় ঈদের কাপড় স্থানীয় মার্কেটগুলোতেই পাওয়ায় এখানকার ক্রেতারা ঈদের কেনাকেটায় মিরসরাইয়ের মার্কেটের উপরই নির্ভর করছেন। এছাড়া এলাকার সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ভালো থাকায় ক্রেতারা ঈদের কেনাকেটার জন্য এবার স্থানীয় মার্কেটমুখী রয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখো গেছে, ঈদের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা ভিড় জমাচ্ছে। ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সব শ্রেণীর মানুষ। ভিড় জমাচ্ছেন মার্কেটগুলোতে। পেশার মানুষ তাদের সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারছেন। শুক্রবার (১ জুন) সকালে সবচেয়ে বেশি ভীড় লক্ষ্য করা গেছে মসজিদ গলির লাকী শপিং মলে। এছাড়াও পালকি ক্লথ, শাড়িকা, রূপা ক্লথ, শাড়ি কালেকশান,মদিনা ক্লথ, মাওলানা ক্লথ, উপহার ক্লথ, স্মাট গার্মেন্টস, আল আমিন মার্কেটের মাতৃছায়া বুটিকস, গ্রীণ টাওয়ারের মিলনস, সুলতান, সাব্বির শাড়িজ সহ সব দোকান, আল আমিন মার্কেট, জমিদার মার্কেট, জামালপুর সুপার মার্কেট, মহিউদ্দিন বাবুল মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, মসজিদ মার্কেট ও সেঞ্চুরী শপিং কমপ্লেক্সে ম্যাক্স ফ্যাশন, সাতরং, ওয়ান ফ্যাশনে ক্রেতাদের প্রচন্ড ভীড় রয়েছে। শাড়ী থ্রিপিসের পাশাপাশি প্রসাধনী, পারফিউম, কসমেটিক সামগ্রী, জুতা সহ বিভিন্ন পন্য ক্রয় করছেন ক্রেতারা। মসজিদ গলির হাসান সুজ, অহনা সুজ, আয়েশা সুজ, গ্রীন টাওয়ারে অবস্থিত লটো, বাটা, অমনি সুজ, আল আমিন মার্কেটে এপেক্স শো-রুমে ভালো বিকিকিনি লক্ষ করা গেছে। এছাড়া উপজেলার জোরারগঞ্জের যুবরাজ মার্কেট, আল-মদিনা শপিং সেন্টার, স্কুল মার্কেট, মিঠাছরার শাহজাহান সুপার মার্কেট, মিরসরাই সদরে টুকু মিয়া মার্কেট, কাশেম শপিং সেন্টার, আবুতোরাব বাজারে ভূঁইয়া ক্লথ, বামনসুন্দর দারোগাহাট, আবুরহাট, নিজামপুর কলেজ, বড়দারোগাহাট বাজারে ঈদের বাজার জমে উঠেছে। বিক্রির দিক থেকে এবারো শীর্ষে রয়েছেন বারইয়ারহাটের ঐতিহ্যবাহী লাকি শপিং মল ও মিঠাছড়ার আল-আমিন।

উপজেলার ধুম এলাকার বাহার উদ্দিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেনাকাট করতে এসেছেন বারইয়ারহাট। তিনি বলেন, যদিও আমি শহরে ব্যবসা করি। কিন্তু প্রতি বছর ঈদের কেনাকাট এখান থেকে করা হয়। পরে ঝামেলা আরো বাড়বে তাই ১৫-২০ রমজানের মধ্যে কেনাকাটা শেষ করতে চাই।

এবার ঈদে জামার মধ্যে রয়েছে ডালি, স্বপ্নের দেশ, অস্থির। মেয়েদের গ্রাউনের মধ্যে রাজ কুমারী, ডায়মন্ড, ললিপপ, জবা। থ্রীপিচের মধ্যে গরিলা, কাবেরী, বিনয় ইত্যাদি। শাড়ির মধ্যে দেশি কাতান ছাড়াও রয়েছে জবা, জবা বড়ভাবী, ক্রাস-২, ভা¹ি-২, নিল পদ্ম, পদ্মরাণী, রাজপরী, রাজেশ্বরী, রাজগুরু। ইন্ডিয়ার চুন্দ্রি কাতান, চায়না সিল্ক, পাকিস্থানী জর্জেট, দেশীয় মসলিন, কাতান শাড়ি, মেয়েদের কাপপিচ, লং থ্রীপিচ, রেডিমেট লংগ্রাউন, বম্বে গ্রাউন, টুপাট কুটি, পাকিস্থানী, ইন্ডিয়ান পাশাপাশি বম্বে, মিশরী ও দেশীয় পাঞ্জাবির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কাপড়ের পাশাপাশি জুতা, প্রসাধনীর দোকানেও বেশ ভীড় করছে ক্রেতারা।

এদিকে বিপণিবিতান ও শপিং মলগুলোতে ক্রেতাদের সমাগম বাড়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছে বিক্রেতারা। রোজার শুরুতে অনেকটা অলস সময় কাটালেও মাসের শেষ হওয়ায় ১৫ রমজান থেকে ফুসরত নেই বিক্রেতাদের।

লাকী ফ্যাশন মলের স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ শামসুদ্দিন বলেন, বেচা-কেনা মোটামুটি ভালো চলছে। আশা করছি ২০ রমজানের পর আরো বেশি বিক্রি হবে।

সেঞ্চুরী শপিং কমপ্লেক্সের ওয়ান ফ্যাশনের সত্ত্বাধিকারী মোঃ আনোয়ার হোসেন ও ম্যাক্স ফ্যাশনের কামরান সরোয়ার্দী জানান, এবার ভালো বিক্রয় হচ্ছে। দিনে গ্রাম অঞ্চলের ক্রেতাদের আনা-গোনা সব চাইতে বেশি। নতুন নামে ও ডিজাইনের জিন্স প্যান্ট, শ্যার্ট পাঞ্জাবী ও টি-শ্যার্ট ও পাঞ্জাবী রাখা হয়েছে আমাদের প্রতিষ্ঠানে। রমজানের শেষের দিকে বিক্রি আরো বাড়বে বলে জানান তারা।

জোরারগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার বিপুল দেবনাথ বলেন, ঈদ উপলক্ষে নির্বিগ্নে কেনাকাটা করতে ও নিরাপত্তা দিতে পুলিশের ৪টি টিম দায়িত্ব পালন করছে। বারইয়ারহাট বাজারে দুটি, জোরারগঞ্জ বাজারে একটি ও একটি টিম টহলরত অবস্থায় থাকবে।