চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অব্যাহত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আরও ১১

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-২৬ ১২:০৭:১৫ || আপডেট: ২০১৮-০৫-২৬ ১৪:৫৬:০৪

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে সারাদেশে শুক্রবার দিনগত রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত একাধিক কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সারাদেশে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কুমিল্লা ও দিনাজপুরে দু’জন করে আর চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, জয়পুরহাট, ফেনী, পাবনা, বরগুনা ও ঠাকুরগাওয়ে নিহত হয়েছেন একজন করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিহতরা সবাই মাদক কারবারি। প্রত্যেকেরই বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৭ মে রাত থেকে এ ক’দিনে বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৭৩ জনের মৃত্যু হলো।

প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা তুলে ধরা হলো;

দিনাজপুর

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় দু’জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিনগত রাত দুইটার দিকে গোলাপগঞ্জ-কবিরাজহাট সড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে বাসুদেবপুর এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের নন্দাইগাঁও গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে সাবদারুল (৪০) ও সদর উপজেলার মহরমপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে আব্দুস সালাম (৩৬)।

র‌্যাবের দাবি, নিহতরা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

র‌্যাব-১৩ দিনাজপুর ক্যাম্প কমান্ডার তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, রাতে বীরগঞ্জ উপজেলার বাসুদেবপুর এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি লেনদেন চলছিল- এমন খবর পেয়ে র্যা বের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র্যাাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালালে সাবদারুল নিহত হন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, ২ পোটলা গাঁজা ও ৯৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।

সাবদারুলের নামে বিভিন্ন থানায় ৪০টি মামলা রয়েছে বলেও জানান নাজমুছ সাকিব।

এদিকে, কোতোয়ালি থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম দাবি করেছেন, সদর উপজেলার রামসাগর এলাকায় দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে আব্দুস সালাম নামে একজন নিহত হয়েছেন।

তিনি জানান, শুক্রবার গভীর রাতে রামসাগর এলাকায় গোলাগুলির শব্দ পেয়ে পুলিশের একটি টহল দল সেখানে যায়। উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়।

পরে রামসাগরের পশ্চিমপাড় এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ আব্দুস সালামকে উদ্ধার করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, ৪টি ককটেল, ২০০ বোতল ফেনসিডিল ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

কুমিল্লা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় গ্রেফতারের পর পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিনগত রাত দুইটার দিকে জেলার ব্রাহ্মণপাড়ার বাগড়া-রামচন্দ্রপুর সড়কে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে বাবুল (৪০) ও উত্তর তেতাভূমি গ্রামের আফাজউদ্দিনের ছেলে আলমাস (৩৫)।

পুলিশের দাবি, নিহতরা এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

এ নিয়ে গত ২১ মে থেকে শুরু হওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধে জেলায় ৮ জন নিহত হলেন।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি শাহজাহান কবীর জানান, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শুক্রবার অভিযান চালিয়ে বাবুল ও আলমাসকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের নিয়ে রাত দুইটার দিকে মাদক উদ্ধার ও অন্যান্য সহযোগীদের ধরতে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া-রামচন্দ্রপুরে অভিযানে যায় পুলিশ।

উপস্থিতি টের পেয়ে বাবুল ও আলমাসের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে দু’পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বন্দুকযুদ্ধ হয়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে বাবুল ও আলমাসের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

বন্দুকযুদ্ধে কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দেবীদ্বার সার্কেল) শেখ সেলিমসহ চার পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। বাবুলের বিরুদ্ধে ১৬টি এবং আলমাসের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি।

জয়পুরহাট

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় র্যা বের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রিন্টু নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী ভীমপুর গ্রামের একটি ইটভাটার পার্শ্বে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

রিন্টু (৩৮) পাঁচবিবি উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

র‌্যাবের দাবি, রিন্টু এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন জানান, ভীমপুরে কেটি নামে একটি ইটভাটা এলাকায় মাদকের কেনা-বেচা চলছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় র্যাচব।

উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র্যাটবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র্যা বও পাল্টা গুলি চালালে রিন্টু গুলিবিদ্ধ হন।

তাকে উদ্ধার করে পাঁচবিবির মহীপুরস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বন্দুকযুদ্ধের সময় র্যাযবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক, গুলি ও ১ বস্তা ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। রিন্টু বিরুদ্ধে পাঁচবিবি থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে বলেও জানান এই র্যা ব কর্মকর্তা।

চাঁদপুর

চাঁদপুরের কচুয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বাবলু মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার দিনগত রাত তিনটার দিকে কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর ইউনিয়নের বনোরা গ্রামে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

বাবলু মিয়া আশ্রাফপুর ইউনিয়নের বনোরা গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে।

পুলিশের দাবি, বাবলু এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে।

কচুয়া থানার ওসি সৈয়দ মাহাবুবুর রহমান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ বাবলুর বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়।

উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বাবলু। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

পরে বাবলুকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে ১১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

পাবনা

পাবনায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আব্দুর রহমান (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শনিবার ভোর চারটার দিকে সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুরে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

আব্দুর রহমান পাবনা সদর উপজেলার কবিরপুর গ্রামের মৃত আছের উদ্দিন শেখের ছেলে।

পুলিশের দাবি, আব্দুর রহমান তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক ও চাঁদাবাজির ৯টি মামলা রয়েছে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, আন্তঃজেলা মাদক চক্রের সদস্য আব্দুর রহমানকে শুক্রবার সদর উপজেলার কবিরপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার স্বীকোরোক্তি অনুযায়ী মজুদকৃত মাদকদ্রব্য উদ্ধারে রাত দেড়টার দিকে মহেন্দ্রপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত দোকানে অভিযানে যায় পুলিশ।

এ সময় ওঁৎ পেতে থাকা আব্দুর রহমানের সহযোগীরা পুলিশের ওপর হাতবোমা নিক্ষেপ ও গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধ হয়।

এক পর্যায়ে টিকতে না পেরে মাদক কারবারিরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আব্দুর রহমানকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মাদক কারবারিদের ককটেল হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি শাটার গান, তিনটি থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি, চারটি কার্তুজ এবং ২০০ পিস ইয়াবা, ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।

বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে ছগির খান নামে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শনিবার ভোরে বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

ছগির খান বরগুনা সদর উপজেলার ১নং বদরখালী ইউনিয়নের কুমড়াখালী এলাকার বাসিন্দা।

বরগুনা সদর থানার ওসি মাসুদুজজামান জানান, ভোর পাঁচটার দিকে হঠাৎ গোলাগুলির শব্দে গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ সময় এলাকাবাসী খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় ঘটনাস্থলে তল্লালি চালিয়ে ছগির খানের লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১টি পাইপ গান, ৫ রাউন্ড গুলি ও ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ।

ওসির ভাষ্যে, ছগির খান একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। বরগুনাসহ বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে গোলাগুলিতে ছগির খানের মৃত্যু হতে পারে।

ফেনী

ফেনীতে কবির হোসেন নামে একজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ দাবি করেছে, ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বে ডাকাত দলের মধ্যকার কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হয়েছেন।

শনিবার ভোরে ফেনী সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের রুহিতিয়া ব্রিক ফিল্ডের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

কবির ফেনীর পরশুরাম উপজেলার আবদুল খালেকের ছেলে।

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক রাশেদ খান চৌধুরী জানান, ভোরে রুহিতিয়া ব্রিক ফিল্ড এলাকায় গোলাগুলির খবর পায় পুলিশ। পরে সেখানে যাওয়ার আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে কবির হোসেনের গুলিবিদ্ধ লাশসহ একটি বন্দুক, ২টি কার্তুজ, একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে।

কবিরের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদকের ১০টি মামলা রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান রাশেদ খান।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মোবারক হোসেন কুট্টি (৪৪) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শনিবার ভোরে সদর উপজেলার পশ্চিম বেগুনবাড়ি গ্রামে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

মোবারক সদর উপজেলার ছিট চিলারং গ্রামের মৃত শফির উদ্দিনের ছেলে।

সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিয়া জানান, গোপন সংবাদে বেগুনবাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় কুট্টিসহ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের ওপর হামলা ও গুলি করে।

পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে মাদক ব্যবসায়ী কুট্টি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎস মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শাহজাহান নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার দিনগত রাত একটার দিকে উপজেলার আঠারবাড়িতে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের ভাষ্যে, বন্দুকযুদ্ধের সময় ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। আর ঘটনাস্থল থেকে ২০০ পিস ইয়াবা ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি বদরুল আলম জানান, ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ি তেলোয়ারি মোড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ভাগাভাগি করছে- এমন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযানে যায়।

উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে মাদক ব্যবসায়ী শাহজাহান গুলিবিদ্ধ হন।

পরে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহজাহান আঠারবাড়ি এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি।

এর আগে গত ১৭ মে গভীর রাতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন, ১৮ মে রাতে ৪ জন, ১৯ মে রাতে ৪ জন, ২০ মে রাতে ১৪ জন, ২১ মে রাতে ১১ জন, ২২ মে রাতে ৯ জন, ২৩ মে রাতে ৬ জন ও ২৪ মে রাতে ১১ ‘মাদক কারবারি’ নিহত হন।