চট্টগ্রাম, ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯

বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে প্রবাসী হয়রানির অন্ত নেই

প্রকাশ: ১৮ মে, ২০১৮ ৩:০৩ : অপরাহ্ণ

কিছুদিন আগের ঘটনা- আমার পাশের একজন সাইপ্রাস থেকে দেশে গিয়েছিল বেড়াতে। যখন ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করল ইমিগ্রেশন শেষে এয়ারপোর্ট থেকে বের হচ্ছিল তখন উনার চারিদিকে কয়েকজন এয়ারপোর্ট কন্সটেবল পুলিশ উনাকে ঘিরে ফেলেছে। সবাই স্যার স্যার করে একেবারে এ যেন কোন দেশের মিনিস্টার আসল তাকে সম্মান করে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে আসবে। উনি ত রীতিমত অবাক! দেশ ত এইবার অনেক উন্নতি হয়েছে দেখি, আমার মত সাধারণ একজন প্রবাসীকে এইভাবে স্যার স্যার বলে সম্মান দিবে এ এক আকাশ কুসুম কল্পনা। এইবার উনার হাত ধরে বলল স্যার আমাদের বকসিস দিবেননা? এই কথা শুনে ওই লোক অবাক! কিসের বকসিস? আপনারা আমার কি করেছেন যে বকসিস দিব! এইবার এয়ারপোর্ট পুলিশ বলল, আপনি ইউরোপ থেকে এসেছেন অনেক ভি আই পি লোক, আমাদেরকে কিছু বকসিস না দিলে কি হয়! তাছাড়া আপনারা দেশ ছেড়ে বিদেশ গিয়েছেন আপনাদের প্রতি আমাদের অনেক দাবীদাওয়াতো আছেই।

এইবার ওই প্রবাসীর এক ভাই উনার থেকে দুইশ টাকা বকসিস দিল পুলিশকে। পুলিশ উনাকে এক দমক দিয়ে আরে আপনার থেকে নিবনা আমরা স্যারের কাছ থেকে বকসিস নিব। এইবার ওই প্রবাসী উনার হাতেই এই দুইশ টাকা দিল। তারপর পুলিশ বলল স্যার আপনি ইউরোপ সাইপ্রাস থেকে এসেছেন আপনার কাছে ইউরো আছে আপনি বাংলা টাকা কেন বকসিস দিচ্ছেন? তখন প্রবাসী বলল, আপনারা কিভাবে জানেন সাইপ্রাসের মুদ্রার নাম ইউরো! তখন পুলিশ হেসে হেসে উত্তর দিল কি যে বলেন স্যার, পৃথিবীর সকল দেশের মুদ্রার নাম আমাদের মুখস্থ, এবং কোন দেশের টাকার মান কত সব জানা আছে। প্রতিদিন কত বকসিস পাই এইভাবে বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের থেকে, আমরা না জানলে কে জানবে কোন দেশের মুদ্রার নাম কি! এবং মান কত। এইবার উনি দশ ইউরো বকসিস দিয়ে চলে গেল। পুলিশরাও খুব খুশি, দশ ইউরোতে প্রায় ১ হাজার টাকার উপরে।

এইবার দুইমাস পরের ঘটনা- ওই লোক যখন দেশ থেকে আবার সাইপ্রাস চলে আসবে তখন এয়ারপোর্ট এর বাহিরে সকল প্রবাসীরা লাইনে দাঁড়ানো ভিতরে ঢুকার জন্য। কিন্তু লাইনে এতটাই ভীড় বেড়ে গিয়েছিল যে একজনের ধাক্কায় আরেকজন মাটিতে হেলে পড়ে যাচ্ছিল। এই সময় ঠিক ওই দুই পুলিশ কন্সটেবল সবাইকে ধাক্কা মেরে মেরে লাইন সোজা করতেছে। এমন সময় হঠাত সাইপ্রাস প্রবাসী উনাকেও ধাক্কা মেরে দিল। উনিও সাথেসাথে চিনতে ভুল করেনি, উনি তখন ওই পুলিশদেরকে বলল আরে ভাই আপনারা ত সেই পুলিশ, আপনারা দুইমাস আগে আমাকে স্যার স্যার বলে কত সম্মান দেখিয়েছিলেন, আপনাদেরকে আমি দশ ইউরো বকসিস দিয়েছিলাম। আজকে এইভাবে ধাক্কাচ্ছেন কেন? উত্তরে পুলিশ বলল, দূর মিয়া কে তুমি? তোমার মত কত কামলা প্রতিদিন আসে আর যায় এসব খেয়াল রাখার টাইম আছে নাকি আমাদের! কথা কম বলে সোজা লাইনে দাঁড়িয়ে থাক, নইলে একেবারে পা ভেংগে দিব, তখন আর বিদেশেও যাইতে পারবিনা। এইবার পিছুন থেকে আরেক প্রবাসী খুব করুন সুরে বলছে হ ভাই ঠিক বলছেন আপনি। প্রবাসীরা আসার সময় তোদের কাছে স্যার থাকে বকসিস নেওয়ার জন্য, আর যাওয়ার সময় প্রবাসীরা ত তোদের কাছে কামলাই।

“বকসিসের নামে প্রবাসীদেরকে এমন হয়রানি বন্ধ করা হউক, এবং প্রবাসীদের উপযুক্ত সম্মান দেওয়া হোক।

লেখকঃ মাহাফুজুল হক চৌধুরী, সাইপ্রাসের নিকোশিয়া থেকে।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। সিটিজি টাইমস -এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই সময়ের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখার জন্য সিটিজি টাইমস কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।