চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮

পদ্মা সেতুতে বসল চতুর্থ স্প্যান

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১৩ ১০:১১:৪২ || আপডেট: ২০১৮-০৫-১৩ ১৩:৫৬:০৩

পদ্মা সেতুর চতুর্থ স্প্যান (সুপার স্ট্রাকচার) পিলারের ওপরে বসানো হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে জাজিরা প্রান্তে ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারের (খুঁটি) ওপর স্প্যানটি বসানো হয়।

১৫০ মিটার দীর্ঘ এই স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর ৬০০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে।

এর আগে,শনিবার মুন্সীগঞ্জের মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে চতুর্থ স্প্যানটি শরিয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে নেওয়া হয়।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সেতুর ১ম স্প্যানটি এবং ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যানটি এবং ১০ মার্চ তৃতীয় স্প্যানটি বসানো হয়েছিল।

দ্বিতলবিশিষ্ট পদ্মা সেতু হচ্ছে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য (পানির অংশের) ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ডাঙার অংশ ধরলে সেতুটি প্রায় নয় কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। খুঁটির ওপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হবে, এর ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। পুরো সেতুতে মোট খুঁটির সংখ্যা হবে ৪২। একটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব ১৫০ মিটার। এই দূরত্বের লম্বা ইস্পাতের কাঠামো বা স্প্যান জোড়া দিয়েই সেতু নির্মিত হবে।

৪২টি খুঁটির ওপর এ রকম ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। এর মধ্যে তিনটি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। স্প্যানের অংশগুলো চীন থেকে তৈরি করে সমুদ্রপথে জাহাজে করে আনা হয় বাংলাদেশে। ফিটিং করা হয় মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে।

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই বছরের ২৮ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প পাস করেছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে।

এ সেতুর কাজ শেষ হলে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে গোটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। দেশের অর্থনৈতিতে নুতন মাত্রা যোগ হবে। পদ্মাসেতুর দু’পাড়ে গড়ে উঠবে সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের আদলে বিশ্বমানের শহর। কলকারখানায় ভরে যাবে এ এলাকা।

শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে এ এলাকায়। সর্বক্ষেত্রে ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে আশা করছে পদ্মা পাড়ের মানুষ। তারা বাপ দাদার ভিটে মাটি দিয়ে ও আজ শান্তি পাচ্ছে। তাদের মনে এখন দুঃখ নেই। পদ্মাপাড়ের মানুষ ভাবছে এ সেতু আর না হওয়ার কোন সুযোগ নেই।