চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮

পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনীতির জটিল সমীকরণ

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০৬ ২২:৫৩:৫৩ || আপডেট: ২০১৮-০৫-০৬ ২২:৫৩:৫৩

পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকান্ড এবং পাহাড়ি সংগঠনগুলোর মধ্যে একের পর এক ভাঙন – ওই এলাকার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে?

বেশ কিছুদিন ধরেই পার্বত্য এলাকায় অস্থিরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। খবর বিবিসি

গত কয়েকমাস ধরে প্রায়ই সে অঞ্চলে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সর্বশেষ নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ড এবং তার পরদিনই আরো পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চু্ক্তির পর সে এলাকার রাজনীতি গত বিশ বছরে অনেকটাই বদলে গেছে।

শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সময় সে অঞ্চলের বড় ধরনের আধিপত্য ছিল জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বা সন্তু লারমার ।

কিন্তু লারমা গত বিশ বছরে অনেক জায়গাতেই তার প্রভাব হারিয়েছেন।

বর্তমানে শুধু রাঙামাটি শহর এবং আরো কিছু এলাকায় লারমার প্রভাব রয়েছে। কিন্তু বাকি অঞ্চলে সেটি নেই।

রাঙামাটির সাংবাদিক সুনীল দে বলেন, ‘এখানে কারো একচ্ছত্র আধিপত্য এখনো আছে কিনা সেটি নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে।’

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকারের সাথে যখন লারমার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেন তখন পাহাড়ে একটি অংশ সেটির বিরোধিতা করেছিল।

পিসিজেএসএস’র ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠা করেন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফ।

এরপর পরই সন্তু লারমা পিসিজেএসএস’র সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ইউপিডিএফ।

সাংবাদিক সুনীল দে’র ভাষ্য অনুযায়ী, জনসংহতি সমিতি এবং ইউপিডিএফ’র সম্পর্ক শুরু থেকেই ‘সাপে-নেউলে’। প্রায় ১২ বছর এ দুটি সংগঠনের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই চলছে।

এ সময়ের মধ্যে সন্তু লারমার প্রতি তার দলের একটি আস্থা হারাতে থাকেন।

২০১০ সালে লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ভেঙ্গে আরেকটি নতুন দলের জন্ম হয় যার নাম জেএসএস (এমএন লারমা)।

সম্প্রতি রাঙামাটির নানিয়ারচরে উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

শক্তিমান চাকমা ছিলেন সন্তু লারমার দল থেকে বেরিয়ে যাওয়া জেএসএস (এমএন লারমা) দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা।

২০১৭ সালে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফও ভাঙনের কবলে পড়ে। সে দল ভেঙ্গে প্রতিষ্ঠা করা হয় ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)।

দলটির প্রতিষ্ঠাতা তপন জ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজনকে কয়েকদিন আগেই গুলি করে হত্যা করা হয়।

সবমিলিয়ে পার্বত্য এলাকায় এখন পাহাড়িদের চারটি সংগঠন রয়েছে। সে এলাকায় অস্থিরতা, হত্যা, চাঁদাবাজী এবং অপহরণের জন্য এসব আঞ্চলিক দলগুলো পরস্পরকে দায়ী করে।

পাহাড়ি সংগঠনগুলোর অনেক নেতা মনে করেন, ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ বাস্তবায়নের জন্য দলগুলোর মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি করা হচ্ছে।

পাহাড়িরা যাতে তাদের অধিকারের কথা বলতে না পারে সেজন্য একটি ‘বিশেষ মহলের ছত্রছায়ায়’ পাহাড়ী সংগঠনগুলোকে ভেঙ্গে টুকরো-টুকরো করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।

ইউপিডিএফ’র মুখপাত্র মাইকেল চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিকে ‘জটিল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর কাজ করছে একটি ‘বিশেষ মহল’।

শান্তি চুক্তি পরবর্তী পার্বত্য এলাকায় বাঙালীদেরও সংগঠন গড়ে উঠেছে।

সেসব সংগঠনের সাথেও পাহাড়ি সংগঠনগুলোর তীব্র মতভেদ রয়েছে যেটি কখনো-কখনো সংঘাতে রূপ নেয়।