চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮

সবুজ পাহাড় রক্তে লাল, ২৪ ঘন্টায় নিহত ৬

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০৪ ২৩:৫২:৪৫ || আপডেট: ২০১৮-০৫-০৫ ১১:৩৯:২৩

আলমগীর মানিক
রাঙামাটি থেকে

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র তৎপরতায় আবারো রক্তাক্ত হয়ে উঠছে পাহাড়ি জনপদ। গত ২৪ ঘন্টায় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা ও সম্প্রতি গঠন হওয়া গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ এর প্রধান বর্মা চাকমাসহ অন্তত ৬ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিপক্ষ পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস(এমএন লারমা) এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা। এই ঘটনার রেশ কাটতে নাকাটতেই মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে শক্তিমানের অন্তষ্ট্যেক্রিয়া অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে আবারো সেই একই পক্ষের অতর্কিত ব্রাশ ফায়ারে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এর প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা ও জেএসএস এম এন লারমা সমর্থিত ৫ নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টায় এ ঘটনা ঘটে। নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগদান এই ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে পাহাড়ের সংগঠন ইউপিডিএফ’র (গণতান্ত্রিক) আহ্বাযক তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা (৪৮), জেএসএস সংস্কার সমর্থিত সেতু লাল চাকমা (৪০) ভাড়ায় চালিত মাইক্রো চালক পানছড়ির বাসিন্দা মো: সজিব (৩৬) ,মহালছড়ি যুব সমিতির সুজন চাকমা (৩২) ও তুজিম চাকমা (২৯) বলে জানা গেছে।

ঘটনার সময় আগেথেকে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তপন জ্যোতি চাকমাকে বহন করা মাক্রোবাস লক্ষ করে গুলি করলে ভাড়ায় চালিত মাইক্রোড্রাইভার গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় বিভক্ত আরো দু’অস্ত্র ধারী হামলাকারী গ্রুপ সে গাড়ীতে গুলিবর্ষণ করলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এসময় গাড়ী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এ ঘটনার জন্য সংগঠনটি প্রতিপক্ষ গ্রুপ প্রসীত বিকাশ খীসা নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফকে দায়ী করছে।

রাঙামাটি নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ ও খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদাত হোসেন টিটো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জনাব টিটো জানান, সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত দুইজনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে এক মাক্রো চালক ও ১জন উপজাতীয় ব্যাক্তির লাশ আনা হয়েছে। এ সময় আহত আরো ৩ জনকে খাগড়াছড়িতে এবং গুরুত্বর ও ৩ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, হতাহতদের ব্যাপারে সরেজমিনে দেখতে রাঙামাটি সদর সার্কেলের এডিশনাল এসপি মোঃ জাহাঙ্গীর এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে রওয়ানা দিয়েছে। তারা ফিরে আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।

উল্লেখ্য মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে বৃহস্পতিবার বেলা এগার টার সময় উপজেলা সদরে নিজ কার্যালয়ের সামনে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা। এসময় তাকে বহনকারি মোটর সাইকেল চালক রূপম চাকমাও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুত্বর আহত হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে উক্ত এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা ঘিরে রেখে তল্লাসী অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে ২৪ ঘন্টায় রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির বেশ কয়েকটি এলাকায় পার্বত্য চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ এর সাথে গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফসহ সংস্কারপন্থী জেএসএস(এমএন) এর ব্যাপক বন্দুক যুদ্বের ঘটনা ঘটছে। নিরাপত্তা বাহিনী-গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে পাহাড়ের অনেকগুলো স্থানে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির সেনবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।