চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮

আমানত সেতুর এক পাশের বড় আকারের গর্ত

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-৩০ ১৬:১০:৪৫ || আপডেট: ২০১৮-০৪-৩০ ১৬:১৭:৩৬

চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতুর (তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু) এক পাশের পাটাতন ভেঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে বড় আকারের গর্ত।

দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রবেশ পথের এ সেতু দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াত হয়। অনেক হালকা-ভারী যানবাহন সেতুটি দিয়ে নদী পার হয়। ফলে সেতুটিতে ফুটো হওয়ায় নানা কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন সাধারণ মানুষ।

দেশের বৃহৎ স্থাপনার এমন বেহাল দশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন পরিমাপক যন্তের অভাবে প্রতিনিয়ত সেতুর উপর দিয়ে অতিরিক্ত মালবোঝাই গাড়ি চলাচল করছে। এতে সেতুটিকে ক্রমেই ঝুঁকিপুর্ন হয়ে উঠছে। এর আগেও শাহ আমানত সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কথা উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা কখনোই নেয়া হয়নি।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুসহ যেকোনো স্থাপত্যশৈলীর ওজন বা চাপ সহনশীলতার একটি ব্যাপার থাকে। এটি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে দেশের অন্যতম মেঘনা সেতুতে। এ সেতুতে ৩০ টনের বেশি মালবোঝাই গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ, যা ওজন পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় শাহ আমানত সেতুর রক্ষণব্যবস্থা সম্পূর্ণ অরক্ষিত।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার না হওয়ায় ইতোমধ্যে সেতুর বেশ কিছু মূল্যবান যন্ত্র খোয়া গেছে। ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে পার হচ্ছে যানবাহন।

উল্লেখ্য, শাহ আমানত সেতু বা তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত তৃতীয় সেতু। এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৬ সালের ৮ আগস্ট ও শেষ হয় ২০১০ সালে। শাহ আমনত সেতু হিসেবে পরিচিতি থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক নাম হলো কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু।

শাহ আমানত সেতু  সেতুর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৯৫০ মিটার, প্রস্থ ২৪ দশমিক ৪০ মিটার । এই সেতুর উপর দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচলের পুরোপুরি উপযোগী। চারলেন, ফুটপাত ও ডিভাইডারসহ মূল সেতু ৮৩০ মিটার। তার মধ্যে ভায়াড্যাক্ট ১২০ মিটার। সেতুর মোট পিলার সংখ্যা ১০টি। এর মধ্যে নদীর মাঝখানে রয়েছে চারটি, সেতুর উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে ছয়টি।

সেতুর নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কুয়েত সরকার অনুদান দেয় ৩৭২ কোটি টাকা। সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৩৬ কোটি টাকা। বাকি ২২৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল ভূমি অধিগ্রহণ ও সংযোগ সড়কের জন্য। কুয়েত ফান্ডসহ সরকার ৫৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। ৪৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে চীনা প্রকৌশলী সংস্থা চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি। এটি পটিয়া ও বাকলিয়া থানাকে সংযুক্ত করেছে। সেসময় প্রকল্প বাস্তবায়নে ১শ’ কোটি টাকার বেশি সাশ্রয় হয়েছে।