চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮

ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২৮ ২০:০৮:৪৩ || আপডেট: ২০১৮-০৪-২৮ ২১:২৭:৪৯

আখতার হোসাইন

বৈশাখের খরতাপে পুড়ছে সারাদেশ। দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে দাবদাহ। ভ্যাপসা গরমে কাহিল জনজীবন ও নগর জীবন। মানবকুল ছাড়াও প্রাণিকুলের মধ্যেও প্রচন্ড গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। অনেক জায়গায় বাতাসে যেন আগুনের হল্কা। রাস্তায় পিচ গলতে শুরু করেছে। তীর্যক সূর্যের দহনে দিনমান অতিবাহিত হচ্ছে। সারাদিনের তীব্র গরমের পর সন্ধ্যায় বৈরী আবহাওয়া লক্ষ্য করা যায়। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানান, তাপদাহের এই তীব্রতা আরো বেশ কিছু থাকতে পারে। কালবৈশাখী হওয়ার আসংঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।

বর্ষার মৌসুমি বায়ুমালা বাংলাদেশে এগিয়ে আসতে এখনো অনেক দেরি। বর্তমানে দেশের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি আকারের তাপপ্রবাহ চলছে। গরমে ঘামে নাকাল অবস্থায় শিক্ষার্থী ও পথচারী লোকজন রাস্তাঘাটে ফেরি করা আইসক্রিম, শরবত ও হরেক রকম পানীয় নিয়ে গলা ভেজানোর চেষ্টা করছে। চপল কিশোররা দল বেঁধে পুকুর-দীঘি, নদী-খালে ঝাঁপ দিয়ে গা শীতল করছে। জলীয় বাস্পের আধিক্য ও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বর্তমানে বেশি থাকায় মানুষজন অতিরিক্ত ঘামাচ্ছে। এতে শরীর আরও কাহিল হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় আয়-রোজগারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে দিনে এনে দিনে খাওয়া দিনমজুর ও নিম্নআয়ের শ্রমিক-কর্মজীবীরা। উটকো মৌসুমি রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু-বৃদ্ধসহ অনেকেই। চিকিসৎকরা এ সময়ে বেশি করে বিশুদ্ধ পানি পানের পরামর্শ দিয়ে কড়া সতর্ক করেছেন, রাস্তাঘাটের দূষিত পানীয় বা ফল-ফলারি খেয়ে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাপপ্রবাহ ৪০ ডিগ্রি অতিক্রম করলে হিটস্ট্রোকে গুরুতর আক্রান্ত হতে পারে বিশেষত রোদে কর্মরত লোকজন, অসুস্থরা ও শিশু-বৃদ্ধরা।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানায়, কোথাও কোথাও দমকা বা ঝড়ো হাওয়া এবং কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে এলাকাওয়ারি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গুমোট ও ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকলে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঘনঘটা তৈরি হতে পারে এমনটি আশংকা আবহাওয়াবিদদের। চলতি এপ্রিল ও পরের মে মাসে সাগরে একাধিক নিম্নচাপ থেকে একটি ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে কোন লঘুচাপ-নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়নি; তবে বিপরীতমুখী বায়ুচাপে উত্তর বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে।

তীর্যক সূর্যকিরণে চৈত্রের অসহ্য খরতাপে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সর্বত্র ব্যাহত হচ্ছে। গুমোট আবহাওয়ায় অবিরত ঘামঝরা ভ্যাপসা গরমে শ্রমজীবী দিনমজুর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্কুল-মাদরাসার শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধদের কষ্ট অসহনীয়। গরমের সাথে সাথে বিশুদ্ধ পানির অভাবে সবখানেই চলছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ, হাহাকার অবস্থা। পুকুর, নদ-নদী, খাল, দীঘি, জলাশয়, পাতকুয়ার পানি শুকিয়ে তলায় গিয়ে ঠেকেছে। অধিকাংশ নলকূপে পানি উঠছে না। বৃষ্টির আকুল প্রত্যাশায় আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রহর গুণছে মানুষ। অনাবৃষ্টি ও খরায় রাতের বেলায়ও তাপদাহ অসহনীয়। থমথমে আবহাওয়ায় মরুময়তায় বাতাসে যেন আগুন ঝরছে। আবহাওয়াম-লে ইতিবাচক পরিবর্তনের কোন সুখবর আপাতত নেই। বঙ্গোপসাগরে বর্ষার মৌসুমী বায়ুমালা এগিয়ে আসেনি। তাই প্রত্যাশিত মেঘ-বাদলেরও আলামত নেই। এ অবস্থায় দেশের অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের তাপদহন চলছে। বেশিরভাগ এলাকায় গত দু’দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ২৫ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে গেছে। কোথাও কোথাও আকাশে বিচ্ছিন্ন মেঘ জমলেও বৃষ্টি নামেনি। বরং মেঘ-ভাঙ্গা প্রখর রোদে মানুষের অস্বস্তি বেড়েই চলেছে।