চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮

যেভাবে খুন হন ফরিদ

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২৭ ২০:৪৬:১৩ || আপডেট: ২০১৮-০৪-২৮ ০০:১২:৪৬

‘নামাজ পড়ে এসে বাসায় ভাত খেতে বসেছিলেন আব্বু । এসময় ফোন পেয়ে দ্রুত বেরিয়ে যান তিনি। এর পরপরই গোলাগুলি শুরু হয়। কিছুক্ষন পর খবর পাই আব্বু গুলিবিদ্ধ।’ কথা গুলো নিহত ফরিদুল ইসলাম ফরিদ (৩৫) এর মেয়ে জারাহ’র। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়েলটিতে কেঁদে কেঁদে কথা গুলো বলছিলেন তিনি।

শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রামে স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটরের ব্যবসার দখল নিয়ে গোলাগুলিতে ফরিদুল ইসলাম ফরিদ (৩৮) নিহত হয়েছেন। ফরিদ চকবাজার থানার চান মিয়া মুন্সী লেইনের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে। তিনি চকবাজার ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ডিসি রোডে ক্যাবল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ আছে কেসিটিএন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের। ওই এলাকার বাসিন্দা কথিত আওয়ামী লীগ এ্ক নেতা এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাচ্ছিলেন। মূলত এর থেকে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর আগেও কয়েকবার বাদশার বাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকাল থেকে আকস্মিকভাবে নগরীর দিদার মার্কেট এলাকা থেকে ডিসি রোডের দিকে ক্যাবলের টানা শুরু করে অন্যপক্ষের লোকজন।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে অনুমোদনবিহীন এই ক্যাবল টানার কাজ বন্ধ করে দেন। দুপুরে জুমার নামাজের পর আবারও কাজ শুরু হয়। এ খবরে বাদশা’র লোকজন তাদের বাধা দেয়। এর জের ধরে ডিসি রোডে মিয়ার বাপের বাড়ির সামনে গোলাগুলি শুরু হয় দুইপক্ষে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ফরিদুলকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তখন তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় দায়িত্বরত চিকিৎসক। তার বুকে গুলি লেগেছিল।

চকবাজার থানার ওসি নুরুল হুদা বলেন, ডিশের লাইন দখল-বেদখলের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ একজন মারা গেছেন। কে গুলি করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।