চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮

আইইউসিতে ফ্যাশন শো, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-১৪ ২০:৪৪:১৩ || আপডেট: ২০১৮-০৪-১৪ ২৩:১৭:১১

সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক 

আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে ( আইইউসি)  ফ্যাশন-শো আয়োজনে ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা । ১৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির রিইউনিয়নে ফ্যাশন-শোটি অনুষ্ঠিত হয়।

ফ্যাশন-শো অনুষ্ঠানের পর সামাজিকমাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আইইউসিতে এ ধরনের অনুষ্ঠান করা ঠিক হচ্ছে না মন্তব্য করে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ফেসবুকে তানভীর আহমান সিদ্দিকী নামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন,  বছরের পর বছর এই বিদ্যায়তনকে টাকা দিয়ে চলেছি। সেই অর্থ বাবার কাছ থেকে নয়, নিজের গাঁট থেকেই দিয়ে চলেছি। সেই অর্থ কিভাবে যোগাড় করি, তা আর এখানে উল্লেখ নাই বা করলাম। ফলাফল হলো, এতো কষ্টের আয়, কিন্তু আমার ব্যাংক একাউন্টে তেমন সঞ্চয় নেই বললেই চলে। মায়ের হাতে ঘুষ দেবার মতো করে হাজার খানেক টাকা দেই। এক মাসে পকেট খরচ বলতে যা থাকার তাই থাকে। গত সেশনেই প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা দিয়েছি। অর্ধ লক্ষ টাকা। সবটাই ঘাম ঝরানো টাকা। এই টাকাটা আমার ব্যক্তিগত একাউন্টে জমা থাকতে পারতো। কিন্তু, অবাক করা বিষয় হলো, এই টাকাটা দিতে আমার তেমন গায়ে লাগেনি। কখনোই লাগে না। কেন লাগে না? কারণ, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা দেবার সময় অন্তরে এই বোধটুকু কাজ করে, আমার অর্থে বিশ্ববিদ্যালয় এই দেশের ছাত্রছাত্রীদের মাঝে দ্বীনি শিক্ষা বিতরণ করবেন। নৈতিকতার আলো ছড়াবেন। পাপ পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত জাতিকে, জাহিলিয়াতের অশুচিময় অন্ধকার থেকে টেনে তুলে আলোকিত সমাজ গড়ার নেতৃত্ব দিতে পারে এমন একদল সুশিক্ষিত নাগরিক গড়ে তুলবেন।

বলাই বাহুল্য, আমাদের মতো তরুণ, যারা উচ্চশিক্ষার জন্যে অন্য সব বিকল্পকে পাশ কাটিয়ে এই বিদ্যাপীঠকে বেছে নিয়েছি, তার পেছনে সবার উপরে এই শিক্ষায়তনের আদর্শিক অবস্থানকেই বিবেচ্য বলে মেনে নিয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে এই আশা নিয়েই আমরা নিজেদেরকে তাদের সম্মুখে পেশ করেছি যে, তাঁরা ছাত্রদের জন্যে একটি আদর্শিক পরিবেশ তৈরি করে দেবেন, যে পরিবেশে তারা আধুনিক শিক্ষার সাথে সাথে দেশ ও সমাজকে নৈতিক শিক্ষার আলোতে আলোকিত করার কাজে নেতৃত্ব দেবার জন্যে যোগ্য হবার সুযোগ পেয়ে যাবে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কিছু প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম, “To follow a policy of continued Modernization of knowledge and academic curricula in different disciplines of education so that its students can imbibe the true spirit of religious value as an effective guiding principle in their profession and daily life” বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো খুবই আন্তরিকতার সাথে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। তবে দেশের শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে ভেতর বাহির উভয় দিক থেকেই তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে, সেটা সচেতন ব্যক্তি মাত্রই অবগত আছেন।

চাপ যতোই শক্তিশালী হোক না কেন, আদর্শের দৃঢ়তা সে চাপ মোকাবেলা করার জন্যে যথেষ্ট হবার কথা। তাছাড়া, কখনোই এমন হয়নি যে, কর্তৃপক্ষ সেই চাপ মোকাবেলায় একেবারেই একা ছিলো।

সব পরিবেশেই এবং সব অবস্থাতেই স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া মনমানসিকতার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকে। তারা পরিবর্তন চায় না। ফুর্তিতে মেতে থাকাই তাদের জীবনের প্রেরণা। যেখানে ফুর্তি নেই, সেখানে তাদের প্রাণ যেন থেমে যায়, দম বন্ধ হয়ে আসে। আর ফুর্তির প্রধান উপকরণ নারী, বাদ্য এবং খাদ্য। এই ফুর্তিবাজরা যেখানে যায়, সেখানেই এই তিনের উপস্থিতি থাকা চাইই চাই। তাই, হাজার ওয়াজ নসীহত, ভালো কথা, কল্যাণের বাণী, আল্লাহ্‌র দোহাই, রাসূলের দোহাই, তাদের মনোজগতে কোন আবেদন সৃষ্টি করতে পারে না। কারণ, তাদের মনোজগৎকে সেসব বস্তুর আকর্ষণ আবিষ্ট করে ফেলেছে। এসব ছাড়া তাদের প্রাণে স্পন্দন জাগে না। আমাদের এই পবিত্র আঙ্গিনাতেও এই মনোবৃত্তির কিছু ভাই এবং বোন আছেন।

এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই সিদ্ধান্তে আসতে হবে, তাঁরা আসলে কোন দিকে মুখ করে ছাতা ধরবেন। যে আদর্শের উপর ভিত্তি করে তাঁরা অস্তিত্বে এসেছেন, সেই আদর্শকে লালন করে এগিয়ে যাবেন, না কি যারা স্রোতে ভেসে যাচ্ছে তাদের সাথে নিজেরাও জলকেলিতে মেতে উঠবেন।

যদি দ্বিতীয় পক্ষটিকেই তাঁদের কাছে অধিক আকর্ষণীয় এবং লাভজনক মনে হয়, তাহলে সেটা খোলাখুলিভাবে হওয়াটা অধিক সম্মানজনক নয় কি? একদিকে ক্লাসরুমে জলকেলি এবং হোলি কে বলবেন অশ্লীল, অন্যদিকে সম্মানীয় মহোদয়বৃন্দের মধ্যেই কেউ কেউ সেসব ‘আকর্ষণীয়’ এবং ‘যুগোপযোগী’ সংস্কৃতির একেবারে পৃষ্ঠপোষকরূপে আবির্ভূত হয়ে চুপে চাপে সেসব উপভোগ করে যাবেন, এটা কি আপনাদের সম্মানের সাথে যায়? তারচে বরং, অন্যেরা যেভাবে চালাচ্ছেন, আপনারাও সেভাবে চালান। ইসলাম শব্দটাকে আর কষ্ট দেবেন না। এমনিতেই নানা জবরদস্তিতে বেচারা হয়রান, তার উপর তার ক্লান্ত দেহটার উপর এমন অপারেশন চালাতে থাকলে, বেচারার আর বেঁচে থাকা লাগবে না। দয়া করে এমন পাষাণ ‘ইসলামী’ ডাক্তার হয়েন না। তাকে জবাই করার ইরাদা থাকলে সেকুলার হয়েই করেন। তাহলে অন্তত দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগ থেকে আপনারা রেহাই পাবেন। আপনাদের সম্মান বাঁচবে।

আরেকটা কথা বলেই আমার কথা শেষ করছি, মনের দুঃখ লাঘব হবে কি না জানি না। এই প্রতিষ্ঠান যাঁরা প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং যাঁদের অর্থের স্যাক্রিফাইস, শ্রমের স্যাক্রিফাইস, বুদ্ধির স্যাক্রিফাইস, সময়ের স্যাক্রিফাইসকে সম্বল করে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটা ইট দাঁড়িয়ে আছে, তাঁরা তাঁদের স্বপ্ন এবং স্যাক্রিফাইসগুলোকে একটা মজবুত লক্ষ্যকে সামনে রেখেই অকাতরে এই প্রতিষ্ঠানের জন্যে ওয়াকফ করে গিয়েছিলেন। এই শিক্ষাংগনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মেজরিটি অংশই এর নামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এবং এর দ্বীনি পরিবেশের প্রতি কনভিন্সড হয়েই এই আঙ্গিনায় নিজের ভবিষ্যৎকে সোপর্দ করেছেন। কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন যে, তাঁদের দেওয়া সেসব কমিটমেন্ট পূরণে তাঁরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শিক ভিত্তির উপর আস্থা রেখে ভর্তি হওয়া একজন ছাত্র এবং উপকারভোগী হিসেবে তাঁদেরকে এটুকু বিনয়ের সাথেই বলতে চাই, দুনিয়াতে এর কোন প্রতিকার আমি ব্যক্তি হিসেবে হয়তো পাবো না, তবে হাশর যেদিন হবে, সেদিন আমি আল্লাহ্‌র বিচারালয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে বাদী হবো। ইনশা আল্লাহ্‌, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জয়েন্ট লায়াবিলিটির রুল অনুযায়ী আমি আল্লাহ্‌র মহান আদালতে প্রতারণা, দায়িত্বে অবহেলা এবং দ্বীনি পরিবেশ বিপর্যয়ের দায়ে মামলা দায়ের করবো। এবং ক্ষতিপূরণসহ আমার কষ্টার্জিত অর্থ এবং সে অর্থ  আইইউসির ইতিহাসে প্রথম ফ্যাশন শো+ গিটার/ বাদ্যযন্ত্র নিয়ে গানের আসর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক লিখেছেন,  গতবছর মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে আইআইইউএম এর একটি বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছিলো। অনেক আশা নিয়ে গিয়েছিলাম যে ভালো কিছু দেখবো, শেখবো, সমৃদ্ধ হবো।

কিন্তু হতাশ হলাম সেখানে গিয়ে। ছাত্রীদের ফ্যাশন শো শুরু হলো। চিন্তা করলাম, আমি কি ভুল জায়গায় আসলাম নাকি? কিন্তু না, তাও নয়। সঠিক জায়গাতেই এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহ অনেক নামী-দামী শিক্ষক-শিক্ষিকা ছিলেন সেখানে। এর নাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়?

বাধ্য হয়ে আল্লাহর ভয়ে সেখানে থেকে চলে এসেছিলাম। সেই দুঃখের কথা কাউকে আজো বলিনি। নিজেকে প্রবোধ দিলাম, ওদের ইসলাম এখন অনেক আধুনিক!! কিন্তু আজ আইআইইউসির ফ্যাশন শোর ছবি ফেইসবুকে দেখে মনে হলো, বাংলাদেশে এখন মালয়েশিয়ান ইসলাম আমদানী হয়েছে।

তবে সতর্ক করে দিলাম, আপনারা যারা ফ্যাশন শোর আয়োজন করেছেন, এ কথা বলতে পারবেন না যে, সেনার্ক কী মূল্যবোধ শিক্ষা দেয়? যত দোষ সেনার্কের!!! ইসলামায়নের জন্য সকলের ভূমিকা ছাড়া সেনার্কের একার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়। দায়িত্বশীলগণ আশা করি এটা অনুধাবন করবেন। আল্লাহ, আমাদেরকে মাফ করো।

এক.
গতকাল যা হয়ে গেল মোটামুটি সবার জানা।যার ফলশ্রুতিতে সবাই যার যার মতো করে প্রতিবাদের সুরে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।অপর দিকে বিবিএ’র ভাইয়েরা কষ্ট পাচ্ছেন।অভিমানি সুরে রিপলাই দিচ্ছেন।এটাই স্বাভাবিক।তবে কথা হলো- সত্য যাহা তা বলতে হবে।এখানে রাগ অভিমানের কিছু নেই।এটা যেই ডিপার্টমেন্টই হোক।শুধু ডিবিএ বলে কথা নয়!

আমি শরীয়াহ’র ছাত্র।(আল্লাহ না করুক)যদি এমনটা শরীয়াহ ডিপার্টমেন্টে হতো,তাহলেও আমি প্রতিবাদ করতাম।স্ট্যাটাস দিতাম।আমার ডিপার্টমেন্ট বলে একটি গর্হিত কাজে তো সাপোর্ট দিতে পারিনা।আল্লাহ যেটা হারাম করেছেন সেটাকে হালাল বানানোর যোগ্যতা আসমানের নিচে, জমিনের উপরে কারো নেই।

দুই.
অনেক ভাই যুক্তি দিচ্ছেন,একটু মজা করতে এসব হয়েছে।মজা করার মতো বৈধ অনেক আনন্দই করা যায়।সে গুলো করতে তো কেউ নিষেধ করেনি,করবে না।কুত্তার মাংস খাওয়া হারাম।কেউ যদি বলে মজা করে একটু খেয়ে দেখি কেমন লাগে…………!বিষয়টা যেমন বোকামি হবে ঠিক তেমনি ইসলাম যেটা হারাম করেছে সেটা মজা করার জন্য করলেও গোনাহ হবে।

তিন.
মাননীয় অথরিটি মহোদয়!
আপনাদের কাছে দাবী।যদি মনে করেন এই অডিটোরিয়াম সিনেমা হলে রুপান্তরিত করতে তাহলে ওপেন নোটিশ দিয়ে দিন।না হয় সে সমস্ত সম্মানিত শিক্ষকদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নিন, যারা ঐখানে থেকে ফ্যাশন শো উপভোগ করেছেন।প্রতিবাদ করেননি।যারা করেছেন তাদের সালাম এবং শ্রদ্ধা জানাই।

(বিঃদ্রঃআজ ডিবিএ-তে ।কাল যে অন্য ডিপার্টমেন্টে হবে নাহ তার গ্যারান্টি কি?সুতরাং সবার সচেতনতার জন্যই বলা।আশা করি কেউ মাইন্ড করবেন না)

এই বিষয়ে জানতে আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম ( আইইউসি’র) বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডীন প্রফেসর ড. আবদুল হামিদ চৌধুরীকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি ।