চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

পিএইচপি’র সব অভিযোগ মিথ্যা, সংবাদ সম্মেলনে দাবী কেএসআরএম-এর

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-০৯ ২৩:০৮:৩৬ || আপডেট: ২০১৮-০৪-১০ ১১:৩৫:০৮

রড নির্মাণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম’র বিরুদ্ধে আরেক শিল্পগ্রুপ পিএইচপি ফ্যামিলি জায়গা দখলের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেছেন কেএসআরএম ।

আজ সোমবার দুপরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁরা হামলার অভিযোগও অস্বীকার করেন।

এ নিয়ে সোমবার (৯ এপ্রিল) বিরোধপূর্ণ জায়গাটির সাবেক মালিক নুরুল আলমকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয় কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ। এসময় কেএসআরমএম’র সিইও মেহেরুল কবির, জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ নজরুল আলম, প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এসময় জায়গার সাবেক মালিক নুরুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, জায়গাটি আমার বাপ-দাদার। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জায়গাটি আমাদের থেকে অধিগ্রহণ করে। এরপর আমি জায়গাটি লিজ নিতে আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ আমাকে লিজ দেয়। ১৯৮০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জায়গার যাবতীয় খরচ আমি পরিশোধ করি। ২০১৬ সাল জায়গাটি কেএসআরএম আমার কাছে থেকে কিনে নেয়। এরপর রেলওয়ে তাদের লিজ দেয়। মাঝখানে কারো কাছে আমি সেটি বিক্রি করিনি।

পিএইচপির’র কাছে বিক্রি করেছে কিনা জানতে চাইলে নুরুল আলম বলেন, এক জায়গা দুই বার কেমনে বিক্রি করবো। পিএইচপি কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছে থেকে ২০০৫ সালে জায়গা কেনার যে দাবি করেছে, সেটি মিথ্যা বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কেএসআরএমের প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গা নিয়ে সমঝোতার জন্য চট্টগ্রাম চেম্বারে কেএসআরএম ও পিএইচপির মধ্যে একটি আলোচনা চলছে। এতে সংসদ সদস্য এম. এ লতিফ ও এবিএম ফজলে করিম রয়েছেন। তাঁরা দুই মালিক পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে একটি সমাধান দিবেন। আমরা সেটি মেনে নিতে রাজী আছি।

তিনি বলেন, নুরুল আলমের কাছ থেকে ১৯৮০ সালে এক দশমিক ৬৪ একরের জায়গাটি কেএসআরমএম কর্তৃপক্ষ নাদাবি নামা মূলে ক্রয় করে। নিয়মানুযায়ী এরপর লিজ নিতে রেলওয়ের কাছে আবেদন করে। তবে সেখানে পিএইচপিও আবেদন করে। যার কারণে রেলওয়ে তিন পক্ষকে ডাকে। কিন্তু সেখানে পিইচপি’র কাগজপত্র ভূয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়। পিএইচপির দলিলে নুরুল আলমের যে স্বাক্ষর রয়েছে, সেটিও গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানায় রেলওয়ে। পরে কেএসআরএম জায়গাটি লিজ পায়। তারপর সেটি দখলে নেয়া হয়। অধ্যবধি পর্যন্ত জায়গাটির খাজনা পরিশোধ করেছে কেএসআরএম।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কিছু সংবাদ মাধ্যমে কেএসআরএম’র বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ সহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আশাকরি সাংবাদিকরা এ বিষয়ে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিবে।

এছাড়াও তিনি বলেন, কোন যুক্তিতে পিএইচপি জায়গাটির মালিকানা দাবি করছে, সে বিষয়ে কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ অবগত নন। তবুও আমরা আলোচনায় রাজী। তাই গুজব ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত না করার আহবান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কেএসআরএমের প্রধান নির্বাহি মোহাম্মদ মেহরুল করিম আশা করেন, পিএইচপি ফ্যামিলি তাদের মিথ্যাচার বন্ধ করবে। আলোচনা চলমান। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।পিএইচপি ফ্যামিলির সৎ ইচ্ছা থাকলে, আশা করি সমাধান আসবে।