চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর আজ

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-০৯ ১০:৪৬:৪৯ || আপডেট: ২০১৮-০৪-০৯ ১০:৪৬:৪৯

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প নিয়ে আজ সোমবার (৯ এপ্রিল) চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে।

দুপুরে রেডিসন ব্লু’র মেজবান হলে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে এই সমঝোতা ম্মারক স্বাক্ষর হবার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

এ লক্ষে দীর্ঘ বিরোধের ইতি টেনে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে দাওয়াত দিতে গতকাল রোববার (৮ এপ্রিল) নগর ভবনে যান সিডিএ চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম।

চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামকে ঘিরে সরকারের যেসব উন্নয়নকাজ চলছে, তার প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। চট্টগ্রামকে নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো যেভাবে সাজানো হয়েছে, যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং যেগুলো চলমান আছে, অনুষ্ঠানে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন,‘সেনাবাহিনীর সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আগামীকাল (আজ) থেকে চট্টগ্রাম নগরীর বৃহৎ এই প্রকল্পের দ্বার উন্মোচন হবে। এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা লাগবে।’

সিডিএ’র নির্বাহি প্রকৌশলী আহমেদ মাঈনুদ্দিন বলেন, ‘সোমবার সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পরই প্রকল্পের বাস্তব কার্যক্রম শুরু করবে সেনাবাহিনী।’

এসময় তিনি জানান, প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ করবে সিডিএ এবং প্রকল্পের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনী।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে সবার আগে আগ্রাবাদ-হালিশহর, বাকলিয়া-চান্দগাঁও ও মুরাদপুর-বহদ্দারহাট এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নজর দেয়া হচ্ছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অধীনে ৩৬ খাল খনন ছাড়াও ৪৮ গার্ডার ব্রিজ, ৬ কালভার্ট, ৩৬ খালে ৪২ সিল্ট ট্র্যাপ (বালি জমার স্থান), ৫ খালের মুখে টাইডাল রেগুলেটর, খালের উভয় পাশে থাকবে ১৫ ফুট চওড়া রোড এবং আর এস শিট অনুযায়ী খালের উভয় পাশের জায়গা উচ্ছেদের কথা থাকলেও প্রাথমিকভাবে আসন্ন বর্ষা মৌসুমের জন্য ১৬ খাল নিয়েই এগুচ্ছে সংস্থাটি।

এদিকে, ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সিডিএ’র মেগা প্রকল্পে ওভারলেপিং হতে পারে সেই আশঙ্কায় নগরীর খাল খনন কিংবা অবৈধ দখল উচ্ছেদে কাজ করবে না সিটি করপোরেশন।

সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজাউল মজিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কাছে যা আছে তা দিয়ে প্রথমে কাজ শুরু করবো, প্রয়োজনে আমরা ভাড়ায় নিবো অথবা কিনবো। তবে সবার আগে আমাদের মাঠে নামতে হবে।’

‘মাঠে নামার পর যেভাবে কাজ করলে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমিয়ে আনা যায় এবং রাস্তা থেকে নালায়, নালা থেকে খালে এবং খাল থেকে নদী বা সাগরে নিয়ে যাওয়া যায় সেভাবেই আমরা কাজ করবো।’ বলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজাউল মজিদ।

উল্লেখ্য চট্টগ্রামের এই মেঘা প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে পাস করা হয় গত বছরের আগষ্ট মাসে। এরপর থেকে শুরু হয় চট্টগ্রাম নগরীর ৩টি সেবা সংস্থার রশি টানাটানি। এই মধ্যে সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশন নেমে পড়ে বাকযু্দ্ধে।