চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮

সড়কের পাশের মাটি ইটভাটায়, হুমকির মুখে চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়ক!

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-০৭ ২৩:৫৪:৪৪ || আপডেট: ২০১৮-০৪-০৮ ১০:০৯:৪৯

সিটিজি টাইম্‌স প্রতিবেদক 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের হাতেগোনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একটি। বরং অন্যান্য মহাসড়কের তুলনায় একটু বেশিই গুরুত্বপূর্ণ। বহির্বিশ্বে ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ মহাসড়ক ব্যাপক অবদান রাখছে। পর্যটননগরী কক্সবাজার ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজারও পর্যটকের যাতায়াত এ মহাসড়ক দিয়েই। 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট, তেমুহনি, কেওচিয়া, ছনখোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে পাহাড় ও ফসলি জমি থেকে এস্ক্যাভেটর দিয়ে মাটি কাটার রমরমা ব্যবসা, শত অভিযোগ জানালেও স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চুপ রয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

বিভিন্ন এলাকায় এস্ক্যাভেটর দিয়ে পাহাড় কাটার পাশাপাশি ফসলি জমি থেকে ৩০-৪০ ফুট গভীর ভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ায় জলাশয়ের মতো রূপ দেয়া হয়েছে ফলে এসব জমিতে আর কখনো ফসল ফলানো সম্ভব হবে না, বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।

এদিকে, মহাসড়কের পাশের ফসলি জমি থেকে ৩০-৪০ ফুট গভীর ভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ায় রাস্তার পাশে গভীর গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে মৌলভির দোকন থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। এতে সড়কটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

আসন্ন বর্ষা মৌসমে পাহাড়ি ঢলে বড় কোন বন্যা হলে মুহূর্তে ধ্বসে পড়তে পারে চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়ক। বিষয়টি স্বীকার করে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন সিটিজি টাইমসকে বলেন, মহাসড়কের পাশের ফসলি জমি থেকে ৩০-৪০ ফুট গভীর ভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া বিষয়টি আসলেই বিপদ জনক । ইটভাটায় গুলোর বিরুদ্ধে বড় অভিযানের প্রস্তুতি চলছে। শঘ্রীই অভিযানে নামব আমরা ।

মহাসড়কের পাশের ফসলি জমি থেকে ৩০-৪০ ফুট গভীর ভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাতকানিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম সিটিজি টাইমসকে বলেন, সরকারের উন্নয়ন যাত্রা অব্যহত রাখতে ইটভাটার প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ থাকলেও এটা মানছেন না কেউ।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর অধীনে ঘোষিত এলাকা, সেতু-কালভার্ট, মহাসড়ক, রেললাইন, নদীবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে, যেসব নদীর তীর ভাঙ্গনের শিকার হতে পারে, কোনো গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন লাইন বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ লাইন বা তদ্সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, চা-বাগান,পাহাড়-টিলার ক্ষতি হতে পারে, নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, মাছ, জলজপ্রাণী, উদ্ভিদ নষ্ট হতে পারে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের চি‎িহ্নত সেচ, পানি নিস্কাশন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা নদী ভাঙ্গন রোধকল্পে নির্মিত অবকাঠামো সংলগ্ন এলাকায় বালু ও মাটি উত্তোলন করা যাবে না।

আইনের ৪নং ধারার (খ)-তে বলা হয়েছে সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকার সর্বনিু এক কিলোমিটার দূর থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন করা যাবে না।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গেল কয়েক বছরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে সাতকানিয়ার বিভিন্ন ফসলিজমিতে গড়ে ওঠেছে বেশি কয়েকটি ইটভাটা। বিশেষ করে উপজেলার মৌলভীর দোকান থেকে কেরানিহাট পর্যন্ত তিন থেকে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এসব ইটভাটার অধিকাংশের অবস্থান।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এসব ইট-ভাটার অনেকগুলোই স্থাপন করা হয়েছে ডজনখানেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গা ঘেঁষে। এতে সাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে জাফর আহমদ চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ, রসুলাবাদ সিনিয়র মাদ্রাসা, সৈয়দ মক্কী রা. কিন্ডারগার্টেন, রসুলবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মরফলা আর এম এন উচ্চ বিদ্যালয়সহ অন্তত ডজনখানেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে কেরাণীহাট এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ফসলি জমির ওপরের অংশ কেটে কেটে ইটভাটাগুলোর জন্য মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বড় বড় এক্সকেভেটর। যেসব দিয়ে নিয়মিত মাটি খোঁড়ার ফলে ফসলি জমি বিলীন হয়ে সৃষ্টি হয়েছে ২০/৩০ ফুট গভীর গর্তের। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে মৌলভির দোকন থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক।

খলিফাপাড়ার বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের হাতেগোনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একটি। বরং অন্যান্য মহাসড়কের তুলনায় একটু বেশিই গুরুত্বপূর্ণ। বহির্বিশ্বে ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ মহাসড়ক ব্যাপক অবদান রাখছে। পর্যটননগরী কক্সবাজার ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজারও পর্যটকের যাতায়াত এ মহাসড়ক দিয়েই।

এ অবস্থায় পাশে মাটি না থাকায় যানবাহনের চাপে যেকোনো সময় সড়ক ধসে পড়তে পারে। সড়কটি ধসে গেলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এলাকার মানুষ সড়ক রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াসহ জনস্বার্থে ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করা উচিত।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেরানীহাট এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশের ৫০-৬০ হাত এলাকা থেকে ইটভাটার শ্রমিকেরা মাটি কেটে নিয়ে গেছেন। ইটভাটার কাছে সড়কের পাশে মাটি কাটার কারণে বড় বড় ডোবার সৃষ্টি হয়েছে

দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিক সিটিজি টাইমসকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেয়। খবর নিয়ে দেখছি।

স্থানীয় কয়েকজন জমির মালিক জানান, মাটি ব্যবসায়ীরা অনেক সময় তাদের না জানিয়ে জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যায়। জমির মালিক কেওঁচিয়ার নুরুন্নবী, আবদুল হাকিম, লিয়াকত আলী, ঢেমশার মোহাম্মদ ছালাম, কামরুল হাসান, ছদাহার ওসমান গনী, মোহাম্মদ রাশেদ, আবছার, এওঁচিয়ার সোলাইমান বাদশাহ, শামসুল হক, পশ্চিম ঢেমশার নূর আলী, আবদুল মান্নান ও নলুয়া এলাকার দিদারুল আলম, মোহাম্মদ এনাম, মোহাম্মদ খোরশেদসহ আরো অনেকে জানান, তাদের জমির পাশের অনেক জমির মালিক মাটি বিক্রি করে দিয়েছে। মাটি ব্যবসায়ীরা জমি থেকে ১০-১৫ ফুট ও অনেক ক্ষেত্রে ২০-২৫ ফুট পর্যন্ত গভীর করে মাটি কাটার ফলে তাদের জমিতে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। চাষাবাদও করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কেটে নেয়ার ফলে আবাদি জমির উর্বরাশক্তি দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফসল উৎপাদনের জন্য মাটির যে গুণাগুণ থাকা দরকার তার সবটুকুই থাকে ওপরের অংশে। আর একবার টপ সয়েল কেটে নিলে তা পূরণ হতে সময় লাগে অনেক বছর।

বৃষ্টিতে ভোগান্তিঃ ইটভাটার মাটিতে মহাসড়কে দুর্যোগ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক বন্ধ ছিল চার ঘণ্টা, সাতকানিয়ায় ৪ কিমি যানজট

ইটভাটার জন্য মাটি বহনকারী ট্রাক থেকে মাটি পড়ে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশে প্রলেপ তৈরি হয়েছে।গত ২ মার্চ মঙ্গলবার বৃষ্টি পড়ার সাথে সাথে সড়কে বিটুমিনের উপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা এসব মাটিতে পুরো সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায়। কাদাযুক্ত মাটিতে চলাচল করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি সড়কের উপর ঘুরে যায়। কিছু যানবাহন সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে ফুটপাতে আটকা পড়ে।

মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশের মৌলভীর দোকান থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত এভাবে পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ৪ ঘণ্টা যান চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। এর মধ্যে ধীর গতিতে ঝুঁকি নিয়ে কয়েকটি গাড়ি পার হয়েছে। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সড়কের দুই পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে করে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। রোদে সড়ক কিছুটা শুকিয়ে যাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এলাকাবাসী জানান, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশের মৌলভীর দোকান থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত এলাকার দুই পাশে থাকা বিলের আমন ধান কাটার পর ইটভাটার মাটি কাটা শুরু হয়। মাটি ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জমির মালিকদের জিম্মি করে নামেমাত্র টাকার বিনিময়ে স্কেভেটর দিয়ে ২০–৩০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। মৌলভীর দোকান থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত এলাকায় গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোতে ট্রাকে করে এসব মাটি নেওয়া হয়। আবাদি জমির উপরের অংশের মাটি শুকনো হলেও নিচের মাটি ভেজা ও নরম। অনেক সময় পানিযুক্ত নরম মাটি স্কেভেটর দিয়ে ট্রাকে তোলা হয়। মাটিভর্তি এসব ট্রাক চলাচলের সময় সড়কের উপর নরম মাটি ও ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ে। সড়কে পড়া মাটির উপর দিয়ে গাড়ি চলতে চলতে মাটিগুলো বিটুমিনের উপর লেগে যায়।

এভাবে গত কয়েক মাস ধরে দিন–রাত সমানতালে নরম ও কাদাযুক্ত মাটির গাড়ি চলতে থাকে। মাটিভর্তি ট্রাক চলতে চলতে সড়কের সাতকানিয়া অংশের মৌলভীর দোকান থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত এলাকায় সড়কের বিটুমিনের উপর কয়েক ইঞ্চি উঁচু মাটির প্রলেপ পড়ে যায়। অনেক স্থানে এসব মাটির ফলে সড়কের বিটুমিন দেখা যায় না। মাটির প্রলেপের উপর গতকাল সকালে বৃষ্টি পড়ার সাথে সাথে পুরো সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায়। সড়কটি মাত্রাতিরিক্ত পিচ্ছিল হওয়ায় আতংকিত হয়ে চালকরা গাড়ি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন। এসময় সড়কের দুই পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে দেশি–বিদেশি পর্যটকসহ যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে ৪ ঘণ্টা কাটাতে হয়েছে।

মাত্র পাঁচ কিলোমিটারের এই পথ পাড়ি দিতে কোনো কোনো যানবাহনের এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। তারপরও বেশ কয়েকটি বাস, ট্রাক, কার, মাইক্রো ও মোটরবাইক গতি হারিয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে বেকায়দায় পড়তে হয় মোটরবাইক আরোহীদের। কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায়। তবে এসব যানের গতি কম থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ, সাতকানিয়া থানা পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও ইটভাটার শ্রমিকরা মিলে বেলচা ও কোদাল দিয়ে সড়ক থেকে কিছু কাদামাটি সরিয়ে নেয়। কিছু কিছু এলাকায় পিচ্ছিল সড়কের উপর ইটের গুঁড়ো ও বালি দিয়ে যান চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করে। বেলা ১১টার দিকে ঝুঁকি নিয়ে ধীরগতিতে কয়েকটি গাড়ি পিচ্ছিল সড়ক পার হয়। রোদে সড়ক শুকানোর পর দুপুর ১২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর মধ্যে স্থানীয় লোকজন এবং যাত্রীদের অনেকে হেঁটে মৌলভীর দোকান থেকে কেরানীহাট চলে যান।

সাতকানিয়ার জনার কেঁওচিয়া এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, সকালে চট্টগ্রাম শহর থেকে বাড়িতে আসছিলাম। মহাসড়কের দেওয়ানহাট এলাকায় যানজটে পড়ি। দীর্ঘ যানজট দেখে পায়ে হেঁটে সাতকানিয়ার মৌলভীর দোকান এলাকায় আসি। লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম বৃষ্টিতে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরপর কেরানীহাটের উদ্দেশ্যে আবার হাঁটা শুরু করলাম। পাঠানীপুল এলাকায় এসে দেখি, সড়কের উপর কয়েক ইঞ্চি উঁচু কাদাযুক্ত মাটি। সড়কটি এত বেশি পিচ্ছিল হয়ে গেছে, গাড়ি তো দূরের কথা, পায়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত হেঁটে কেরানীহাট যেতে হয়েছে। তিনি জানান, যাদের কারণে সড়কের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় সরবরাহ করার জন্য খোলা ট্রাকে পরিবহনের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকক্ষণ যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ এবং স্থানীয় লোকজন সড়ক থেকে বেলচা দিয়ে কাদামাটি সরিয়ে নিয়ে বালি ও ইটের গুঁড়ো দেওয়ার পর যান চলাচল শুরু হয়। তারপরও গাড়িগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হয়েছে। দুপুরের দিকে রোদে সড়ক শুকিয়ে গেলে পুরোদমে যান চলাচল শুরু হয়। তিনি বলেন, মহাসড়কে মাটি পরিবহনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা না হলে এ ধরনের অবস্থা বারবার সৃষ্টি হবে।

দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তোফায়েল মিয়া জানান, মাটিভর্তি ট্রাকগুলো সড়কের বেহাল অবস্থা করে ফেলছে। দেখলে মনে হবে সড়কের বিটুমিনের উপর মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতির ফলে সড়কটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। সড়কের বিটুমিনের উপর লেগে থাকা মাটিতে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার পর পিচ্ছিল হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। এ বিষয়ে আমরা আরো আগে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে অবগত করেছি। কিন্তু তারাও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সড়ক ও জনপথ বিভাগে সড়ক পাহারা দেওয়ার মতো জনবল নেই। এরপরও আগামীতে মাটিভর্তি এসব ট্রাক চলাচল বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না দেখব।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ার ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং যানজট সৃষ্টির বিষয়টি জানার পর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ ও সাতকানিয়া থানা পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে বলা হয়েছে। একই সাথে সড়কের কাদাযুক্ত মাটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য এবং যান চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার জন্য ইটভাটার মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী তারা কিছু কাদা সরানোর ব্যবস্থা করেছে। তবে আগামীতে যাতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সেই বিষয়ে ইটভাটার মালিকদের সাথে কথা বলব।