চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮

সাতকানিয়ায় অর্ধশত ইটভাটা, কয়টির ছাড়পত্র আছে জানেনা পরিবেশ অধিদপ্তর!

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-০৫ ১৬:৫৫:২৭ || আপডেট: ২০১৮-০৪-০৭ ১২:৩৭:৫৭

সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক 

বনাঞ্চল, কৃষি জমি আর জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গড়ে উঠছে একের পর এক ইটভাটা। ৫৭টি ইটভাটার মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি আছে কয়টির জানেনা পরিবেশ অধিদপ্তর।  এসব ইটভাটার দখলে-দূষণে নিরুপায় সাধারণ মানুষ আর পরিবেশের ক্ষতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কোমলমতি শিশু-কিশোররা। উপজেলায় ফসলি জমির টপসয়েল কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়। প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে ওপরের অংশ কেটে ফেলায় জমির উর্বরশক্তি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইট তৈরির মূল কাঁচামাল বা মাটি সংগ্রহে উজাড় করা হচ্ছে কৃষিজমি আর বনাঞ্চল। ফলে ক’বছরের ব্যবধানেই বদলে গেছে পার্বত্য এ জনপদের রূপ-প্রকৃতি। এমনকি ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যেক এলাকা এক কিলোমিটার দূরত্বে ইটভাটা স্থাপনের নিয়ম থাকলেও তার কোনো তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ইট-ভাটা। নিষিদ্ধ প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ব্যবহার ছাড়াও এসব ইট-ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চলের কাঠ। ফসলি জমিতে তৈরি করা বেশিরভাগ ইট-ভাটার নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ফসল উৎপাদন, বাড়ছে মানুষের সাস্থ্যঝুঁকিও।

সাতকানিয়ার বাসিন্দা মো. কামাল সিটিজি টাইমসকে বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে সাতকানিয়ার মতো এতগুলো ইটবাটা অন্য কোন উপজেলায় নাই। যার যেমন ইচ্ছে ইটবাটা তৈরী করে টাকার কড়ি করছে। এদিকে আমরা সাধারণ জনগণ ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন। কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু সালেহ শাহ জানিয়েছেন, ইটভাটার জন্য সাতকানিয়ার ফসলি জমি থেকে প্রত্যেক বছর মাটি খননের মহোৎসব চলে। মাটি এমক ভাবে কাটা যাতে ফসল হবে তো দুরের কথা সেখানে সারা বছর পানিতে ডুবো থাকে।

 ইটভাটার অনুমতি প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের ইন্সপেক্টর মাইদুল ইসলাম সিটিজি টাইমসকে, সাতকানিয়ার ২০- ৩০ ইটভাটার ছাড়পত্র আছে। দ্বিতীয় আবার প্রশ্ন করা হলে বলেন ১৫-১৬ টির আছে। সঠিক পরিসংখ্যান জানতে চাইলে বলে অফিসে এসে জেনে নিন।

ইটভাটার ছাড়পত্রের সঠিক পরিসংখ্যান নেই সাতকানিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলমের কাছে।

তিনি সিটিজি টাইমসকে বলেন, অনেক ইটভাটার ছাড়পত্র আছে।

ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটাগুলো কিভাবে চলে জানতে চাইলে এ পরিবেশ কর্মকর্তা বলেন, হাইকোর্টে রিট পিটিশন নিয়ে এসব ইটভাটা কাজ করছে। তবে রিট পিটিশন শেষ হলে আর চালাতে পারবে না।

সাতকানিয়া উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা জানান, ইটভাটা বিভিন্ন অনিয়ম আর সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগের তদন্ত চলছে। ইট-ভাটা, সঙ্গে পরিবেশের এমন দখল-দূষণ বেড়ে চললে কয়েক বছরেই এ অঞ্চলে ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনকহারে কমে যাওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যঝুকি ও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ।